শনিবার, ৭ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
২৪শে মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ

*** যমুনার সামনে আহতদের কেউ গুলিবিদ্ধ নয়: ঢামেক পরিচালক *** ‘৫ই আগস্টের চেতনা এখন জামায়াতের গর্ভে’ *** মার্কিন নাগরিকদের ‘অবিলম্বে ইরান ছাড়ার’ নির্দেশ ট্রাম্প প্রশাসনের *** যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যেতে ইরানের ‘সম্মতি’ *** ‘মনে করেছিলাম, ড. ইউনূস নির্বাচনের সময়গুলোতে এতটা নিচে নামবেন না’ *** জামায়াতকে ভোট দেওয়া মুসলমানদের ‘জায়েজ’ হবে না: হেফাজত আমির *** নির্বাচনের ফলাফল অত্যন্ত সূক্ষ্ম কৌশলে সাজানো হতে পারে *** জাতীয় পার্টির মহাসচিবের সভায় দর্শকদের দাঁড়িপাল্লা স্লোগান, ভিডিও ভাইরাল *** ‘খালেদা জিয়ার স্থান সফলভাবে পূরণ করেছেন তারেক রহমান’ *** ‘পুরুষাঙ্গে ইনজেকশন’ নিচ্ছেন স্কি জাম্পাররা!

যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে যুদ্ধে যেভাবে জেতার পরিকল্পনা করছে ইরান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

🕒 প্রকাশ: ০৪:০৬ অপরাহ্ন, ৫ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬

#

ছবি: সংগৃহীত

ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য যুদ্ধকে মাথায় রেখে নিজদের দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করেছে। সেখানে তারা ব্যাখ্যা করেছে, কীভাবে তারা বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সামরিক বাহিনীকে মোকাবিলা করবে এবং বিশ্ব অর্থনীতিকে জিম্মি করে চাপের মধ্যে রাখবে। 

ইরানি সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজে প্রকাশিত এক বিস্তারিত যুদ্ধ পরিকল্পনায় ইরানের নেতৃত্ব যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য সংঘাতের একটি পূর্ণাঙ্গ চিত্র তুলে ধরেছে। তাসনিম নিউজ ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী বা আইআরজিসির ঘনিষ্ঠ সংবাদ সংস্থা। খবর টেলিগ্রাফের।

পরিকল্পনায় বলা হয়েছে, যুদ্ধ শুরু হলে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটিগুলোতে হামলা হবে। ইরানের মিত্র ও প্রক্সি শক্তিরা নতুন নতুন ফ্রন্ট খুলবে। সাইবার যুদ্ধ চলবে। বৈশ্বিক তেল বাণিজ্য অচল করে দেওয়ার চেষ্টা হবে। ইরানের দাবি, মধ্যপ্রাচ্যের ভৌগোলিক বাস্তবতা শেষ পর্যন্ত আমেরিকার প্রযুক্তিগত শ্রেষ্ঠত্বকে হার মানাবে।

সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা ভেঙে পড়ার একদম কাছাকাছি চলে গিয়েছিল পরিস্থিতি। পরে উভয় পক্ষই আগামীকাল শুক্রবার (৬ই ফেব্রুয়ারি) ওমানে বৈঠকে বসতে রাজি হয়। তবে উত্তেজনা কমেনি।

গতকাল বুধবার রাতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির ‘খুব চিন্তিত থাকা উচিত’। এই মন্তব্য নতুন করে সংঘাত বাড়ার আশঙ্কা তৈরি করেছে।

ইরানের যুদ্ধ পরিকল্পনার প্রথম ধাপে বলা হয়েছে, তেহরান ধরে নিয়েছে যে—যুক্তরাষ্ট্র আকাশ ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাবে। লক্ষ্য হবে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা, সামরিক ঘাঁটি ও আইআরজিসির ঘাঁটি। এসবের অনেকগুলোই ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় অবস্থিত। মার্কিন বাহিনী হামলা চালাতে পারে বিমানবাহী রণতরি থেকে।

এর মধ্যে রয়েছে বর্তমানে অঞ্চলে থাকা ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন স্ট্রাইক গ্রুপ। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্র বা ইউরোপের ঘাঁটি থেকে উড্ডয়ন করা কৌশলগত বোমারু বিমান ব্যবহার হতে পারে। মিত্র দেশগুলোর ভেতরে থাকা স্থলভিত্তিক ব্যবস্থাও কাজে লাগানো হতে পারে।

