মঙ্গলবার, ৭ই এপ্রিল ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
২৩শে চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ

*** এক–এগারোর ‘সুবিধাভোগী’ সাংবাদিকদের জবাবদিহির মুখোমুখি করতে চায় সরকার *** চীন সফরে যাচ্ছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদারে গুরুত্ব *** জুলাই জাতীয় সনদ ঘিরে অনড় সরকার–বিরোধী দল, সমঝোতা নেই *** তারেক রহমান সরকারের প্রথম একনেক সভা *** মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে খেলাধুলার বিকল্প নেই: ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী *** প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ভারতীয় হাইকমিশনারের সৌজন্য সাক্ষাৎ *** নতুন সরকারের প্রথম একনেক বৈঠক আজ, অগ্রাধিকার পাচ্ছে ১৭ প্রকল্প *** নিষিদ্ধ করলেই রাজনীতি থেকে আওয়ামী লীগের শক্তি বিলীন হয়ে যাবে না *** ইরানে যুদ্ধের প্রভাবে ভারতে কনডমের দাম বাড়তে পারে *** সোমবার ইরানের শেষ সুযোগ, মঙ্গলবার পাওয়ার প্ল্যান্ট গুঁড়িয়ে দেবেন ট্রাম্প

মিরপুরে বাংলাদেশের বিপক্ষে লজ্জার রেকর্ড পাকিস্তানের

ক্রীড়া প্রতিবেদক

🕒 প্রকাশ: ০৫:৫৩ অপরাহ্ন, ১১ই মার্চ ২০২৬

#

পাকিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশ আজ এমন উদযাপনের উপলক্ষ পেয়েছে বারবার। ছবি: বিসিবি

মিরপুরের উইকেট কেমন হবে—বাংলাদেশ-পাকিস্তান সিরিজ শুরুর আগেই এটা নিয়ে চলতে থাকে আলাপ-আলোচনা। ব্যাটারদের বধ্যভূমি নামে পরিচিত এই উইকেটে রীতিমতো বোলারদের রাজত্ব দেখা যায়। আজ সিরিজের প্রথম ওয়ানডের প্রথম ইনিংসে দেখা গেল তেমন কিছুই।

তবে এখানে উইকেটের যতটা না দায়, তার চেয়ে বেশি কৃতিত্ব বাংলাদেশের বোলারদের। বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে লজ্জার রেকর্ডে নাম লিখিয়েছে পাকিস্তান।

পাকিস্তানের বিপক্ষে ওয়ানডে দিয়েই বছরের প্রথম আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলতে নামছে বাংলাদেশ। মিরপুরে সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে টস জিতে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ। আগে ব্যাটিং পেয়ে পাকিস্তান শুরুটা ধীরস্থিরভাবে করলেও পরে হঠাৎ হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে পাকিস্তান।

৭৩ রানে শেষ ১০ উইকেট হারিয়ে ১১৪ রানে গুটিয়ে যায় পাকিস্তান। ওয়ানডেতে এটাই বাংলাদেশের বিপক্ষে পাকিস্তানের সবচেয়ে কম রানে অলআউট হওয়ার রেকর্ড। এর আগে নর্দাম্পটনে ১৯৯৯ ওয়ানডে বিশ্বকাপে পাকিস্তানকে ১৬১ রানে অলআউট করেছিল বাংলাদেশ। সেই ম্যাচে বাংলাদেশ পেয়েছিল ৬১ রানের জয়।

গতকাল সংবাদ সম্মেলনে পাকিস্তান ওয়ানডে অধিনায়ক শাহিন শাহ আফ্রিদি জানিয়েছিলেন, তিন পাকিস্তানি ক্রিকেটারের অভিষেক হবে। তবে অভিষেক হয়েছে চার পাকিস্তানি ক্রিকেটার। সাহিবজাদা ফারহান, শামাইল হুসাইন, মাজ সাদাকাত, আবদুল সামাদ—অভিষিক্ত এই চার ক্রিকেটারের মধ্যে শুধু ফারহানের পাকিস্তানের জার্সি পরার অভিজ্ঞতা আগেও হয়েছে। আজ ফারহান-সাদাকাত ধীরস্থির ব্যাটিংয়ে উদ্বোধনী জুটিতে ৬০ বলে ৪১ রানের জুটি গড়েছেন।

ধীরস্থির গতিতে এগোতে থাকা পাকিস্তানের উদ্বোধনী জুটি ভেঙে ধসের সূচনা করেন নাহিদ রানা। দশম ওভারের শেষ বলে রানার অফস্টাম্পের বাইরের শর্ট বলে কাট করতে যান ফারহান। পয়েন্টে সহজ ক্যাচ তালুবন্দী করেন আফিফ হোসেন ধ্রুব।৩৮ বলে ৪ চারে ফারহান করেছেন ২৭ রান।

