বৃহস্পতিবার, ১২ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
৩০শে মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ

*** উৎসবমুখর পরিবেশে শেষ হলো ভোট *** ভোটগ্রহণের সময় শেষ, অপেক্ষা গণনার *** কুমিল্লায় ভোটকেন্দ্রে হঠাৎ ককটেল বিস্ফোরণ, ভোটারদের ছোটাছুটি *** বেশ কিছু জায়গায় কেন্দ্র দখলের চেষ্টা করেছেন বিএনপির সমর্থকেরা: জামায়াত আমির *** দুপুর ২টা পর্যন্ত নির্বাচনে ৪৮৬ কেন্দ্রে বিশৃঙ্খলা, ৫৯ কেন্দ্রে জালভোট *** একটি রাজনৈতিক দল বারবার অপ্রত্যাশিত ঘটনা ঘটিয়ে যাচ্ছে: তারেক রহমান *** ভোটকেন্দ্রে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা, পুকুরে নামিয়ে শাস্তি *** ঢাকা–১৪ ও ১৫ আসন: ভোট দিতে না পারার অভিযোগ কয়েকজন ভোটারের *** সারাদেশের ভোটদানের চিত্র পর্যবেক্ষণ প্রধান উপদেষ্টার *** নির্বাচন ঘিরে ভোটারদের উদ্দেশে তারেক রহমানের বিশেষ বার্তা

সৈয়দপুরে উর্দু ভাষায় দুই প্রার্থীর ভোটের প্রচার, ভিডিও ভাইরাল

নিজস্ব প্রতিবেদক

🕒 প্রকাশ: ০৩:৪৮ অপরাহ্ন, ১লা ফেব্রুয়ারি ২০২৬

#

ছবি: সংগৃহীত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে  সৈয়দপুর শহরে বইছে নির্বাচনী হাওয়া। তবে এবারের প্রচারণায় যোগ হয়েছে এক ভিন্ন মাত্রা। ভোটারদের আকৃষ্ট করতে দুই প্রার্থী বাংলার পাশাপাশি উর্দু ভাষায় মাইকিং, গান ও স্লোগান ব্যবহার করছেন।

এ ঘটনার দুটি ভিডিও ফেসবুকসহ অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভাষার মাস ফেব্রুয়ারিতে উর্দু ভাষায় নির্বাচনি প্রচারণা নিয়ে অনেক নেটিজোনের মধ্যে নানামুখী আলোচনা চলছে।

তবে প্রার্থীরা বলছেন, উর্দুতে প্রচারণার নেপথ্যে ‘ভোট মেকার’ সৈয়দপুর পৌরসভার মোট ভোটারের প্রায় অর্ধেক সংখ্যক (৬০ হাজার) উর্দুভাষী বা অবাঙালি। ২০০৮ সালে ক্যাম্পে বসবাসকারীরা ভোটাধিকার পাওয়ার পর থেকে এই আসনের জয়-পরাজয়ে তারা বড় ভূমিকা পালন করেন। 

এ কারণে প্রার্থীদের কাছে তারা এখন ‘ভোট মেকার’ হিসেবে পরিচিত। এই বিশাল জনগোষ্ঠীকে নিজেদের পক্ষে টানতেই প্রার্থীরা তাদের মাতৃভাষায় প্রচারণার কৌশল নিয়েছেন।

এ প্রসঙ্গে বিএনপির প্রার্থী অধ্যক্ষ আবদুল গফুর সরকার মুঠোফোনে সুখবর ডটকমকে বলেন, এ শহরে বিহারি, বাঙালিসহ অন্য ভাষার মানুষ মর্যাদার সঙ্গে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করছেন। এখানে বিহারি ও বাঙালির মধ্যে কোনো ভেদাভেদ নেই। একে অন্যের ভাষাকে তারা মর্যাদা দিয়ে থাকেন। তাই বিহারিদের সম্মান জানিয়ে আমরা উর্দুভাষায় নির্বাচনী প্রচার চালাচ্ছি। 

জাতীয় পার্টির প্রার্থী সিদ্দিকুল আলম সিদ্দিক জানান, উর্দুভাষীরা যেন সহজে প্রার্থীর নাম ও প্রতীক চিনতে পারেন, সে জন্যই এ উদ্যোগ। তার পক্ষে উর্দুতে স্লোগান দেওয়া হচ্ছে– ‘হারতারফ লাঙ্গল মার্কাকা প্রাচার হায়, সিদ্দিক ভাইকা বেড়া পার হায়...’।

একইভাবে বিএনপির প্রার্থী অধ্যক্ষ আবদুল গফুরের পক্ষ থেকেও উর্দুতে মাইকিং করা হচ্ছে। এই ভিন্নধর্মী প্রচারণা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নেটিজেনদের মধ্যে দুই ধরনের মত দেখা দিয়েছে। অনেকে মনে করেন, রক্তের বিনিময়ে অর্জিত বাংলা ভাষার দেশে এভাবে উর্দুর ব্যবহার আমাদের ভাষাগত অনুভূতিতে আঘাত দেয়।

অন্যদিকে আরেকটি পক্ষ মনে করছে, উর্দুভাষীরাও এ দেশের নাগরিক। তাদের নিজ ভাষায় প্রচারণা চালানো মানে তাদের ভাষাকে মর্যাদা দেওয়া। এতে দোষের কিছু নেই।

উর্দুভাষী ক্যাম্প উন্নয়ন কমিটির সভাপতি মাজেদ ইকবাল বলেন, ভোটের সময় প্রার্থীরা অনেক প্রতিশ্রুতি দিলেও তাদের জীবনমানের তেমন উন্নতি হয়নি। নাগরিক সুবিধা থেকে তারা এখনও বঞ্চিত। তবে এবারও তারা নতুন কোনো আশায় বুক বেঁধেছেন।

এ আসনে মোট ৯ জন প্রার্থী। তারা হলেন, বিএনপির আবদুল গফুর সরকার, জামায়াত ইসলামীর আবদুল মুন্তাকিম, জাতীয় পার্টির সিদ্দিকুল আলম, রিয়াদ আরফান সরকার (স্বতন্ত্র), ইসলামী আন্দোলনের শহিদুল ইসলাম, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির মির্জা মো. শওকত আকবর রওশন, বাসদ মার্কসবাদীর মাইদুল ইসলাম , স্বতন্ত্র এস এম মামুনুর রশিদ ও জোয়াদুর রহমান হীরা।

মোট ভোটার সংখ্যা চার লাখ ৫১ হাজার ৮১৪ জন। যার মধ্যে পুরুষ ভোটার রয়েছেন দুই লাখ ২৬ হাজার ৭২৮ জন, নারী ভোটার দুই লাখ ২৫ হাজার এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার পাঁচজন। সৈয়দপুর শহরে অবাঙালি (বিহারি) ভোটার ৬০ হাজার। এবার উর্দুভাষী অবাঙালিরা প্রার্থীদের কাছ থেকে  ইশতেহারে তাদের অধিকারের সুস্পষ্ট উল্লেখ চান।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন

সুখবর এর নিউজ পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

খবরটি শেয়ার করুন

Footer Up 970x250