মঙ্গলবার, ৭ই এপ্রিল ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
২৩শে চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ

*** এক–এগারোর ‘সুবিধাভোগী’ সাংবাদিকদের জবাবদিহির মুখোমুখি করতে চায় সরকার *** চীন সফরে যাচ্ছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদারে গুরুত্ব *** জুলাই জাতীয় সনদ ঘিরে অনড় সরকার–বিরোধী দল, সমঝোতা নেই *** তারেক রহমান সরকারের প্রথম একনেক সভা *** মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে খেলাধুলার বিকল্প নেই: ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী *** প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ভারতীয় হাইকমিশনারের সৌজন্য সাক্ষাৎ *** নতুন সরকারের প্রথম একনেক বৈঠক আজ, অগ্রাধিকার পাচ্ছে ১৭ প্রকল্প *** নিষিদ্ধ করলেই রাজনীতি থেকে আওয়ামী লীগের শক্তি বিলীন হয়ে যাবে না *** ইরানে যুদ্ধের প্রভাবে ভারতে কনডমের দাম বাড়তে পারে *** সোমবার ইরানের শেষ সুযোগ, মঙ্গলবার পাওয়ার প্ল্যান্ট গুঁড়িয়ে দেবেন ট্রাম্প

লাল রঙের কাপড়েই কেন লেপ সেলাই করা হয়?

নিজস্ব প্রতিবেদক

🕒 প্রকাশ: ০৫:৫০ অপরাহ্ন, ২৩শে এপ্রিল ২০২৪

#

ছবি: সংগৃহীত

সময়টা হেমন্তের মাঝামাঝি হলেও শীত কিন্তু এখনই আসি আসি করছে। খুব সকালে কিংবা শেষ বিকেলে হালকা কুয়াশাই তার জানান দিয়ে যাচ্ছে। এদিকে শীত এলেই শুরু হয় লেপ-কম্বল কেনার চল। বর্তমানে পাতলা কিন্ত বেশ গরম সব বিদেশি কম্বলে বাজার সয়লাব হলেও লেপের কদর বাঙালিদের কাছে একেবারেই আলাদা। কিন্তু কখনো ভেবে দেখেছেন, লেপ তৈরিতে কেন সবসময় লাল রঙের কাপড় ব্যবহার করা হয়?

বাজারে এবং প্রায় সবার ঘরেই নানা রঙের কাঁথা, কম্বল, তোশক এবং চাদর থাকলেও লেপের ক্ষেত্রে দাপট বেশি থাকে লাল রঙের। এমনকি শীত এলেই দোকানগুলো ছেয়ে যায় লাল রঙের লেপে। প্রায় সবার ছাদেই রোদে শুকাতে দেখা যায় লালরঙা লেপ। কেন লেপের ক্ষেত্রে এই রঙেরই ব্যবহার?

ইতিহাস থেকে দেখা যায়, পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের মুর্শিদাবাদের নিজস্ব শিল্প ছিল লেপ নির্মাণ। তবে এর জনপ্রিয়তা ছিল অবিভক্ত বাংলার সর্বত্র। লেপ তৈরির জন্য লম্বা আঁশের কার্পাস তুলার বীজ ছাড়িয়ে, তা ডোবানো হতো লাল রঙে। পরে সেগুলো শুকিয়ে মোলায়েম সিল্ক এবং মখমলের মাঝে দেয়া হতো। সেই মখমলের রং ছিল লাল। এ ছাড়া সুগন্ধের জন্য এতে ব্যবহার করা হতো আতর।

বাংলার প্রথম নবাব মুর্শিদকুলি খানের আমল থেকেই রীতি অনুযায়ী লাল মখমলের কাপড় ব্যবহার করে লেপ সেলাই করা হতো। এরপর মুর্শিদকুলি খানের জামাতা নবাব সুজাউদ্দিন মখমলের পরিবর্তে সিল্ক কাপড় ব্যবহার শুরু করেন। তবে রঙের কোনো পরিবর্তন আসেনি। মখমল ও সিল্ক কাপড়ের মূল্য জনসাধারণের হাতের নাগালে না থাকার কারণে, পরবর্তী সময়ে সাধারণ কাপড় ব্যবহার করে লেপ তৈরির চল শুরু হয়। তবে কাপড়ের রং লালই থেকে যায়।

আরো পড়ুন: বাঙালি রমণীদের শাড়ির ইতিহাস

এদিকে লেপ বানানোর কারিগরদের মতে, তারা ছোটবেলা থেকেই লেপের রং লাল দেখে এসেছেন। আর শুনেছেন, ঢাকার নবাবদের আমলেও লেপ তৈরির জন্য লাল রঙের কাপড় ব্যবহৃত হতো। আর এভাবেই লেপ বানানোর রীতিতে এসেছে লাল রং। লেপে লাল রঙের কাপড় ব্যবহারের কারণ হিসেবে আরও বলা হয়, লেপ কখনো ধোয়া যায় না। আর লাল কাপড়ে ময়লাও অপেক্ষাকৃত কম চোখে পড়ে।

এসব প্রচলিত তত্ত্ব নিয়ে মতভেদ রয়েছে। তবে অনেকেই মনে করেন, ইতিহাস বা ঐতিহ্যের রীতি মেনে নয়, ব্যবসার খাতিরে ক্রেতার দৃষ্টি আকর্ষণ করতেই লাল কাপড় দিয়ে লেপ তৈরি করা হয়। দূর থেকেই লাল রং ক্রেতার দৃষ্টি খুব সহজেই আকৃষ্ট করতে পারে। যদিও এ ব্যাপারে নির্দিষ্ট কোনো প্রমাণ নেই।

এম এইচ ডি/

কাঁথা কম্বল লাল রঙের কাপড় লেপ সেলাই তোশক

সুখবর এর নিউজ পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

খবরটি শেয়ার করুন

Footer Up 970x250