পেন্টাগন বহু দশক ধরে এ ধরনের অভিযানের পরিকল্পনা করে আসছে। গত জুনে তারা ইরানের পারমাণবিক ঘাঁটিতে হামলাও চালিয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বারবার ইরানকে আবারও আঘাত করার হুমকি দিয়েছেন। 

বিশেষ করে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে হাজার হাজার মানুষ নিহত হওয়ার পর সেই হুমকি আরও জোরালো হয়। দ্য টেলিগ্রাফের ‘প্ল্যানেট নরমাল’ পডকাস্টে ব্রিটিশ গোয়েন্দা সংস্থা এমআই-৬ সাবেক প্রধান স্যার রিচার্ড ডিয়ারলাভ বলেন, হামলার আশঙ্কা বেশ ব্যাপক। 

তার মতে, এর প্রধান কারণ হলো—ইসরায়েল যুক্তরাষ্ট্রকে এ পথে যেতে জোর দিচ্ছে।

মার্কিন হামলায় ব্যবহার হবে স্টেলথ বিমান। থাকবে নির্ভুল নির্দেশিত অস্ত্র। একসঙ্গে বহু দফায় আঘাত হানার মাধ্যমে ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা অচল করার চেষ্টা করা হবে। লক্ষ্য থাকবে, যেন মার্কিন বিমানের ক্ষয়ক্ষতি কম হয়। হাইপারসনিক অস্ত্র ও ইলেকট্রনিক যুদ্ধ প্রযুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের বড় ধরনের সুবিধা রয়েছে। কিন্তু ইরানের দাবি, তারা এই পরিস্থিতির জন্য আগে থেকেই প্রস্তুত।

গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা শক্তভাবে সুরক্ষিত করা হয়েছে। অনেক কিছু ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। বিকল্প কমান্ড কাঠামো তৈরি করা হয়েছে। বিস্তৃত ভূগর্ভস্থ স্থাপনা গড়ে তোলা হয়েছে, যা প্রাথমিক হামলা টিকে যেতে পারবে।

তেহরানের হিসাব হলো, ক্ষতি ঠেকানো নয়। বরং এতটুকু সক্ষমতা ধরে রাখা, যাতে পাল্টা আঘাত হানা যায়। দ্বিতীয় ধাপে ইরান পাল্টা হামলায় যাবে। এতে যুদ্ধক্ষেত্র সঙ্গে সঙ্গে দেশের সীমানা ছাড়িয়ে যাবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইরান ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা শুরু করবে।

প্রধান লক্ষ্যগুলোর একটি হবে কাতারে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের আল-উদেইদ বিমানঘাঁটি। এখানে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের অগ্রবর্তী সদর দপ্তর। এটি অঞ্চলের প্রধান বিমান অভিযান কেন্দ্র। গত বছর যুক্তরাষ্ট্রের বি-টু বোমারু বিমান ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালানোর পর ইরান এই ঘাঁটিতেই আঘাত হেনেছিল। 

কুয়েতে আলী আল সালেম বিমানঘাঁটি ও ক্যাম্প আরিফজানও হামলার মুখে পড়তে পারে। ক্যাম্প আরিফজান হলো মার্কিন স্থলবাহিনীর বড় লজিস্টিক কেন্দ্র। সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিভিন্ন স্থাপনা এবং সিরিয়ায় থাকা একটি মার্কিন ঘাঁটিও লক্ষ্যবস্তু হবে। সিরিয়ায় এখনো প্রায় দুই হাজার মার্কিন সেনা অবস্থান করছে।

২০২০ সালে কাসেম সোলেইমানি হত্যার পর ইরান ইরাকের আইন আল-আসাদ বিমানঘাঁটিতে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছিল। এতে শতাধিক মার্কিন সেনা মস্তিষ্কে আঘাতজনিত সমস্যায় ভুগেছিলেন। ইরান আবারও সেখানে হামলার চেষ্টা করতে পারে। যদিও গত মাসে যুক্তরাষ্ট্র ওই ঘাঁটি থেকে ‘সম্পূর্ণ প্রত্যাহার’ সম্পন্ন করেছে।

তাসনিমের প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরান নিজেকে যুদ্ধে একটি বিচ্ছিন্ন দ্বীপ মনে করে না। বরং নিজেকে বহু সংঘাতের সম্ভাব্য নেটওয়ার্কের কেন্দ্র হিসেবে দেখে। ইরানের কৌশল হলো সংখ্যার জোরে মার্কিন প্রতিরক্ষা ভেঙে দেওয়া। একসঙ্গে শত শত, এমনকি হাজার হাজার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ছোড়া হবে। লক্ষ্য হবে প্যাট্রিয়ট ও থাড ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থা স্যাচুরেট করা।

