বৃহস্পতিবার, ২৯শে জানুয়ারী ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১৬ই মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ

*** নির্বাচন সামনে রেখে সংবাদপত্রের স্বাধীনতার সুরক্ষার অঙ্গীকার চায় সিপিজে *** টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ৯০ ক্রিকেটার ‘চরম ঝুঁকিপূর্ণ’ *** ‘তারেক রহমান মনোনীত ৩০০ গডফাদারকে না বলুন, বাংলাদেশ মুক্তি পাবে’ *** সরকারি কর্মচারীদের গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’–এর পক্ষে প্রচার দণ্ডনীয়: ইসি *** যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের টানাপোড়েনে মধ্যস্থতা করতে চায় তুরস্ক *** ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডকে ‘সন্ত্রাসী’ সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করছে ইইউ *** হাজিরা পরোয়ানাকে ‘জামিননামা ভেবে’ হত্যা মামলার ৩ আসামিকে ছেড়ে দিল কারা কর্তৃপক্ষ *** আওয়ামী ভোটব্যাংক: জয়-পরাজয়ের অদৃশ্য সমীকরণ *** ‘সজীব ওয়াজেদ জয়ের যুক্তি অযৌক্তিক নয়’ *** শিক্ষকদের বাড়তি বেতনসুবিধার নতুন প্রজ্ঞাপন জারি

ইরানে ‘রেজিম চেঞ্জে’র পরিস্থিতি তৈরিতে সুপরিকল্পিত হামলা চালাতে পারেন ট্রাম্প

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

🕒 প্রকাশ: ০৫:১৩ অপরাহ্ন, ২৯শে জানুয়ারী ২০২৬

#

ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন বিকল্প পদক্ষেপ বিবেচনা করছেন। এর মধ্যে রয়েছে ইরানের নিরাপত্তা বাহিনী ও শীর্ষ নেতাদের লক্ষ্য করে নির্দিষ্ট সামরিক হামলা, যাতে দেশটির ভেতরে বিক্ষোভকারীরা উৎসাহ পায় এবং ‘রেজিম চেঞ্জ’ করা যায়। বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে এমনটাই জানিয়েছেন একাধিক সূত্র।

একই সময়ে ইসরায়েলি ও আরব কর্মকর্তারা বলেছেন, শুধু আকাশপথে হামলা চালিয়ে ইরানের ধর্মীয় শাসনব্যবস্থাকে উৎখাত করা সম্ভব নয়। আলোচনার সঙ্গে পরিচিত দুটি মার্কিন সূত্র জানিয়েছে, চলতি মাসের শুরুতে দেশজুড়ে হওয়া বিক্ষোভ দমনে ইরান সরকারের কঠোর অভিযানে হাজারো মানুষ নিহত হওয়ার পর ট্রাম্প ‘রেজিম চেঞ্জ বা শাসন পরিবর্তনের’ মতো পরিস্থিতি তৈরি করতে চান।

এ লক্ষ্য অর্জনে ট্রাম্প এমন সামরিক বিকল্পগুলো খতিয়ে দেখছেন, যাতে সেই সব কমান্ডার ও প্রতিষ্ঠানকে আঘাত করা যায়, যাদের বিরুদ্ধে সহিংস দমনের দায় চাপাচ্ছে ওয়াশিংটন। এতে করে বিক্ষোভকারীরা আত্মবিশ্বাস পাবে এবং সরকারি ও নিরাপত্তা ভবন দখল করতে পারবে—এমনটাই ধারণা করা হচ্ছে।

মার্কিন সূত্রগুলোর একটি জানিয়েছে, ট্রাম্পের উপদেষ্টারা আরও বড় ধরনের হামলার বিকল্প নিয়েও আলোচনা করছেন। এই হামলার লক্ষ্য হতে পারে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি, যেগুলো মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোতে আঘাত হানতে সক্ষম, অথবা ইরানের পারমাণবিক সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম। অন্য মার্কিন সূত্রটি জানিয়েছেন, সামরিক পথে এগোবেন কি না—এ বিষয়ে ট্রাম্প এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি।

এ সপ্তাহে মধ্যপ্রাচ্যে একটি মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ও সহযোগী যুদ্ধজাহাজ পৌঁছানোর ফলে ট্রাম্পের সামরিক সক্ষমতা আরও বেড়েছে। ইরানে দমন-পীড়নের ঘটনায় হস্তক্ষেপের হুমকি তিনি আগেও একাধিকবার দিয়েছেন। চারজন আরব কর্মকর্তা, তিনজন পশ্চিমা কূটনীতিক এবং এক জ্যেষ্ঠ পশ্চিমা সূত্র, যাদের সরকারকে এসব আলোচনা সম্পর্কে অবহিত করা হয়েছে তারা জানিয়েছেন, তাদের আশঙ্কা—এ ধরনের হামলা রাস্তায় মানুষ নামানোর বদলে ইতিমধ্যে ভয়াবহ দমন-পীড়নে ধাক্কা খাওয়া আন্দোলনকে আরও দুর্বল করে দিতে পারে। ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর এটিই ছিল ইরানে সবচেয়ে রক্তক্ষয়ী দমন অভিযান।

