ছবি: ডয়েচে ভেলে।
জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক মাসুদ কামাল বলেছেন, শরিফ ওসমান বিন হাদির মৃত্যু নিয়ে রাজনীতি কম হয়নি। সে রাজনীতি ছিল বহুমুখী। সে রাজনীতির মাধ্যমে যে কাজগুলো করা হয়েছে বলে মনে হয়, প্রথমত লক্ষ্য ছিল নির্বাচনকে পিছিয়ে দেওয়া। আরেকটা রাজনীতি ছিল, সেই ইস্যুটাকে সামনে রেখে আমাদের ’৭১ কে আরো অবমূল্যায়ন করা।
তিনি বলেন, '৭১-এ যারা মহানায়ক ছিলেন তাদেরকে অবমূল্যায়ন করা। সেই অবমূল্যায়নের একটা নমুনাও আমরা দেখলাম যে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব নামে ছাত্রদের যে হল ছিল সে হলের নাম চেঞ্জ করে তারা সেখানে হাদির নামে নামকরণ করেছে। সম্প্রতি নিজের ইউটিউব চ্যানেলের এক ভিডিওতে মাসুদ এসব কথা বলেন।
মাসুদ কামাল বলেন, শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের মূল নায়ক হিসেবে যাদেরকে পুলিশ চিহ্নিত করেছে সেই ফয়সাল করিম মাসুদকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে ভারত থেকে। ভারতের পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করেছে।
তিনি বলেন, ভারতের পশ্চিমবঙ্গের আমাদের সীমান্তবর্তী বনগাঁও এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার সহযোগী হিসেবে পরিচিত আলমগীর হোসেনকেও আটক করা হয়েছে। এই দুজনেই শরিফ ওসমান হাদির হত্যাকারী এবং হত্যার সহযোগী হিসেবে আমাদের পুলিশের তদন্তে বেরিয়ে এসেছিল।
মাসুদ কামাল বলেন, এখন তাদের যদি ঠিকঠাক মতো জিজ্ঞাসাবাদ করা যায়, তাহলে আমরা জানতে পারবো যে, শরিফ ওসমান হাদির হত্যার পেছনে মূল কে অথবা কারা? আমি মনে করি জানা খুবই জরুরি।
তিনি আরো বলেন, যখন হাদিকে হত্যা করা হয়, তখন দেশে কি চলছিল? ঘটনাটা ঘটেছিল ২০২৫ এর ১২ই ডিসেম্বর। ঠিক তার আগের দিন নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়েছিল। যে নির্বাচনটা আমাদের হয়ে গেল ফেব্রুয়ারিতে। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার ঠিক পরের দিন শরিফ ওসমান হাদিকে হত্যা করা হলো।
তিনি বলেন, হত্যা করার পর যে দাবিটা সবচেয়ে বেশি জোড়ালোভাবে উঠলো সেটা হলো এখন নির্বাচন করা যাবে না। এখন দেশে নির্বাচনের পরিস্থিতি নেই। হাদির সংগঠন ইনকলাব মঞ্চ বলা শুরু করল যে, হাদির বিচার সম্পন্ন হওয়ার আগে কোনো নির্বাচন হবে না। এই দাবিতে তারা শাহাবাগে অবস্থান নিল। সারাদেশে একটা হইচই করে গেল।
খবরটি শেয়ার করুন