ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া
দেশের বিভিন্ন এলাকায় আওয়ামী লীগের কার্যালয় খোলা হচ্ছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির নিরঙ্কুশ জয়ের পর এটা নিয়মিত এক খবর। তবে এতে নবগঠিত সরকারি দল সহযোগিতা করছে, এমন অভিযোগ নাকচ করে দেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।
সম্প্রতি ঠিকানা টিভির বিশেষ সাক্ষাৎকারে বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য দাবি করছেন, ‘দেশে গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরেছে, এটা ভেবে হয়তো আওয়ামী লীগ গণতন্ত্রের শর্তগুলো মেনে কার্যালয়গুলো উন্মুক্ত করে থাকতে পারে। দল নিষিদ্ধ হলেও কার্যালয় নিষিদ্ধ নয়, রাজনৈতিক সরকার আসার পর এটাও তাদের ভাবনায় থাকতে পারে।’
রাজধানী ঢাকার মোহাম্মদপুরে এই সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়, যা সম্প্রচারিত হয় ঠিকানায় খালেদ মুহিউদ্দীন ইউটিউব চ্যানেলে। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত বিষয়ে বিএনপি সরকারের পরিকল্পনার নানা দিক নিয়ে ঠিকানা টিভির প্রধান সম্পাদক খালেদ মুহিউদ্দীনের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী এবং সিরাজগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।
বর্তমান সরকার সব কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ করে দেবে বলে জানান বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নির্দেশনা দিয়েছেন, যাতে জীবাশ্ম জ্বালানির বদলে আমরা নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বেশি প্রাধান্য দিই। কারণ আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগীরা এখন এ ক্ষেত্রে ঋণ অনুদানে অগ্রাধিকার দিয়ে থাকে।’
অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ দিকে এসে বাজারে এলপি গ্যাসের সংকট দেখা যায়। বেশি দাম দিয়েও অনেকে তখন তা কিনতে পারেননি। এই সংকট কাটাতে বিএনপি সরকারের পরিকল্পনা কী- এ প্রসঙ্গে ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, বেসরকারি খাতে পুরো নিয়ন্ত্রণ ছেড়ে দিলে তারা দাম বৃদ্ধি করতে ইচ্ছেমতো খেলা খেলে।
তিনি বলেন, আমদানি না করার নানা অজুহাত দেখায়। জনসেবামূলক নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র তাই সরকারের হাতে রাখা উচিত। এর মাধ্যমে জনস্বার্থ সুরক্ষিত থাকবে। অন্তত ৬৫ শতাংশ ব্যবসা সরাসরি সরকারের হাতে রাখতে হবে বলে মনে করেন তিনি।
অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জুলাই আন্দোলনের নেতাদের বহুল ব্যবহৃত এক স্লোগান ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’। এর সঙ্গে বাংলার কোনো সম্পর্ক নেই- সম্প্রতি একুশে ফেব্রুয়ারির এক আয়োজনে এমন কথা বলেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। পরে এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পক্ষে-বিপক্ষে অনেক কথা হয়।
নিজের অবস্থান তুলে ধরে ঠিকানার বিশেষ সাক্ষাৎকারে জ্বালানি মন্ত্রী টুকু বলেন, ‘ব্রিটিশ আমলেও বাংলাদেশে এই স্লোগানটা ছিল না। পাঞ্জাবে ভগবত সিং এটা জনপ্রিয় করেছিলেন। ইনকিলাব নামে অমিতাভ বচ্চন সিনেমাও করেছিলেন। তবে আমাদের অভিধানে এই শব্দ প্রবেশ করেনি। আমি এটার চরম বিরুদ্ধে, বিষয়টি এমন নয়। শুধু একুশে ফেব্রুয়ারিতে বাংলা ভাষার প্রতি যত্নশীল হওয়ার আহ্বান করেছি। ইনকিলাব বাংলা শব্দ নয়, শুধু এটুকু মনে রাখতে বলেছি।’
খবরটি শেয়ার করুন