দলীয় ৪৪ রানেই পাকিস্তান হারাতে পারত দ্বিতীয় উইকেট। ১১তম ওভারের দ্বিতীয় বলে মিরাজকে তুলে মারতে যান শামাইল। বল যখন আকাশে তখন লং অফ থেকে দৌড়ে আসছিলেন তানজিদ হাসান তামিম এবং তাওহীদ হৃদয় লং অন থেকে দৌড়ে আসছিলেন। তবে কেউই ক্যাচ ধরতে পারেননি। যদিও ২ রানে জীবন পাওয়া শামাইল আউট হয়েছেন ৪ রানে। রানার শর্ট পিচ বলে পুল করতে গিয়ে উইকেটরক্ষক লিটন দাসের তালুবন্দী হয়েছেন শামাইল।

ফারহান-শামাইলের পর শর্ট বলে রানা ঘায়েল করেছেন মাজ সাদাকাত, মোহাম্মদ রিজওয়ান ও সালমান আলী আগাকেও। যেখানে সালমানের উইকেটে রানার চেয়ে অবদান বেশি তানজিদ হাসান তামিমের। ১৮তম ওভারের পঞ্চম বলে রানাকে গ্ল্যান্স করতে যান সালমান। শর্ট লেগে কয়েকবারের চেষ্টায় বল তালুবন্দী করেন তানজিদ তামিম।

রানার শর্ট বলে ঘায়েল হওয়া পাকিস্তান এরপর মেহেদী হাসান মিরাজ ঘূর্ণি এবং তাসকিন আহমেদ ও মোস্তাফিজুর রহমানের পেসে মুখ থুবড়ে পড়ে। আবদুল সামাদ, হুসেইন তালাত ও শাহিন শাহ আফ্রিদিকে ফিরিয়েছেন। যেখানে ১৯তম ওভারের শেষ বলে সামাদকে কট বিহাইন্ড করেন মিরাজ। সামাদ রিভিউ নিলে দেখা যায়, ব্যাটের কানা ছুঁয়ে বল চলে গেছে লিটনের গ্লাভসে। শূন্য রানে আউট হওয়ার পাশাপাশি একটা রিভিউও নষ্ট করে গেছেন সামাদ।

২৩তম ওভারে বোলিংয়ে এসে হুসেইন তালাত ও শাহিন আফ্রিদিকে ফিরিয়ে জোড়া ধাক্কা দিয়েছেন মিরাজ। তালাত, আফ্রিদি দুজনেই চার রান করে আউট হয়েছেন। যেখানে তালাতের বিপক্ষে আম্পায়ার আউট না দিলেও রিভিউ নিয়ে আউট করেছেন মিরাজ। এরপর ২৪তম ওভারের পঞ্চম বলে মোহাম্মদ ওয়াসিম জুনিয়রকে (০) ফেরান তাসকিন। তাতে ২৩.৫ ওভারে ৯ উইকেটে ৮২ রানে পরিণত হয় পাকিস্তান।

১০০ রানে আউট হওয়া পাকিস্তানের কাছে সময়ের ব্যাপার হলেও ফাহিম আশরাফ তা হতে দেননি। আট নম্বরে নামা ফাহিম ৪৭ বলে ৬ চার ও ১ ছক্কায় করেছেন ৩৭ রান। দশম উইকেটে আবরার আহমেদের সঙ্গে ৪১ বলে ৩২ রানের জুটি গড়তে অবদান রাখেন ফাহিম। যা পাকিস্তানের ইনিংসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ জুটি। ৩১তম ওভারের চতুর্থ বলে ফাহিমকে ফিরিয়ে পাকিস্তানকে গুটিয়ে দেন মোস্তাফিজুর রহমান। ৩০.৪ ওভারে ১১৪ রানে অলআউট হওয়া সফরকারীদের ইনিংসে সর্বোচ্চ ৩৭ রান করেন ফাহিম।

বাংলাদেশের বোলারদের মধ্যে নাহিদ রানা ৭ ওভারে ২৪ রানে নিয়েছেন ৫ উইকেট। ওয়ানডেতে এটা তার ক্যারিয়ারসেরা বোলিং। মিরাজ নিয়েছেন ৩ উইকেট। একটি করে উইকেট নিয়েছেন তাসকিন ও মোস্তাফিজ।

ওয়ানডেতে বাংলাদেশের দ্বিতীয় বোলার হিসেবে পাকিস্তানের বিপক্ষে ইনিংসে ৫ উইকেট নিয়েছেন নাহিদ। এর আগে ২০১৯ ওয়ানডে বিশ্বকাপে এই কীর্তি গড়েছিলেন মোস্তাফিজ। লর্ডসে সেবার পাকিস্তানের বিপক্ষে ১০ ওভারে ৭৫ রানে ৫ উইকেট নিয়েছিলেন তিনি।

বাংলাদেশ ক্রিকেট দল

সুখবর এর নিউজ পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

খবরটি শেয়ার করুন

Footer Up 970x250