ফাইল ছবি (সংগৃহীত)
ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সর্বোচ্চ নেতা বা আয়াতুল্লাহ চূড়ান্ত করা হয়ে গেছে, এখন কেবল ঘোষণা বাকি। এমনটাই জানিয়েছেন ইরানের তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক জোহরা খারাজমি। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
জোহরা খারাজমি ইরানের ‘অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টসের’ আটজন সদস্য পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচনের প্রক্রিয়া বয়কট করেছেন বলে যে খবর ছড়িয়েছে, সেটিকে ‘গুজব’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। খারাজমি ইঙ্গিত দিয়েছেন, একজন সর্বোচ্চ নেতা হয়তো ইতিমধ্যে নির্বাচিত হয়ে আছেন, কিন্তু তার নাম এখনো জনসমক্ষে ঘোষণা করা হয়নি।
তেহরানে আল-জাজিরাকে খারাজমি বলেন, পরবর্তী নেতার জীবন রক্ষা করা অত্যন্ত যুক্তিসংগত...এটি একটি অত্যন্ত যৌক্তিক নিরাপত্তা প্রটোকল।
ইরানি কুর্দি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো গত কয়েক দিনে ইরানের পশ্চিমাঞ্চলে নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর কীভাবে ও কখন হামলা চালানো যায়, সে বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পরামর্শ করে থাকতে পারে বলে যে খবর এসেছে, তার বিপরীতে ওই অধ্যাপক বলেন—কুর্দিরা ইরানের সমর্থনেই আছে।
ইরানি বাহিনী গতকাল বৃহস্পতিবার (৫ই মার্চ) প্রতিবেশী ইরাকের আধা স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলে কুর্দি গোষ্ঠীগুলোকে লক্ষ্য করে একটি অভিযান শুরু করেছে।
খারাজমি বলেন, ‘আমি মনে করি, এটি...রাজনৈতিক প্রচারণা...ইরানিরা তাদের দমন করবে এবং আমি মনে করি না তারা কার্যকর কিছু করতে পারবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমি তেহরানে যা দেখছি, তা হলো উচ্চ সামাজিক সংহতি ও ইসলামি প্রজাতন্ত্রের প্রতি সমর্থন।’
এর আগে, ইরানে মার্কিন-ইসরায়েলি আগ্রাসনের প্রথম দিনেই হামলায় ইরানের সর্বশেষ সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হন। গত শনিবার ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলায় আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর তার জায়গায় সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হয়।
আয়াতুল্লাহ খামেনি তার কোনো উত্তরসূরি মনোনীত করে যাননি। ফলে ইরানের সংবিধানের ১১১ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী একটি ‘অন্তর্বর্তীকালীন নেতৃত্ব পরিষদ’ গঠন করা হয়েছে। নতুন নেতা নির্বাচিত হওয়ার আগপর্যন্ত এই পরিষদই সর্বোচ্চ নেতার দায়িত্ব পালন করবে।
এই পরিষদের সদস্যরা হলেন—ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, বিচার বিভাগের প্রধান গোলাম হোসেন মহসেনি ইজেই ও গার্ডিয়ান কাউন্সিলের ফকিহ (আইনবিদ) শেখ আলিরেজা আরাফি।
ইরানের রাজনৈতিক ও ধর্মীয় ব্যবস্থায় সর্বোচ্চ নেতার (বলি-ই-ফকিহ) পদটি সবচেয়ে শক্তিশালী। রাষ্ট্রের নির্বাহী, আইনসভা ও বিচার বিভাগের ওপর তার একক কর্তৃত্ব রয়েছে। ১৯৮৯ সালের জুনে ইসলামি প্রজাতন্ত্রের প্রতিষ্ঠাতা আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির মৃত্যুর পর আলী খামেনি দায়িত্ব নিয়েছিলেন এবং প্রায় ৩৬ বছর ইরান শাসন করেছেন।
খবরটি শেয়ার করুন