ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। ছবি: এএফপি
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর পরবর্তী নেতৃত্ব নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, সব কিছু সাংবিধানিক নিয়ম অনুযায়ী চলছে এবং আগামী এক বা দুই দিনের মধ্যেই নতুন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচিত হতে পারেন।
আজ রোববার (১লা মার্চ) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আরাগচি এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। খবর আল জাজিরার।
তিনি বলেছেন, ‘ইরানের রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো সক্রিয় আছে এবং আমাদের সংবিধানে নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া রয়েছে। আপনারা হয়তো আগামী এক-দুই দিনের মধ্যেই নতুন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচনের খবর দেখতে পাবেন।’
আরাগচি জানান, নতুন নেতা নির্বাচিত হওয়ার আগ পর্যন্ত তিন সদস্যের একটি ‘ট্রানজিশন কাউন্সিল’ বা অন্তর্বর্তীকালীন পরিষদ নেতৃত্বের দায়িত্বে থাকবে। এই পরিষদে রয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট, বিচার বিভাগের প্রধান এবং গার্ডিয়ান কাউন্সিলের একজন ফকিহ (আইনবিদ)।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেন, ‘অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস (বিশেষজ্ঞ পরিষদ) নতুন নেতা নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু করেছে। আমি আশা করছি, খুব অল্প সময়ের মধ্যেই এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। সব কিছু আমাদের আইনি কাঠামো ও সংবিধান মেনেই সুশৃঙ্খলভাবে চলছে।’
সাক্ষাৎকারে আরাগচি পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোর প্রতি বন্ধুত্বের বার্তা দেন। তিনি বলেন, ‘পারস্য উপসাগরের অপর প্রান্তের দেশগুলোর সঙ্গে আমাদের কোনো বিরোধ নেই। তাদের সঙ্গে আমাদের বন্ধুত্বপূর্ণ ও প্রতিবেশীসুলভ সম্পর্ক রয়েছে এবং আমরা তা বজায় রাখতে বদ্ধপরিকর।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা আমাদের ভাই বা প্রতিবেশীদের ওপর হামলা করছি না। আমাদের পাল্টা হামলাগুলো কেবল মার্কিন লক্ষ্যবস্তুগুলোতে চালানো হচ্ছে। এটি মূলত যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে আমাদের আত্মরক্ষা এবং প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা।’
আলোচনা চলাকালীন যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলার সমালোচনা করে আরাগচি বলেন, ইরান সব সময় কূটনীতির পথে হাটতে আগ্রহী। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র আলোচনার টেবিলে থাকা অবস্থাতেই দ্বিতীয়বারের মতো ইরানের ওপর হামলা চালিয়েছে। এটা তাদের দ্বিমুখী আচরণ প্রকাশ করে।
খবরটি শেয়ার করুন