ইরানে ট্রাম্পের ছক নিয়ে অন্ধকারে মধ্যপ্রাচ্য, জল্পনায় আগ্রাসনের মার্কিন কৌশলইরানে ট্রাম্পের ছক নিয়ে অন্ধকারে মধ্যপ্রাচ্য, জল্পনায় আগ্রাসনের মার্কিন কৌশল

ইরানের অস্ত্রভান্ডারে রয়েছে শাহেদ-১৩৬ ড্রোন। এতে ৫০ কেজি বিস্ফোরক বহন করা যায়। 

আছে খাইবার শেকান ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, যার ওয়ারহেড ঘুরে চলতে পারে এবং প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ফাঁকি দিতে সক্ষম। ইমাদ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রে ৭৫০ কেজি পেলোড বহনের ক্ষমতা আছে। পাভেহ ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা প্রায় এক হাজার মাইল। অনেক ক্ষেপণাস্ত্র আকাশেই ভূপাতিত হবে। 

তবু ইরানের বিশ্বাস, কিছু ক্ষেপণাস্ত্র লক্ষ্য ভেদ করবে। এতে বড় ধরনের প্রাণহানি হতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

একই সময়ে ইরানের তথাকথিত ‘প্রতিরোধের অক্ষ’ সক্রিয় হয়ে উঠবে। লেবাননের হিজবুল্লাহ স্পষ্ট করে বলেছে, ইরানের ওপর যুদ্ধ মানেই তাদের নিজের যুদ্ধ। তারা ইসরায়েলের দিকে রকেট ও ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়তে পারে।

এতে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র ইসরায়েলকে প্রতিরক্ষায় বড় অংশের শক্তি ব্যয় করতে হবে। ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা লোহিত সাগরে জাহাজে হামলা বাড়াবে। তারা ইসরায়েল ও অঞ্চলের মার্কিন ঘাঁটিতেও আঘাত হানতে পারে। ইরাকে তেহরান ঘনিষ্ঠ মিলিশিয়ারা মার্কিন সেনা ও কূটনৈতিক স্থাপনায় হামলা চালাবে।

তবে এই বহুমুখী প্রক্সি কৌশলের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে। ইসরায়েলের সাম্প্রতিক সামরিক অভিযানে হিজবুল্লাহ ও হামাসের সক্ষমতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, এসব গোষ্ঠী একসঙ্গে সমন্বিত হামলা চালাবে। একই সঙ্গে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা আঘাতও সামলাবে। বাস্তবে এটি বেশ আশাবাদী ধারণা বলেই মনে করা হচ্ছে।

ইরাক ও লেবাননের মতো দেশগুলো চাইবে না যে তাদের ভূখণ্ড ব্যবহার করে এমন হামলা হোক, যার ফলে ভয়াবহ প্রতিশোধ নেমে আসবে। তারা সক্রিয়ভাবে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করতে পারে।

তবু এই বহু ফ্রন্ট খোলার লক্ষ্য একটাই। যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনীকে পুরো অঞ্চলজুড়ে ছড়িয়ে দিতে বাধ্য করা। যেন ওয়াশিংটন ইরানের বিরুদ্ধে এক জায়গায় শক্তি কেন্দ্রীভূত করতে না পারে। ইরানের হুঁশিয়ারি স্পষ্ট। যেকোনো দেশ যদি যুক্তরাষ্ট্রকে আকাশপথ, ঘাঁটি বা লজিস্টিক সহায়তা দেয়, তাদের ‘বৈধ লক্ষ্য’ হিসেবে বিবেচনা করা হবে।

ইরান মনে করে, যুক্তরাষ্ট্রের কিছু দুর্বল জায়গা আছে। সেই জায়গাগুলো লক্ষ্য করেই সাইবার হামলার পরিকল্পনা করেছে তেহরান। লক্ষ্যবস্তু হতে পারে পরিবহনব্যবস্থা, জ্বালানি অবকাঠামো, আর্থিক খাত এবং সামরিক যোগাযোগব্যবস্থা। 

ইরানের ধারণা, সাইবার হামলার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক রসদ সরবরাহে বড় ধরনের ব্যাঘাত ঘটানো সম্ভব। এতে সেনা পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণ জটিল হয়ে উঠবে। একই সঙ্গে যেসব মিত্র দেশে মার্কিন সেনা অবস্থান করছে, সেসব দেশে বিশৃঙ্খলা তৈরি হতে পারে।

