ফাইল ছবি
ভারতে গ্রেপ্তার হওয়া শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যা মামলার দুই আসামিকে দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকারের তৎপরতা জোরদার হয়েছে। বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের বিদ্যমান প্রত্যর্পণ (এক্সট্রাডিশন) চুক্তির আওতায় তাদের ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শুরু করেছে সরকার। এ লক্ষ্যে আনুষ্ঠানিক চিঠি প্রস্তুত করা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
মামলাটির তদন্তকারী সংস্থা পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) জানিয়েছে, আসামিদের দেশে ফেরাতে প্রয়োজনীয় নথিপত্র প্রস্তুতের কাজ চলছে। এসব নথি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ভারত সরকারের কাছে পাঠানো হবে। দু-এক দিনের মধ্যেই আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের হস্তান্তর চেয়ে আবেদন করা হতে পারে।
এদিকে গ্রেপ্তার দুই আসামির সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য ইতোমধ্যে ‘কনসুলার অ্যাকসেস’ চেয়েছে কলকাতায় অবস্থিত বাংলাদেশ উপহাইকমিশন। কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাদের দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে আলোচনা চলছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ গণমাধ্যমকে বলেছেন, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত দুই আসামিকে দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়েছে। তিনি জানান, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে এবং দুই দেশের মধ্যে থাকা প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় তাদের ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা এগোচ্ছে। ভারতীয় কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য পাওয়ার পর পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে হত্যাকাণ্ডের মূল আসামিরা গ্রেফতার হওয়ায় মামলার পেছনে থাকা সম্ভাব্য নির্দেশদাতাদের বিষয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিভিন্ন মহল থেকে দাবি উঠেছে, যারা হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা ও নির্দেশনায় জড়িত ছিল, তাদের যেন কোনোভাবেই দেশত্যাগের সুযোগ না দেওয়া হয়।
মামলার বাদীপক্ষও একই দাবি জানিয়েছে।
তাদের মতে, গ্রেপ্তার আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদ করলে হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে থাকা মূল পরিকল্পনাকারীদের সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বেরিয়ে আসতে পারে।
ভারতের পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের বিশেষ টাস্কফোর্স (এসটিএফ) গোপন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ওই দুই বাংলাদেশি নাগরিককে গ্রেপ্তার করে। পরে আদালতের নির্দেশে তাদের পুলিশ হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তদন্তকারীরা ধারণা করছেন, হত্যাকাণ্ডের পেছনে আরও বড় কোনো চক্র জড়িত থাকতে পারে।
উল্লেখ্য, গত বছরের ১২ই ডিসেম্বর রাজধানীর পুরানা পল্টন এলাকায় দুর্বৃত্তদের গুলিতে গুরুতর আহত হন ইনকিলাব মঞ্চের সাবেক মুখপাত্র শরিফ ওসমান বিন হাদি। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে বিদেশে নেওয়া হলে সেখানে তার মৃত্যু হয়। ঘটনার পর থেকেই হত্যাকাণ্ডের মূল আসামিরা আত্মগোপনে ছিলেন বলে জানায় তদন্তকারী সংস্থা।
জে.এস/
খবরটি শেয়ার করুন