সোমবার, ২রা মার্চ ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১৮ই ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ

*** ড. ইউনূস কি মবের ভয়ে ‘কঠোর নিরাপত্তা বেষ্টনীতে’ থাকবেন? *** ইরানে খোমেনির ভাস্কর্য উপড়ে ফেলল উত্তেজিত জনতা *** রাশিয়ায় খামেনিকে অসাধারণ রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে স্মরণ করা হবে: পুতিন *** ইরানের নতুন নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনায় রাজি ট্রাম্প *** ইসলামি প্রজাতন্ত্র ফেলে দেওয়ার আহ্বান রেজা পাহলভির *** বঙ্গবন্ধুর জন্মবার্ষিকী ও স্বাধীনতা দিবস পালন করতে নেতাকর্মীদের আহবান শেখ হাসিনার *** শিগগিরই নতুন সর্বোচ্চ নেতা পাবে ইরান, জানালেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী *** এক বছর কঠোর নিরাপত্তা বেষ্টনীতে থাকবেন ড. ইউনূস *** ইসলাম ধর্মের প্রতি সম্মান দেখানোর আহ্বান গার্দিওলার *** গণঅভ্যুত্থানে পুলিশ হত্যাকাণ্ডের তদন্ত নিয়ে কোনো বক্তব্য দেইনি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

আয়াতুল্লাহ খামেনিকে হত্যায় বিশ্বনেতাদের মিশ্র প্রতিক্রিয়া

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

🕒 প্রকাশ: ০৪:২৬ অপরাহ্ন, ২রা মার্চ ২০২৬

#

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে হত্যার ঘটনায় বিশ্বজুড়ে তীব্র কূটনৈতিক মেরুকরণ সৃষ্টি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি অভিযানের পর সৃষ্ট এ শূন্যতাকে ‘নিষ্ঠুর হত্যাকাণ্ড’ হিসেবে অভিহিত করেছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন।

ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) অবশ্য এটিকে দেখছে ইরানের ইতিহাসে ‘এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা’ হিসেবে। এদিকে খামেনি হত্যার প্রতিবাদে বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠেছে শিয়া-অধ্যুষিত ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীর।

আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার ঘটনায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে তিনি হুমকি দিয়ে বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে হামলা অব্যাহত থাকবে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে তিনি লিখেছেন, ‘ইতিহাসের অন্যতম খারাপ মানুষ খামেনি মারা গেছেন। এটি শুধু ইরানের জনগণের জন্য নয়, বরং মহান আমেরিকানদের জন্যও ন্যায়বিচার।’

রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা তাসের বরাতে জানা গেছে, খামেনির মৃত্যুকে ‘নিষ্ঠুর ও নীতিহীন হত্যা’ বলে বর্ণনা করেছেন ভ্লাদিমির পুতিন। রুশ প্রেসিডেন্টের মতে, এ ঘটনা আন্তর্জাতিক আইনের সব রীতিনীতি ও মানবীয় নৈতিকতাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়েছে। রাশিয়া খামেনিকে একজন ‘অসামান্য রাষ্ট্রনায়ক’ হিসেবে সবসময় স্মরণ রাখবে বলেও জানান পুতিন।

ইরানের ওপর ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী বিশ্বশান্তির ভিত্তি নষ্ট করছে বলে মন্তব্য করেছেন চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই। তার মতে, একটি স্বাধীন সার্বভৌম দেশের নেতাকে এভাবে ‘প্রকাশ্যে হত্যা’ ও শাসন ব্যবস্থা পরিবর্তনের উসকানি দেওয়া কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।

ইরানে চলমান যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলাকে অবৈধ আগ্রাসন উল্লেখ করে নিন্দা জানিয়েছে উত্তর কোরিয়া। রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা কোরিয়ান সেন্ট্রাল নিউজ এজেন্সির প্রকাশিত বিবৃতিতে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযান সম্পূর্ণভাবে অবৈধ আগ্রাসন ও সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘনের জঘন্য উদাহরণ।

ভূরাজনৈতিক এ উদ্ভূত পরিস্থিতিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ক্যাথলিক খ্রিস্টানদের সর্বোচ্চ ধর্মগুরু পোপ লিও। বর্তমান পরিস্থিতিকে একটি ‘সহিংসতার সর্পিল গতি’ হিসেবে অভিহিত করে তিনি সব পক্ষকে অবিলম্বে তা বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন।

পোপ লিও সতর্ক করে বলেছেন, সময়মতো এ উন্মাদনা থামানো না গেলে অঞ্চলটি একটি ‘অপ্রতিরোধ্য অতল গহ্বরে’ পতিত হতে পারে।

