ফাইল ছবি
চট্টগ্রাম বন্দরের আধুনিক লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনাল নির্মাণ ও পরিচালনার জন্য ডেনমার্কভিত্তিক মায়ের্স্ক গ্রুপের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান এপিএম টার্মিনালসের সঙ্গে ৩০ বছরের কনসেশন চুক্তি স্বাক্ষর করতে যাচ্ছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে আজ সোমবার (১৭ই নভেম্বর) সকাল ১০টায় এ চুক্তি স্বাক্ষর হবে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ অথরিটির (পিপিপিএ) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন। প্রধান অতিথি থাকবেন নৌ-পরিবহন উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন এবং বিশেষ অতিথি থাকবেন ডেনমার্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের স্টেট সেক্রেটারি লিনা গ্যান্ডলোস হ্যানসেন ও ঢাকায় নিযুক্ত ডেনমার্কের রাষ্ট্রদূত ক্রিস্টিয়ান ব্রিক্স মোলার।
সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, চুক্তির ফলে জাহাজের টার্ন অ্যারাউন্ড সময় দ্রুততর হবে এবং কম কনটেইনার ডুয়েল টাইমের মাধ্যমে রফতানিকারকেরা বিশেষ করে পোশাক, কৃষি প্রক্রিয়াকরণ ও হালকা প্রকৌশল খাতের উদ্যোক্তারা সময়মতো সরবরাহ দিতে সক্ষম হবেন।
এছাড়া দেশের অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক প্রবাহ, নতুন ইনল্যান্ড কনটেইনার ডিপো, কোল্ড চেইন ও শিল্পাঞ্চলের প্রসার বাড়বে। জ্বালানি দক্ষ প্রযুক্তি ও জলবায়ু অভিযোজন উদ্যোগের মাধ্যমে কার্বন নিঃসরণ কমবে এবং দেশের প্যারিস চুক্তি (জাতীয় নির্ধারিত অবদান) অর্জনে সহায়ক হবে।
চট্টগ্রাম বন্দরে একটি গ্লোবাল অপারেটর কেন জরুরি—এ প্রসঙ্গে গতকাল চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন নিজের ভ্যারিফাইড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে লেখেন, ‘বাংলাদেশের বন্দরে মূল চ্যালেঞ্জ হলো দুর্নীতি এবং দীর্ঘ ওয়েটিং টাইম। আমাদের প্রতিযোগী দেশগুলো যেমন ভিয়েতনাম বৈশ্বিক অপারেটর দ্বারা প্রযুক্তিনির্ভর বন্দর ব্যবস্থাপনা চালু করে তাদের কাই মেপ বন্দরকে বিশ্ব র্যাংকিংয়ে সপ্তম অবস্থানে নিয়ে গেছে। আমাদের চট্টগ্রাম বন্দরের অবস্থান ৪০৫টির মধ্যে ৩৩৪তম।'
তিনি লেখেন, 'আমাদের এমন অপারেটর প্রয়োজন, যারা নতুন প্রযুক্তি ও দক্ষ প্রক্রিয়া ব্যবহার করে আমাদের হয়ে সর্বোচ্চ ফলাফল অর্জন করতে পারবে। আমাদের তরুণ জনশক্তি তাদের কাছ থেকে বন্দর পরিচালনা শিখে একদিন নিজেরাই দেশে-বিদেশে পোর্টে নেতৃত্ব দেবে। সবচেয়ে বড় ব্যাপার, একটি দুর্নীতিমুক্ত বন্দর পাওয়ার আশা করতে পারি আমরা।’
উলেখ্য, লালদিয়া টার্মিনালের তিনটি জেটিতে বছরে আট লাখ কনটেইনার ওঠানো-নামানোর সক্ষমতা থাকবে। টার্মিনালটি নির্মাণে ৬০ কোটি মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করবে এপিএম টার্মিনালস।
খবরটি শেয়ার করুন