বৃহস্পতিবার, ২রা এপ্রিল ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১৮ই চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ

*** ‘জনগণকে সঙ্গে নিয়ে’ রাজপথে আন্দোলনের ঘোষণা জামায়াত আমিরের *** বাসস সম্পাদক মাহবুব মোর্শেদের নিয়োগ বাতিল *** মার্চে প্রবাসী আয় এসেছে রেকর্ড ৩.৭৫ বিলিয়ন ডলার *** শেখ হাসিনার রায় বাতিলের দাবি জানিয়ে ট্রাইব্যুনালে যুক্তরাজ্যের ল ফার্মের চিঠি *** শিক্ষামন্ত্রীর এই উদ্ভট চিন্তা কেন? *** লুবাবার বিয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রত্যেকে আইন অমান্য করেছে: নারীপক্ষ *** যুদ্ধের প্রভাবে জ্বালানি-শূন্য প্রথম দেশ হওয়ার ঝুঁকিতে বাংলাদেশ *** যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের বোঝা উচিত, বিশ্বে এখন আর তাদের আধিপত্য নেই: ইরানের রাষ্ট্রদূত *** রাজনৈতিকভাবে হয়রানির উদ্দেশ্যে করা প্রায় ২৪ হাজার মামলা প্রত্যাহার হয়েছে: আইনমন্ত্রী *** তারেক রহমান গ্রেপ্তার হওয়ার আগে যে পরামর্শ দিয়েছিলেন মাহমুদুর রহমান

জামায়াতের একাত্তরের ভূমিকার বিরোধিতা করার নৈতিক অবস্থান আ. লীগ, বিএনপির নেই

জেবিন শান্তনু

🕒 প্রকাশ: ০৮:০৮ অপরাহ্ন, ১১ই সেপ্টেম্বর ২০২৫

#

ছবি: সংগৃহীত

জামায়াতে ইসলামীর ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় ভূমিকার ২০২৫ সালে এসে বিরোধিতা করার নৈতিক অবস্থান আওয়ামী লীগ ও বিএনপির আছে কী না, এমন প্রশ্ন তুলেছেন বিশিষ্ট লেখক ও গবেষক মহিউদ্দিন আহমদ। আওয়ামী লীগ ও বিএনপির হাত ধরে দেশের রাজনীতিতে জামায়াতের পুনর্বাসিত হওয়ার প্রেক্ষাপট উল্লেখ করে তিনি বলেছেন, দলটির একাত্তরের ভূমিকা নিয়ে জনগণের মধ্যে অভিযোগ ও ক্ষোভ থাকলেও তাদের বিরোধিতা করার নৈতিক অবস্থান আওয়ামী লীগ ও বিএনপির নেই।

তার মতে, আজকের তরুণ প্রজন্ম একাত্তর দেখেননি, পঁচাত্তর দেখেননি, নব্বই দেখেননি। তারা দেখেছেন শেখ হাসিনার শাসন আর খালেদা জিয়ার বিরোধিতা। এখান থেকেই তরুণদের মধ্যে একধরনের মন তৈরি হয়ে থাকতে পারে যে, তারা প্রচলিত ধারার রাজনীতি আর রাজনীতির বিরোধিতাকে (জামায়াতের একাত্তরের ভূমিকার জন্য বড় দুই দলের সুবিধাজনক সময়ে বিরোধিতা করা) সমর্থন করেন না। ‘কাল্ট ওরশিপ’ বা ব্যক্তিপূজার বড়শি দিয়ে তরুণ মন গেঁথে ফেলার দিন সম্ভবত শেষ বলেও মহিউদ্দিন আহমদের অভিমত।

তিনি দাবি করেন, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের ঘেরাটোপে আটকে থাকা চিন্তার প্রভাব তরুণদের মধ্যে ক্রমে বিলীয়মান। সদ্য অনুষ্ঠিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে জামায়াতের ছাত্রসংগঠন ইসলামী ছাত্রশিবিরের বিশাল ভোটের ব্যবধানে জয়ের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ভোটারদের মধ্যে বেশির ভাগই তরুণ। কে অতীতে কী করেছেন, তা নিয়ে জাবর কেটে তাদের জীবন চলবে না। তারা কী চান, রাজনৈতিক দলগুলোকে সেটি বিবেচনায় নিতে হবে। মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করার কারণে এ দেশে জামায়াত, বা কোনো দল নিষিদ্ধ হয়নি।