বিদ্যুৎ গ্রিড বা পানির সরবরাহব্যবস্থার মতো বেসামরিক অবকাঠামোয় হামলা চালিয়ে ইরান চায় যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটি থাকা দেশগুলোর ওপর চাপ তৈরি করতে। উদ্দেশ্য হলো, তারা যেন নিজেদের ভূখণ্ড থেকে মার্কিন সেনা সরিয়ে নিতে বাধ্য হয়। এর আগে ইরানি হ্যাকাররা আঞ্চলিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলার সক্ষমতা দেখিয়েছে।

২০১২ সালে ‘শামুন’ নামের একটি ভাইরাস সৌদি আরবের রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানি আরামকোর প্রায় ৩০ হাজার কম্পিউটার অচল করে দেয়।

সাম্প্রতিক সময়ে ইরান-সমর্থিত সাইবার গোষ্ঠীগুলো যুক্তরাষ্ট্রের অবকাঠামোতেও অনুপ্রবেশের চেষ্টা করেছে। তবে শক্তভাবে সুরক্ষিত মার্কিন সামরিক নেটওয়ার্কে তাদের সাফল্য ছিল সীমিত। অন্য দিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সাইবার কমান্ড বহু বছর ধরেই এ ধরনের পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুতি নিয়েছে। 

সাইবার সক্ষমতায় যুক্তরাষ্ট্র ইরানের চেয়ে অনেক এগিয়ে। পাল্টা হামলা চালানোর ক্ষমতাও তাদের আছে। ইরানের অবকাঠামো তুলনামূলকভাবে বেশি দুর্বল।

পেন্টাগন চাইলে ইরানের বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থা অচল করতে পারে। ক্ষেপণাস্ত্রের নির্দেশনা ব্যবস্থা বিঘ্নিত করা সম্ভব। যোগাযোগ নেটওয়ার্কেও বড় ধরনের ক্ষতি করা যেতে পারে। ইরানের দাবি অনুযায়ী, তাদের সবচেয়ে শক্তিশালী অস্ত্র হলো ভৌগোলিক অবস্থান। হরমুজ প্রণালির ওপর তাদের প্রভাব। এই প্রণালি দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ২ কোটি ১০ লাখ ব্যারেল তেল পরিবহন হয়। যা বৈশ্বিক তেলের মোট সরবরাহের প্রায় ২১ শতাংশ।

সবচেয়ে সরু জায়গায় প্রণালিটির প্রস্থ মাত্র ২৪ মাইল। এটি বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহ পথগুলোর একটি। উত্তেজনা বাড়লে ইরান বহুবার এই প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছে।

এই কৌশলে প্রণালিতে ইরান মাইন পুঁতে রাখা হতে পারে। ট্যাংকারে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানো হতে পারে। এমনকি জাহাজ ডুবিয়ে নৌপথ অবরুদ্ধ করার চেষ্টা করা হতে পারে।

ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস বা আইআরজিসির নৌবাহিনী ‘সোয়ার্মিং’ কৌশলের মহড়া দিয়েছে। এতে ছোট ছোট দ্রুতগতির নৌকা ব্যবহার করা হয়। এসব নৌকায় রকেট ও টর্পেডো থাকে।

লক্ষ্য হলো বড় যুদ্ধজাহাজকে একসঙ্গে আক্রমণ করে বিপর্যস্ত করা। এ ধরনের পদক্ষেপ নিলে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ২০০ ডলার বা তারও বেশি হতে পারে। এতে বিশ্ব অর্থনীতিতে মারাত্মক ধাক্কা লাগবে। যুক্তরাষ্ট্রের ওপর চাপ বাড়বে, যেন তারা পিছু হটে।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনির প্রতিনিধি হোসেইন শরিয়তমাদারি বলেন, ‘আমরা হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স, ব্রিটেন ও জার্মানির বিরুদ্ধে বিধিনিষেধ আরোপ করতে পারি। তাদের চলাচল বন্ধ করে দিতে পারি।’

ইরানের হিসাব অনুযায়ী, এই অর্থনৈতিক চাপ যুক্তরাষ্ট্রকে সমর্থন দেওয়া আন্তর্জাতিক জোটে ভাঙন ধরাতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রেরও পাল্টা পরিকল্পনা আছে। হরমুজ প্রণালি খোলা রাখতে তারা মাইন অপসারণ অভিযান চালাতে পারে। তেলবাহী জাহাজকে যুদ্ধজাহাজ দিয়ে পাহারা দেওয়া হতে পারে। ইরানের উপকূলীয় স্থাপনাতেও হামলা চালানো হতে পারে।

আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি

সুখবর এর নিউজ পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

খবরটি শেয়ার করুন

Footer Up 970x250