ছবি: সংগৃহীত
ইরানে চলমান শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ দমনে নজিরবিহীন নৃশংসতা এবং রাশিয়াকে ড্রোন সরবরাহ করে ইউক্রেন যুদ্ধে সহযোগিতার দায়ে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস বা আইআরজিসিকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। আজ বৃহস্পতিবার (২৯শে জানুয়ারি) ব্রাসেলসে ইইউ পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের এক বৈঠকে তারা এ বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছেছেন বলে জানা গেছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এর ফলে আইআরজিসি এখন থেকে আল-কায়েদা ও ইসলামিক স্টেটের (আইএস) মতো আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠনগুলোর সমপর্যায়ের বলে গণ্য হবে।
দীর্ঘদিন ধরে ফ্রান্স ও জার্মানির মতো দেশগুলো ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক পথ খোলা রাখার স্বার্থে আইআরজিসিকে সন্ত্রাসী তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করতে দ্বিধাগ্রস্ত ছিল। কিন্তু সম্প্রতি ইরানে বিক্ষোভকারীদের ওপর চালানো নির্বিচার দমন-পীড়ন ও গণহারে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার ঘটনায় ইউরোপের দেশগুলোর ধৈর্যচ্যুতি ঘটে।
ইইউর পররাষ্ট্রনীতিবিষয়ক প্রধান কাজা কালাস ব্রাসেলসে সাংবাদিকদের বলেন, ‘আপনি যদি সন্ত্রাসীদের মতো আচরণ করেন, তবে আপনাকে সন্ত্রাসী হিসেবেই গণ্য করা উচিত। আইআরজিসিকে সন্ত্রাসী তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা ইরানের নেতৃত্বের প্রতি একটি অত্যন্ত শক্তিশালী প্রতীকী বার্তা।’
স্পেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জোসে ম্যানুয়েল আলবারেস এই পদক্ষেপকে ইউরোপের ‘দায়িত্ব ও বাধ্যবাধকতা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
আইআরজিসিকে সন্ত্রাসী তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার পাশাপাশি ইইউ আরও ২১ জন ইরানি কর্মকর্তা ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করছে। এই তালিকায় ইরানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও রয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। নিষেধাজ্ঞার ফলে এই ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলোর ইউরোপে থাকা সব সম্পদ বাজেয়াপ্ত করা হবে এবং ইইউ-ভুক্ত দেশগুলোতে তাদের প্রবেশাধিকার নিষিদ্ধ থাকবে।
খবরটি শেয়ার করুন