মঙ্গলবার, ৭ই এপ্রিল ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
২৪শে চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ

*** সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী আটক *** আজ থেকে সংসদ চলবে দুই বেলা, প্রথম অধিবেশন সকাল সাড়ে ১০টায় *** এক–এগারোর ‘সুবিধাভোগী’ সাংবাদিকদের জবাবদিহির মুখোমুখি করতে চায় সরকার *** চীন সফরে যাচ্ছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদারে গুরুত্ব *** জুলাই জাতীয় সনদ ঘিরে অনড় সরকার–বিরোধী দল, সমঝোতা নেই *** তারেক রহমান সরকারের প্রথম একনেক সভা *** মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে খেলাধুলার বিকল্প নেই: ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী *** প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ভারতীয় হাইকমিশনারের সৌজন্য সাক্ষাৎ *** নতুন সরকারের প্রথম একনেক বৈঠক আজ, অগ্রাধিকার পাচ্ছে ১৭ প্রকল্প *** নিষিদ্ধ করলেই রাজনীতি থেকে আওয়ামী লীগের শক্তি বিলীন হয়ে যাবে না

কিছুতেই ‘হ্যাঁ’কে জিততে দেওয়া হবে না: মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম

নিজস্ব প্রতিবেদক

🕒 প্রকাশ: ১১:৩৮ অপরাহ্ন, ৪ঠা ফেব্রুয়ারি ২০২৬

#

ফাইল ছবি

১২ই ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন জুলাই সনদ বাস্তবায়নে যে গণভোট অনুষ্ঠিত হবে, সেখানে কিছুতেই ‘হ্যাঁ’কে জিততে দেওয়া হবে না বলে উল্লেখ করেছেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সাবেক সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম।

‘ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নীতিনির্ধারণে আদিবাসী জনগণের প্রত্যাশা’ শীর্ষক এক আলোচনায় এ কথা বলেন মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম।

মুজাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘হ্যাঁ’, ‘না’ ভোট, এটা হলো অপ্রয়োজনীয়, প্রতারণাপূর্ণ। সেখানে কিছুতেই ‘হ্যাঁ’ ভোটকে জিততে দেওয়া হবে না।

গতকাল মঙ্গলবার (৩রা ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর দ্য ডেইলি স্টার কনফারেন্স হলে জাতীয় পর্যায়ে এই গোলটেবিল আলোচনার আয়োজন করে আদিবাসী যুব ফোরাম।

যারা ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে, তারা ইতিমধ্যে হেরে গেছে উল্লেখ করে মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেন, ‘তার প্রমাণ, জনগণের ওপরে যদি ছেড়ে দিত, তারা বুঝে গেছে এটা “হ্যাঁ”–এর পক্ষে যাবে না। তার জন্য সরকারি টাকা খরচ করে প্রশাসনকে অর্ডার দিয়ে সবকিছু করা হচ্ছে।’

মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম পাহাড় ও সমতলের বিভিন্ন ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর সদস্যদের নিজেদের অধিকার নিয়ে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের সামাজিক কাঠামো আদিবাসী জনগোষ্ঠীকে সব সময় বঞ্চিত করেছে। এর অন্যতম কারণ, তাদের কণ্ঠস্বর দুর্বল।’

গণ–অভ্যুত্থানের পর নয়া বন্দোবস্তের কথা বলা হলেও বাস্তবে সমাজের প্রতিটি স্তরে বৈষম্য এখনো বিরাজমান বলে উল্লেখ করে মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম। তিনি বলেন, দেশ পরিচালিত হওয়ার কথা ছিল জনগণের কথায়, জনগণের ইচ্ছায়। সংস্কারের কথা বলে দেশকে পেছনে নেওয়ার জন্য স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি উঠেপড়ে লেগেছে।

আগামী দিনে গরিব, মেহনতি, ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা না হলে আবারও একটা গণ–অভ্যুথান সৃষ্টি হবে বলে উল্লেখ করেন এই বামপন্থী রাজনীতিবিদ।

আলোচনায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন আদিবাসী যুব ফোরামের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক সতেজ চাকমা। তিনি বলেন, ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী অধিবাসীদের পেছনে রেখে অন্তর্ভুক্তিমূলক রাষ্ট্র গঠন সম্ভব নয়। যদিও দেশের রাজনৈতিক দলগুলোও বিষয়টিকে কখনো গুরুত্ব দেয়নি।

সতেজ চাকমা মানবাধিকার সংগঠন কাপেং ফাউন্ডেশনের বরাতে জানান, ২০২৫ সালে বাংলাদেশে ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর ওপর ৯৩টি মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে ৪১টি ঘটনা রাজনৈতিক ও নাগরিক অধিকার লঙ্ঘন–সম্পর্কিত। এসব ঘটনায় ৯ ধরনের মানবাধিকার লঙ্ঘিত হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

সতেজ চাকমা বলেন, ‘জুলাই অভ্যুত্থানের পর আমরা আশা করেছিলাম, অন্তর্ভুক্তিমূলক রাষ্ট্র গঠিত হবে, কিন্তু বাস্তবে সেটা হয়নি; বরং অনেকগুলো কমিশন হলেও আদিবাসীদের নিয়ে কোনো কমিশন গঠিত হয়নি। তারা উপেক্ষিত থেকে গেছে।’

সতেজ চাকমা আদিবাসী যুব ফোরামের পক্ষ থেকে রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে ছয়টি দাবি উত্থাপন করেন। এর মধ্যে রয়েছে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর পরিচয়ের স্বীকৃতি; ভূমি অধিকারের স্বীকৃতি; পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি দ্রুত ও পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন; প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির চাকরিতে ৫ শতাংশ কোটা পুনর্বহাল; সংসদে আসন সংরক্ষণ ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী জাতিসমূহের নিজ নিজ ভাষায় প্রাথমিক শিক্ষা চালু।

মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম

সুখবর এর নিউজ পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

খবরটি শেয়ার করুন

Footer Up 970x250