সেন্ট পিটার্স স্কোয়ারে গতকাল রোববার (১লা মার্চ) সমবেত তীর্থযাত্রীদের উদ্দেশে দেওয়া সাপ্তাহিক ভাষণে পোপ লিও এ রক্তক্ষয়ী সংঘাতের নিন্দা জানান।

তিনি বলেন, শান্তি ও স্থিতিশীলতা কখনই পারস্পরিক হুমকি বা অস্ত্রের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হতে পারে না। বরং কেবল ‘যৌক্তিক, অকৃত্রিম এবং দায়িত্বশীল সংলাপের’ মাধ্যমেই দীর্ঘস্থায়ী শান্তি আনা সম্ভব।

তেহরানের এ পালাবদল কেবল মধ্যপ্রাচ্য নয়, বরং বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার ও ভূরাজনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপর সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। রাশিয়া ও চীন যেখানে এ ঘটনাকে ‘সশস্ত্র আগ্রাসন’ হিসেবে দেখছে, পশ্চিমা শক্তিগুলো সেখানে একে দেখছে স্বৈরাচারী শাসনের অবসান হিসেবে।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়াকে দেশটির ইতিহাসের একটি ‘বাঁক পরিবর্তনের মুহূর্ত’ হিসেবে অভিহিত করেছেন ইইউ পররাষ্ট্রনীতিবিষয়ক প্রধান কাজা কালাস।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) গতকাল দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, খামেনি-পরবর্তী ইরানের রাজনৈতিক গতিপথ এখন অনেকটাই অনিশ্চিত। তবে ইরানের জনগণ এখন নিজেদের ভবিষ্যৎ স্বাধীনভাবে গড়ে নিতে পারবে।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ব্রিটেনের পক্ষ থেকেও মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা প্রশমনের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। তবে খামেনিকে হত্যা প্রসঙ্গে দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী জন হ্যালি বলেন, ‘এ মৃত্যুতে কেউ শোক প্রকাশ করবে না।’

খামেনির অনুপস্থিতিকে ইরানি জনগণের জন্য একটি নতুন সুযোগ হিসেবে দেখছেন ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লিয়েন।

তবে এর পাশাপাশি তিনি একটি গুরুতর ঝুঁকির কথাও মনে করিয়ে দিয়ে বলেছেন, এ মুহূর্তটি চরম অস্থিতিশীলতা তৈরি করতে পারে, যা পুরো অঞ্চলকে একটি ভয়াবহ সহিংসতার দিকে ঠেলে দেয়ার ক্ষমতা রাখে।

ইতালির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্তোনিও তাজানি বর্তমান পরিস্থিতিকে একটি ‘অন্তর্বর্তীকালীন পর্যায়’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। এ উত্তরণকালীন পর্যায় কতদিন স্থায়ী হবে এবং চলমান যুদ্ধের ওপর এর কী প্রভাব পড়বে, তা নিয়ে তাজানি সংশয় প্রকাশ করেছেন।

ফরাসি সরকারের মুখপাত্র মড ব্রেজঁ অত্যন্ত কড়া ভাষায় খামেনির শাসনের সমালোচনা করেছেন। তার মতে, খামেনি নিজের দেশ ও এ অঞ্চলের হাজার হাজার বেসামরিক মানুষের মৃত্যুর জন্য দায়ী ছিলেন। তাই তার এ প্রস্থানকে স্বাগত জানানোই স্বাভাবিক।

এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে পড়া এ সংঘাতে আনুষ্ঠানিকভাবে নিরপেক্ষ অবস্থান বজায় রাখলেও ভারতের কূটনীতিতে গভীর উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। ইসরায়েল ও ইরান দুই দেশই ভারতের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। আর তাই সব রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতাকে সম্মান জানানোর আহ্বান জানিয়েছে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

তবে শিয়া সম্প্রদায়ের সর্বোচ্চ নেতার মৃত্যুর খবরে উত্তাল হয়ে উঠেছে ভারতের জম্মু-কাশ্মীর ও উত্তর প্রদেশের বিভিন্ন অংশ। বিক্ষোভের মূল কেন্দ্রবিন্দু ছিল শ্রীনগরের লালচক।

বিক্ষোভের আঁচ পৌঁছেছে উত্তর প্রদেশের রাজধানী লক্ষ্ণৌতেও। বিক্ষোভকারীদের কণ্ঠে ছিল আমেরিকা ও ইসরায়েলবিরোধী তীব্র স্লোগান। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে শ্রীনগর ও বুদগামের সংবেদনশীল এলাকাগুলোয় বিপুল পরিমাণ নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।

জে.এস/

আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি

সুখবর এর নিউজ পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

খবরটি শেয়ার করুন

Footer Up 970x250