ছবি: সংগৃহীত
ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস ও ইসরায়েল বন্দিবিনিমিয় এবং যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হওয়ার পর থেকে উদ্যাপন শুরু হয়েছে। ইসরায়েলিরা বন্দী ফিরে পাবে, এই আনন্দে উদ্যাপন করছেন। অন্যদিকে হামলা বন্ধের আনন্দ উদ্যাপন করছেন গাজাবাসী। তবে তাদের এই উদ্যাপনের মধ্যে ছড়িয়ে রয়েছে বিষাদ। খবর গার্ডিয়ানের।
এএফপি জানায়, গাজা যুদ্ধে দুই বছরে স্বজন হারিয়েছেন অনেকেই। বিষাদ ছুঁয়েছে তাদের। এমনই একজন ১৬ বছরের সন্তান হারানো বাবা উম্ম হাসান।
তিনি বলেন, ‘শুক্রবার সকালে যখন আমরা হামাস ও ইসরায়েল যুদ্ধবিরতি হওয়ার খবর শুনি, এটা একই সঙ্গে আনন্দ এবং বেদনার অনুভূতি বয়ে আনে। এই আনন্দে তরুণ-বৃদ্ধ সবাই উচ্ছ্বাস প্রকাশ করছিল। যারা স্বজন হারিয়েছেন, তারা নিহত ব্যক্তিদের স্মরণ করছিলেন। অনেকেই এটা ভেবে মূর্ছা যাচ্ছিলেন, হারানো স্বজনকে ছাড়া কীভাবে বাড়ি ফিরবেন।’
তিনি আরও বলেন, যারা স্বজন হারিয়েছেন তারা ব্যাপকভাবে বেদনাহত হয়েছেন এবং এটা ভেবে হতবিহ্বল হচ্ছিলেন, কীভাবে তারা বাড়ি ফিরবেন।'
গাজা শান্তিচুক্তি ঘোষণা করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইসরায়েলের মন্ত্রিসভার নিরাপত্তাবিষয়ক কমিটি এর অনুমোদনও দিয়েছে। এই চুক্তি অনুযায়ী, জীবিত ২০ ইসরায়েলি জিম্মিকে মুক্তি দেবে হামাস। এ ছাড়া জিম্মিদের মধ্যে যারা মারা গেছেন, তাদের লাশ ফেরত দেবে হামাস। এর বিনিময়ে ইসরায়েলের কারাগারে যাবজ্জীবন জেল খাটতে থাকা ২৫০ ফিলিস্তিনিকে ফেরত দেওয়া হবে।
এ ছাড়া যুদ্ধ চলাকালে আটক ১ হাজার ৭০০ জনকে ফেরত দেবে ইসরায়েল। গাজা যুদ্ধের ইতি টানতে ট্রাম্প যে ২০টি ধাপ তুলে ধরেছেন, এর প্রথমে বন্দিবিনিময় হবে। এর পরের ধাপগুলো বাস্তবায়নে আবারও আলোচনা হবে।
২০২৩ সালের ৭ই অক্টোবরে হঠাৎই ইসরায়েলে হামলা করে হামাস। ওই হামলায় অন্তত ১ হাজার ২০০ ইসরায়েলি মারা যান। এ ছাড়া ২৫১ জন ইসরায়েলিকে বন্দী করে হামাস। সেই হামলার জবাব ও জিম্মিদের ফিরিয়ে আনতে গাজায় ৭ই অক্টোবরই হামলা শুরু করে ইসরায়েলি বাহিনী। এরপর থেকে সেই আগ্রাসন চলছেই। গত দুই বছরে গাজায় প্রায় ৬৮ হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। নিহত ব্যক্তিদের অধিকাংশ নারী ও শিশু।
এদিকে হামাস ও ইসরায়েলের যুদ্ধবিরতিতে গাজাবাসীর মতো আনন্দ-উল্লাসে মেতে উঠেছেন ইসরায়েলিরা। যুদ্ধবিরতির চুক্তির খবর ছড়িয়ে পড়ার পর তেল আবিবে রাস্তায় নেমে আসেন অনেকে। ফিলিস্তিনিদের মতো তাদেরও নাচতে দেখা যায়। তবে অনেক ইসরায়েলির মধ্যেও বাজছে বিষাদের সুর। কারণ অনেকেই স্বজন হারিয়েছেন। তাই এ যুদ্ধের অবসান তারাও চাইছেন।
রয়টার্স ও আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, ফিলিস্তিনের গাজায় টানা দুই বছর ধরে ইসরায়েলের নৃশংসতার পর অবশেষে যুদ্ধবিরতি শুরু হয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী, উপত্যকাটির নির্দিষ্ট এলাকা পর্যন্ত সেনা সরিয়ে নিচ্ছে ইসরায়েলি বাহিনী। যুদ্ধবিরতির খবরে বিধ্বস্ত বাড়িঘরে ফিরতে শুরু করেছেন বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিরা।
মিসরের পর্যটন শহর শারম আল শেখে গত বুধবার হামাস ও ইসরায়েল এই যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয়। দীর্ঘ বৈঠকের শেষে গতকাল শুক্রবার ভোরে চুক্তিটির অনুমোদন দেয় ইসরায়েলের মন্ত্রিসভা। পরে ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী জানায়, স্থানীয় সময় শুক্রবার (১০ই অক্টোবর) দুপুর (বাংলাদেশ সময় বেলা তিনটা) থেকে গাজায় যুদ্ধবিরতি আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে।
এদিকে জিম্মিদের ফেরত দেওয়ার পর যে ১ হাজার ৯৫০ জন ফিলিস্তিনি বন্দীকে মুক্তি দেওয়া হবে, তাদের একটি তালিকা প্রকাশ করেছে ইসরায়েল। তাদের মধ্যে ২৫০ জন যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের সাজাপ্রাপ্ত। সিএনএনের খবরে বলা হয়েছে, এই ২৫০ জনের মধ্যে ১৫৯ জন ফিলিস্তিন কর্তৃপক্ষের ক্ষমতাসীন দল ফাতাহর, ৬৩ জন হামাসের, ১৬ জন ইসলামিক জিহাদের এবং ১২ জন পিএফএলপির সদস্য।
খবরটি শেয়ার করুন