ফাইল ছবি
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ঢাকা-৮ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী মির্জা আব্বাস বলছেন, সরকার বোঝাচ্ছে, নির্বাচনে ‘হ্যাঁ’ ভোট না দিলে এই হবে, সেই হবে। তাহলে তারা 'হ্যাঁ' ভোট বিজয়ী ঘোষণা দিলেই তো পারত। এটা তো কোনো নির্বাচনী কথা হলো না। এটা তো ডিক্টেটরশিপ। নির্বাচন মানে তো যারা খুশি ‘হ্যাঁ’ ভোট দেবে, যারা খুশি না তারাও মতামত তাদের মতো করে দেবে। জনগণ যা ভালো মনে করে, তা-ই করবে। তাদের চাপ দেওয়া যাবে না। জনগণের ওপর রায়ের ভার ছেড়ে দিতে হবে।
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের আচরণ নিয়ে সন্তুষ্ট হতে পারছেন না মির্জা আব্বাস। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের আচরণ নিয়ে নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ দিয়েও কোনো প্রতিকার পাচ্ছেন না বলেও জানান তিনি।
কেমন নির্বাচন হবে জানতে চাইলে এই বর্ষীয়ান রাজনীতিক বলেন, ‘জীবনে বহু নির্বাচনে অংশ নিয়েছি। কিন্তু এবারের নির্বাচন কেমন হবে তা এখনই বুঝতে পারছি না। ভোটের পর বুঝতে পারব কেমন নির্বাচন হয়েছে।’
দৈনিক কালের কণ্ঠকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে মির্জা আব্বাস এসব কথা বলেন। তার সাক্ষাৎকারটি কালের কণ্ঠের ছাপা সংস্করণে আজ মঙ্গলবার (৩রা ফেব্রুয়ারি) প্রকাশিত হয়েছে।
কালের কণ্ঠের ওয়েবসাইট থেকে সাক্ষাৎকারটির লিংক ফেসবুকসহ অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। নানা শ্রেণি-পেশার নেটিজেনদের মধ্যে মির্জা আব্বাসের বক্তব্য নিয়ে নানামুখী আলোচনা-সমালোচনা ও পর্যালোচনা চলছে।
মির্জা আব্বাস সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘জামায়াতে ইসলামী সমর্থিত প্রার্থী নির্বাচনের প্রচারণায় নেমে যে ধরনের কথাবার্তা বলছেন, তাতে অসম্ভব ঘটনা ঘটছে বাংলাদেশে। আমার পক্ষে এর জবাব দেওয়া কঠিন।’
তিনি বলেন, আমি প্রার্থীদের প্রতিদ্বন্দ্বী ভাবছি না। আমি সবাইকে প্রতিযোগী ভাবছি। অনেকেই চট করে নেতা হয়েছেন। যারা নতুন রাজনীতি করেন, তাদের সিনিয়র রাজনৈতিক নেতাদের ফলো করা উচিত।
তিনি বলেন, ‘যারা নতুন নেতা হয়েছেন তারা অন্যের রক্তের ওপর দিয়ে নেতা হয়েছেন। আর আমরা নিজেরাই রাজপথে রক্ত দিয়ে নিজেদের তৈরি করেছি।’ তিনি বলেন, ‘নির্বাচনটা উৎসব। কিন্তু এবার নির্বাচনটা উপভোগ করতে পারছি না। প্রতিযোগী প্রার্থীরা যে আচরণ করছেন, তাতে নির্বাচনী পরিবেশের যেকোনো সময় ক্ষতি হতে পারে।’
নির্বাচনী আচরণবিধি ভঙ্গ নিয়ে ইসিতে কোনো অভিযোগ দিয়েছেন কি না জানতে চাইলে মির্জা আব্বাস কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ইসিতে বহুবার অভিযোগ দিয়েছি। এখন পর্যন্ত কোনো প্রতিকার পাইনি। তাদের (প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের) কথাবার্তায় নির্বাচন-সহনীয় পরিবেশ না। যেকোনো সময় নির্বাচনী পরিবেশের ক্ষতি হতে পারে।’
এই রাজনীতিক বলেন, ‘আমার কাছে এলাকাবাসী কোনো সংকটের কথা বলছে না। কারণ এলাকার মানুষ আমার কাছে চাওয়ার আগেই সব পেয়েছে। আমি শুধু আমার এলাকা নিয়ে ভাবছি না, আমি পুরো শহর নিয়ে ভাবছি। যেহেতু আমি মেয়র ছিলাম, উন্নয়নের বহু কাজ করেছি। আমার এলাকায় হাসপাতাল, কবরস্থান, খেলার মাঠসহ অনেক কিছুই করেছি। তবে এলাকায় জলাবদ্ধতা সমস্যা আছে। যাঁরা দায়িত্বে আছেন, তাঁরা জানেন না আসলে এই এলাকার পানি কোথা দিয়ে যায়। এ ছাড়া আছে মশার সমস্যা।’
মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণে আপনার পদক্ষেপ কী হবে—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘৫ই আগস্টের পর আমি চাঁদাবাজি বন্ধ করেছি। এখন আবার তা শুরু হয়েছে। মতিঝিল এলাকায় ক্যাসিনো খেলা বন্ধ করেছি। গ্রাম থেকে লোকজন এসে সর্বস্বান্ত হয়েছে। আমি সেই খেলা বন্ধ করেছি। এলাকায় এখন কিশোর গ্যাং নেই। এরা কোথায় গেল? খোঁজ নিয়ে দেখেন।’
নির্বাচন কমিশনের আচরণে কোনো ধরনের পক্ষপাতিত্ব দেখছেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘অবশ্যই। অভিযোগ দিয়ে কোনো প্রতিকার পাওয়া যাচ্ছে না।’ তিনি বলেন, দুই লাখ ৮০ হাজার ভোটারের মধ্যে অর্ধেক ভোটার খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। এটা সন্দেহজনক। এই ভোটারগুলো কারা? যদি এসব ভোটার পাওয়া না যায় তাহলে নির্বাচন কমিশনকে বলব, এসব ভোটার বাতিল করুন। এরা ফল পরিবর্তন করে দিতে পারে। নির্বাচন ম্যানিপুলেট হতে পারে।’
খবরটি শেয়ার করুন