শনিবার, ৭ই মার্চ ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
২৩শে ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ

*** বঙ্গবন্ধুর ভাষণ ইতিহাসের অবিচ্ছেদ্য অংশ: মাহফুজ আনাম *** এবারও ভিন্ন আবহে এল ঐতিহাসিক ৭ই মার্চ *** বিএনপিকে ‘খুশি’ রেখে মেয়াদ পূর্ণ করতে চান রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন *** বিএনপি সংসদ সদস্যদের জন্য প্রশিক্ষণ কর্মশালা উদ্বোধন প্রধানমন্ত্রীর *** এশিয়াজুড়ে তীব্র জ্বালানি উদ্বেগ *** ইরানে হামলার প্রথম ১০০ ঘণ্টায় যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় ৩৭০ কোটি ডলার *** জাতিসংঘে বাংলাদেশের প্রার্থীকে কূটনীতিকদের সমর্থন দিতে আহবান প্রধানমন্ত্রীর *** ‘অবৈধ গণভোট আয়োজনের জন্য বিচারের মুখোমুখি হতে পারেন সিইসি’ *** ‘ড. ইউনূসের আমলের সব কিছুর তাকে দায়ী করা যাবে না কেন’ *** ইরান যুদ্ধের খরচ নিয়ে উদ্বেগ খোদ যুক্তরাষ্ট্রে

‘বিদায়, বেইলি রোড’

নিজস্ব প্রতিবেদক

🕒 প্রকাশ: ০১:১৫ পূর্বাহ্ন, ৭ই মার্চ ২০২৬

#

ছবি: সংগৃহীত

সাবেক প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিবের দায়িত্ব পালনের সুবাদে বেইলি রোডের 'মিনিস্টার্স অ্যাপার্টমেন্ট'-এ বসবাসের স্মৃতি রোমন্থন করে ফেসবুকে এক আবেগঘন স্ট্যাটাস দিয়েছেন শফিকুল আলম।

শুক্রবার (৬ই মার্চ) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে বেইলি রোডের 'মিনিস্টার্স অ্যাপার্টমেন্ট'-এর স্মৃতি রোমান্থন করে একটি স্ট্যাটাস দেন তিনি।

স্ট্যাটাসে তিনি লেখেন, বিদায়, বেইলি রোড। তুমি আমার জীবনের এক রোমাঞ্চকর যাত্রার সাক্ষী হয়ে আছো। বেইলি রোডের 'মিনিস্টার্স অ্যাপার্টমেন্ট' ভবনের পঞ্চম তলায় থাকতাম আমি। যদিও তখন সেখানে কোনো মন্ত্রীরা থাকতেন না। ওই ভবনে থাকতেন কেবল বিচারপতি ও নির্বাচন কমিশনাররা। চারপাশটা খুবই শান্ত ও স্থির মনে হতো। সেখানে সকালটা শুরু হতো পাখিদের কিচিরমিচিরে। আমার ফ্ল্যাট থেকে কয়েক কদম দূরেই ‘যমুনা’, যেখানে ঘটেছে অসংখ্য নাটকীয় ঘটনা।

তিনি উল্লেখ করেন, রাজধানীর শাহীনবাগের নিজ বাসা ছেড়ে বেইলি রোডে 'মিনিস্টার্স অ্যাপার্টমেন্ট'-এ বসবাসের মূল কারণ ছিল যমুনা’র কাছে থাকা। কারণ, যমুনা’য় অবস্থান করতেন অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। অন্তর্বর্তী সরকারের আঠারো মাসের অধিকাংশ সময় তিনি সেখান থেকেই দাপ্তরিক কাজ পরিচালনা করেছেন। 

তিনি লেখেন, বহুবার এমন হয়েছে- আমাকে রাতের খাবার ফেলে রেখে যমুনায় ছুটে যেতে হয়েছে- সংকট ব্যবস্থাপনা কাছ থেকে দেখার জন্য এবং সেই প্রচেষ্টার কথা মানুষকে জানানোর জন্য।

স্ট্যাটাসে সাবেক প্রেস সচিব বলেন, 'আমার বেইলি রোডের ফ্ল্যাট থেকে কয়েক গজ দূরেই ছিল ফরেন সার্ভিস একাডেমি। সেখানে আমি প্রায় ৩০০টি সংবাদ সম্মেলন করেছি এবং ঐকমত্য কমিশন ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মধ্যে অনুষ্ঠিত সংলাপে অংশ নিয়েছি। এই জায়গার শান্ত পরিবেশ অনেক সময়ই ভেঙে গেছে উত্তাল বিক্ষোভে। তখন মনে হয়েছে, যেন আমাদের সবার জন্য এটাই শেষ। তবু কোনো এক রহস্যময় মোড়ে পরিস্থিতি বদলে যেত, আর বেইলি রোড আবার ফিরে পেত তার শান্ত সৌন্দর্য।'

শফিকুল আলম বলেন, আমার একমাত্র আক্ষেপ যে গত তেরো মাসে আমি রমনা পার্কে যথেষ্ট সময় নিয়ে যেতে পারিনি। এ ছাড়া অন্য মানুষদের মতো রমনায় সকালবেলার হাঁটাহাঁটি করা, কিংবা হাসি-আড্ডায় মেতে থাকা দলগুলোর সঙ্গেও যোগ দিতে পারিনি আমি। তবু আমি আর আমার স্ত্রী প্রায় প্রতিদিনই রাস্তার ধারে সকালে বসা অস্থায়ী বাজার থেকে নিত্যপ্রয়োজনীয় কেনাকাটা করতাম। যদিও সম্প্রতি কর্তৃপক্ষ সেই ছোট ছোট দোকানগুলো সরিয়ে দিয়েছে।

সবশেষে তিনি লেখেন, ‘বিদায়, বেইলি রোড। তুমি উপর থেকে শান্ত ছিলে। কিন্তু ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে ছিলে।’

শফিকুল আলম

সুখবর এর নিউজ পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

খবরটি শেয়ার করুন

Footer Up 970x250