'ডাকসু নির্বাচন, ফলাফল ও তরুণ মনের চাওয়া' শিরোনামে প্রকাশিত এক উপসম্পাদকীয়তে মহিউদ্দিন আহমদ এসব কথা বলেন। তার এই লেখা আজ বৃহস্পতিবার (১১ই সেপ্টেম্বর) দৈনিক প্রথম আলোর ছাপা সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে। এতে তিনি সাবেক দুই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও খালেদা জিয়াকে 'গণতন্ত্রের দুই মানসকন্যা' বলে অভিহিত করেন। তার অভিযোগ, 'আমরা দেখলাম, দলীয় সরকারের অধীন জিয়া-এরশাদ জমানায় যতবার ডাকসু নির্বাচন হয়েছে, কোনোবারই সরকারি দলের অঙ্গসংগঠন জয় পায়নি। একপর্যায়ে গণতন্ত্রের দুই মানসকন্যা গদিনশিন হয়ে ডাকসু নির্বাচনই হতে দেননি।'

তবে তার এ তথ্য পুরোপুরি সঠিক নয় বলেই মনে করেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা। কারণ, দীর্ঘ ২৮ বছর পর ২০১৯ সালে শেখ হাসিনার সরকারের আমলে অনুষ্ঠিত হয়েছিল ডাকসুর নির্বাচন। এতে ভিপি হিসেবে বিজয়ী হন নুরুল হক নুর। প্রথম আলোর আজকের উপসম্পাদকীয়তে মহিউদ্দিন আহমদ আওয়ামী লীগ ও বিএনপিকে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের বড় দুটি রাজনৈতিক দল উল্লেখ করে বলেন, 'এ দেশে রাজনৈতিক প্রপাগান্ডিস্টরা যা-ই প্রচার করুক না কেন, আমরা জানি, মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের বড় দুটি দল হলো আওয়ামী লীগ ও বিএনপি।'

মহিউদ্দিন আহমদ লেখেন, 'সত্তর দশকের শেষের দিকে জামায়াতে ইসলামীর পুনরুত্থান ঘটে। এরশাদের জমানায় আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জামায়াত আর বাম দলগুলো যুগপৎ আন্দোলন করে। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীন নির্বাচনের দাবি প্রথম করেছিল জামায়াত। সেই দাবি সবাই লুফে নেয়।'

তিনি বলেন, '১৯৮৬ সালের সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সঙ্গে নির্বাচনী রেসে অংশ নিয়ে জামায়াত প্রথমবারের মতো নিজস্ব প্রতীক নিয়ে ১০টি আসনে জয় পেয়ে সংসদে যায়। ফলে দলটি রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক বৈধতা পেয়ে যায়। জামায়াতের সদস্যরা শেখ হাসিনাকে নেতা মেনে সংসদে বিরোধী দলের বেঞ্চে বসেন। এভাবে আওয়ামী লীগের হাত ধরে জামায়াতের পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার শুরু।'

তিনি লেখেন, '১৯৯১ সালের সংসদ নির্বাচনে বিএনপির সঙ্গে সমঝোতা করে জামায়াত পায় ১৭টি আসন। তাদের লিখিত সমর্থন নিয়ে বিএনপি সরকার গঠন করে। পরে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে জামায়াত বিএনপির বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের সঙ্গে আন্দোলন গড়ে তোলে।'

মহিউদ্দিন আহমদ বলেন, '২০০১ সালে বিএনপির সঙ্গে জোট বেঁধে জামায়াত নির্বাচন করে সরকারের অংশ হয়। সেই সঙ্গে সমাপ্ত হয় দলটির পুনর্বাসনপ্রক্রিয়া। ২০২৫ সালে এসে জামায়াতের একাত্তরের ভূমিকা নিয়ে জনগণের মধ্যে অভিযোগ ও ক্ষোভ থাকলেও তাদের বিরোধিতা করার নৈতিক অবস্থান আওয়ামী লীগ ও বিএনপির নেই।'

মহিউদ্দিন আহমদ

সুখবর এর নিউজ পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

খবরটি শেয়ার করুন

Footer Up 970x250