মিডল ইস্ট ইনস্টিটিউটের ইরান প্রোগ্রামের পরিচালক অ্যালেক্স ভাটানকা বলেন, বড় আকারে সামরিক বাহিনীর বিদ্রোহ না হলে ইরানের বিক্ষোভগুলো ‘বীরত্বপূর্ণ হলেও অস্ত্রের দিক থেকে দুর্বল’ অবস্থায় রয়েছে।

গতকাল বুধবার (২৮শে জানুয়ারি) ট্রাম্প ইরানকে আলোচনায় বসার আহ্বান জানান এবং পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ে একটি চুক্তি করার কথা বলেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্র কোনো হামলা চালালে তা জুন মাসে তিনটি পারমাণবিক স্থাপনায় চালানো বোমা হামলার চেয়েও ভয়াবহ হবে। তিনি অঞ্চলটিতে অবস্থানরত মার্কিন যুদ্ধজাহাজগুলোকে ‘ইরানের দিকে যাত্রারত একটি আর্মাডা’ বলে বর্ণনা করেন।

রয়টার্সকে দেওয়া এক বক্তব্যে ইরানের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, ইরান সামরিক সংঘাতের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে, একই সঙ্গে কূটনৈতিক পথও ব্যবহার করছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র কূটনীতির বিষয়ে কোনো সদিচ্ছা দেখাচ্ছে না বলে তিনি অভিযোগ করেন। ইরান দাবি করে আসছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি বেসামরিক উদ্দেশ্যে পরিচালিত। জাতিসংঘে ইরানের মিশন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক পোস্টে জানায়, ‘পারস্পরিক সম্মান ও স্বার্থের ভিত্তিতে’ সংলাপের জন্য তারা প্রস্তুত। তবে চাপ প্রয়োগ করা হলে ইরান ‘আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে কঠোরভাবে আত্মরক্ষা করবে।’

ট্রাম্প প্রকাশ্যে বলেননি, কোনো চুক্তিতে তিনি ঠিক কী চান। তবে তাঁর প্রশাসনের আগের আলোচনার দাবির মধ্যে ছিল—ইরান যেন নিজস্বভাবে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ করে, দূরপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিতে সীমা আরোপ করে এবং মধ্যপ্রাচ্যে তাদের সশস্ত্র সহযোগী নেটওয়ার্ক সীমিত করে।

ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ পরিকল্পনা সম্পর্কে সরাসরি অবগত এক জ্যেষ্ঠ ইসরায়েলি কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেন, কেবল বিমান হামলার মাধ্যমে ইসলামি প্রজাতন্ত্রকে উৎখাত করা সম্ভব নয়—যদি সেটিই ওয়াশিংটনের লক্ষ্য হয়। তিনি বলেন, ‘যদি সত্যিই শাসন পরিবর্তন করতে চান, তাহলে স্থলবাহিনী পাঠাতে হবে।’ তার ভাষায়, এমনকি যুক্তরাষ্ট্র যদি সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকেও হত্যা করে, তাহলেও ‘তার জায়গায় নতুন নেতা এসে দাঁড়াবেন।’

ওই কর্মকর্তা বলেন, শুধু বাইরের চাপ নয়, সংগঠিত অভ্যন্তরীণ বিরোধী শক্তির সমন্বয় ছাড়া ইরানের রাজনৈতিক গতিপথ বদলানো সম্ভব নয়। তিনি আরও জানান, চলমান অস্থিরতায় ইরানের নেতৃত্ব কিছুটা দুর্বল হয়েছে, তবে গভীর অর্থনৈতিক সংকট সত্ত্বেও তারা এখনো নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছে।

একাধিক মার্কিন গোয়েন্দা প্রতিবেদনে একই ধরনের মূল্যায়ন উঠে এসেছে। প্রতিবাদের পেছনে যেসব কারণ ছিল, সেগুলো এখনো বিদ্যমান এবং সরকারকে দুর্বল করছে। তবে বড় ধরনের ভাঙন এখনো দেখা যায়নি—এমনটাই জানিয়েছেন বিষয়টি জানা দুই ব্যক্তি।

এক পশ্চিমা সূত্র বলেন, তাদের ধারণা অনুযায়ী ট্রাম্পের লক্ষ্য পুরো রেজিম উৎখাত নয়, বরং নেতৃত্বে পরিবর্তন আনা। এটি ভেনেজুয়েলার মতো পরিস্থিতির সঙ্গে তুলনীয়, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপে প্রেসিডেন্ট বদলালেও পুরো শাসনব্যবস্থা ভেঙে পড়েনি।

খামেনি প্রকাশ্যে স্বীকার করেছেন, বিক্ষোভে কয়েক হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন। তবে তিনি এই অস্থিরতার জন্য যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল এবং যাদের তিনি ‘রাষ্ট্রদ্রোহী’ বলেছেন, তাদের দায়ী করেন। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা এইচআরএএনএ জানিয়েছে, বিক্ষোভ সংশ্লিষ্ট সহিংসতায় মোট ৫ হাজার ৯৩৭ জন নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে ২১৪ জন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য। তবে সরকারি হিসাবে নিহতের সংখ্যা ৩ হাজার ১১৭। রয়টার্স এই সংখ্যাগুলো স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি।

জে.এস/

ডোনাল্ড ট্রাম্প

সুখবর এর নিউজ পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

খবরটি শেয়ার করুন

Footer Up 970x250