মঙ্গলবার, ৭ই এপ্রিল ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
২৪শে চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

রাতেই ইরানকে শেষ করে দেওয়া হতে পারে: ট্রাম্প

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

🕒 প্রকাশ: ০৯:০৬ পূর্বাহ্ন, ৭ই এপ্রিল ২০২৬

#

ছবি: সংগৃহীত

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, ইরান যদি তার বেঁধে দেওয়া সময়সীমার মধ্যে চুক্তি না করে, তাহলে ‘এক রাতেই’ দেশটিকে শেষ করে দেওয়া হবে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পথ হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করার শর্তে এই চুক্তির কথা বলছেন তিনি। সূত্র- বিবিসি।

ট্রাম্পের বেঁধে দেওয়া ডেডলাইন হলো মঙ্গলবার রাত ৮টা, ওয়াশিংটন সময় (বুধবার বাংলাদেশ সময় ভোর ৬টা)। এই চুক্তিতে উপসাগর দিয়ে জ্বালানির অবাধ প্রবাহ নিশ্চিত করার শর্ত থাকতে হবে।

সোমবার হোয়াইট হাউসে সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প বলেন, ‘পুরো দেশটাকে এক রাতেই শেষ করে দেওয়া যায়, আর সেই রাতটা হয়তো আগামীকালই।’ ডেডলাইন পেরিয়ে গেলে ইরানকে ‘প্রস্তর যুগে’ পাঠিয়ে দেওয়া হবে বলে আবারও হুঁশিয়ারি দেন তিনি। তিনি বলেন, ‘তাদের কোনো সেতু থাকবে না। তাদের কোনো বিদ্যুৎকেন্দ্র থাকবে না।’

যৌথ বাহিনীপ্রধান জেনারেল ড্যান কেইন এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথকে পাশে নিয়ে এই সংবাদ সম্মেলন করেন ট্রাম্প। ট্রাম্প বলেন, তিনি বিশ্বাস করেন ইরানের ‘বিচক্ষণ’ নেতারা ‘সৎ বিশ্বাসে’ আলোচনা করছেন। তবে ফলাফল এখনো অনিশ্চিত।

অন্যদিকে ইরান সাময়িক যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে। তারা চায় স্থায়ী যুদ্ধবিরতি এবং সব নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া। আলোচনার সঙ্গে থাকা এক আঞ্চলিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, যুদ্ধবিরতি ছাড়া কোনো অর্থবহ অগ্রগতি সম্ভব নয়। তিনি আরও জানান, যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতার কারণে ইরানি কর্মকর্তাদের কাছে বার্তা পাঠানো এবং জবাব পাওয়া অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে। তিনি বলেন, ‘ইরানের কাছে বার্তা পাঠিয়ে যুক্তিসংগত সময়ের মধ্যে জবাব পাওয়া সম্ভব হচ্ছে না। গড়ে একদিনের মতো সময় লাগছে।’ পাকিস্তান, তুরস্ক ও মিশর মধ্যস্থতার চেষ্টা করছে বলে জানা গেছে। 

এদিকে আইন বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে ইরানের অবকাঠামোতে পরিকল্পিত ও টানা হামলা যুদ্ধাপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। ওবামা আমলের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সাবেক আইন উপদেষ্টা টেস ব্রিজম্যান বলেন, ‘সব বিদ্যুৎকেন্দ্র গুঁড়িয়ে দেওয়া এবং একটি সরকারকে আলোচনায় বাধ্য করতে বেসামরিক জনগণের বিরুদ্ধে চাপমূলক পদক্ষেপ নেওয়া — এসব সম্পূর্ণ বেআইনি।’

তবে ট্রাম্প বলেছেন, এই বিষয়ে তিনি ‘চিন্তিত নন’। তিনি দাবি করেন, ইরানের জনগণ ‘স্বাধীনতার জন্য কষ্ট সহ্য করতে রাজি আছে।’

ট্রাম্প এই সংঘাতে সহায়তা না করার জন্য যুক্তরাজ্য, ন্যাটো ও দক্ষিণ কোরিয়ার সমালোচনাও করেন। তিনি বলেন, ‘এটা ন্যাটোর জন্য এমন একটি কলঙ্ক যা কখনো মুছবে না।’ তিনি আরও বলেন, আমেরিকার যুক্তরাজ্যকে ‘দরকার নেই।’

মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত ইরানে ১৩ হাজারেরও বেশি হামলা চালানো হয়েছে।

জে.এস/

ডোনাল্ড ট্রাম্প

সুখবর এর নিউজ পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

খবরটি শেয়ার করুন

Footer Up 970x250