বৃহস্পতিবার, ১২ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
৩০শে মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ

*** বিএনপি প্রার্থীকে অভিনন্দন জানালেন জামায়াতের শিশির মনির *** কুমিল্লা-৪ আসনে ভোট গ্রহণ শেষে নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিলেন বিএনপি–সমর্থিত প্রার্থী *** কয়েকটি আসনে অনিয়মের অভিযোগ জামায়াতের, স্থগিত করার দাবি *** উপদেষ্টাদের ‘সেফ এক্সিট’ বিতর্ক *** উৎসবমুখর পরিবেশে শেষ হলো ভোট *** ভোটগ্রহণের সময় শেষ, অপেক্ষা গণনার *** কুমিল্লায় ভোটকেন্দ্রে হঠাৎ ককটেল বিস্ফোরণ, ভোটারদের ছোটাছুটি *** বেশ কিছু জায়গায় কেন্দ্র দখলের চেষ্টা করেছেন বিএনপির সমর্থকেরা: জামায়াত আমির *** দুপুর ২টা পর্যন্ত নির্বাচনে ৪৮৬ কেন্দ্রে বিশৃঙ্খলা, ৫৯ কেন্দ্রে জালভোট *** একটি রাজনৈতিক দল বারবার অপ্রত্যাশিত ঘটনা ঘটিয়ে যাচ্ছে: তারেক রহমান

প্রতিবন্ধী বকুল বেগমকে আগুন থেকে বাঁচাল প্রতিবেশী কিশোর

নিজস্ব প্রতিবেদক

🕒 প্রকাশ: ১১:৪৩ অপরাহ্ন, ২৫শে নভেম্বর ২০২৫

#

ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর কড়াইল বস্তিতে আজ মঙ্গলবার (২৫শে নভেম্বর) বিকেলে যখন আগুন লাগে, তখন ছোট ঘরে বিছানায় শুয়েছিলেন চলাফেরায় অক্ষম ৪৫ বছর বয়সী বকুল বেগম। আগুন লাগার পর তিনি আতঙ্কে চিৎকার করতে থাকেন। এক কিশোর শুনতে পায় তার চিৎকার। পরে ওই কিশোর সেখানে গিয়ে ভয়াবহ ওই আগুনের মধ্য থেকে হুইলচেয়ারে বকুলকে বের করে আনে।

বিকেল সোয়া ৫টার দিকে বস্তিতে এ আগুন লাগে। ফায়ার সার্ভিসের ১৯টি ইউনিট ঘটনাস্থলে কাজ করলেও রাত ৯টা পর্যন্ত নিয়ন্ত্রণে আসেনি ভয়াবহ এ আগুন। গত প্রায় ২৬ বছর ধরে কড়াইল বস্তিতে থাকেন বকুল বেগম। নয় বছর আগে একটি দুর্ঘটনায় তার কোমর ভেঙে যায়। এরপর থেকে তিনি আর হাঁটতে পারেন না—হুইলচেয়ারই ভরসা। তার পাঁচ সন্তান ওই বস্তিতেই থাকেন।

আজ আগুন লাগার সময় বকুল ছিলেন তার ছোট ছেলের ঘরে। তিনি বলেন, 'যখন আগুন লাগে তখন কী করব বুঝতে না পেরে আতঙ্কে চিৎকার শুরু করি। কিছুই করতে পারছিলাম না…শুধু চিৎকার করতেছিলাম।' তখন পাশের ঘরের ১৪–১৫ বছরের এক কিশোর ছুটে আসে। কিশোরটি নিজেও আতঙ্কে কাঁপছিল, কিন্তু শেষ পর্যন্ত সে প্রতিবন্ধী বকুল বেগমকে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়।

প্রথমে তাকে বিছানা থেকে তুলে হুইলচেয়ারে বসায়, তারপর আগুনের মধ্য দিয়ে হুইলচেয়ার ঠেলে নিরাপদ দূরত্বে নিয়ে যায়। বকুল বেগমের স্বামী বিল্লাল হোসেন রিকশা চালাতেন। ১৭ বছর আগে তাকে ও পাঁচ সন্তানকে ফেলে চলে যান তিনি। তখন বকুলের সন্তানদের সবাই অল্প বয়সী, কারও উপার্জনক্ষমতা ছিল না।

স্বামী চলে যাওয়ার পর বকুল দিনমজুরের কাজ শুরু করেন—মাটি কাটার কাজ, নির্মাণশ্রমিকের কাজ, এমনকি বনানীতে গাছ কাটার কাজও করেছেন। সেই গাছ কাটার কাজ করতে গিয়েই গাছ পড়ে তার কোমর, দুই পা ভেঙে যায়।

এরপরও থেমে যাননি বকুল। হুইলচেয়ারে বসেই সন্তানদের মানুষ করেছেন, তিন মেয়েকে বিয়ে দিয়েছেন। দুই ছেলে এখন কাছাকাছি ঘরে থাকে। কিন্তু আগুনের ঘটনায় তাদের সবার ঘরই পুড়ে গেছে, সবাই ক্ষতিগ্রস্ত। আগুন লাগার সময় সন্তানেরা ঘরের বাইরে ছিলেন। বকুল ও তার সন্তানদের ঘরের সবকিছু পুড়ে গেছে।

তিনি বলেন, 'স্বামী ছাইড়া গেছে, নিজে কাম করে সংসার চালাইছি। এখনো করতে হয়। আজ আগুনে সব শেষ।' বকুলের মতো ওই বস্তির শতাধিক পরিবার আজ ঘরহারা হয়ে পড়েছে। বকুল বেগমের ছেলের স্ত্রী সুবর্ণা বলেন, 'আমরা সবাই কাজে বাইরে ছিলাম। সবার বাসা আগুনে পুড়ে গেছে। মালামাল বের করতে পারিনি।'

ওই বস্তির ঘরগুলো টিন, বাঁশ, কাঠ ও লোহার তৈরি। একতলা, দোতলা, তিনতলা ঘরগুলো আগুনে জ্বলছে। আগুন লাগার সঙ্গে সঙ্গে বস্তির বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। বস্তির বেশিরভাগ বাসিন্দা সাধারণত পোশাককর্মী, রিকশাচালক, হকার বা দিনমজুর। বিকেলে আগুন লাগার সময় তাদের বেশিরভাগই বাড়িতে ছিল না। সেখানে দেখা যায়, ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের সঙ্গে স্থানীয়রা যে যেভাবে পারছেন চাপকল বা খাল থেকে পানি নিয়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা করছেন।

রাত ৯টার দিকে ফায়ার সার্ভিসের পরিচালক (অপারেশন) লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, 'কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও ফায়ার সার্ভিস আগুন নেভানোর কাজ করছে। বস্তির পূর্ব-উত্তর দিকে আগুন এখনো জ্বলছে। প্রথমে ১৬টি ইউনিট ছিল, এখন প্রায় ২০টি ইউনিট কাজ করছে।'

কড়াইল বস্তির আগুন

সুখবর এর নিউজ পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

খবরটি শেয়ার করুন

Footer Up 970x250