রবিবার, ৮ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
২৫শে মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ

*** সাবেক প্রিন্স অ্যান্ড্রুর দুই মেয়ের সঙ্গেও কুখ্যাত এপস্টেনের দেখাসাক্ষাৎ ছিল *** তারেক রহমানকে নিয়ে তথ্যচিত্র ‘সবার আগে হাসিমুখ’ *** ক্ষমতায় গেলে ‘বিডিআর’ নাম পুনর্বহাল করবে বিএনপি *** পুলিশের এমন আগ্রাসী মনোভাবের কারণ কী, প্রশ্ন আজহারির *** যৌন হয়রানির অভিযোগে বেরোবির ২ শিক্ষককে বরখাস্ত *** ‘আসমানে ফয়সালা হয়ে গেছে তারেক রহমানই আগামীর প্রধানমন্ত্রী’ *** ‘বিএনপিকে খুঁজে বের করতে হবে দলটির ভেতরে জামায়াতের হয়ে কারা কাজ করছে’ *** গণভোটে ‘না’ ভোট দেওয়া কোনো অপরাধ নয়: বায়তুল মোকাররমের খতিব *** এক ব্যক্তিনির্ভর ‘পাশা’র নির্বাচন পর্যবেক্ষক কার্ড স্থগিত *** গণমাধ্যমের কাছে দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা প্রত্যাশা করে সরকার: প্রেস সচিব

ক্ষমতায় গেলে ‘বিডিআর’ নাম পুনর্বহাল করবে বিএনপি

নিজস্ব প্রতিবেদক

🕒 প্রকাশ: ১২:৪৯ পূর্বাহ্ন, ৮ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬

#

ছবি: সংগৃহীত

‎রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত বিডিআরের নাম পুনর্বহাল করা হবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

তিনি বলেছেন, জনগণের রায়ে বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত বিডিআরের নাম পুনর্বহাল করা হবে। ওয়ান র‍্যাঙ্ক ওয়ান পে বাস্তবায়ন করা হবে। একই সঙ্গে সেনাবাহিনীর সঙ্গে আলোচনা করে পিলখানার হত্যাকাণ্ডের দিনটিকে শহীদ সেনা দিবস অথবা সেনা হত্যাযজ্ঞ দিবস অথবা জাতীয় শোক দিবস হিসেবে ঘোষণা করা হবে।

শনিবার (৭ই ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর র‍্যাডিসন ব্লু হোটেলে সশস্ত্র বাহিনীর সাবেক সদস্য ও পরিবারের সদস্যদের নিয়ে আয়োজিত ‘স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের সুদৃঢ় আস্থা’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। জাতীয়তাবাদী দল সংসদ নির্বাচন-২০২৬ সশস্ত্র বাহিনী-বিষয়ক উপকমিটি এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

অনুষ্ঠানে তারেক রহমান বলেন, ‘২০০৯ সালে পিলখানায় বিডিআর হত্যাকাণ্ডের পর সেনা হত্যাকাণ্ডের পর পতিত, পরাজিত, বিতাড়িত ফ্যাসিস্ট শক্তি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত বিডিআরের নাম পরিবর্তন করে দিয়েছিল। এমনকি তাদের পোশাকের রংও পরিবর্তন করে ফেলা হয়েছে। আমি আপনাদের সামনে একটি ব্যক্তিগত অনুভূতি প্রকাশ করতে চাই। জনগণের রায়ে বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত বিডিআরের নাম পুনর্বহাল করা হবে ইনশা আল্লাহ।’

পিলখানা নিয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের ঘটনা না ঘটে, সেই লক্ষ্যে সেনাবাহিনীর সঙ্গে আলোচনা করে পিলখানায় সেনা হত্যাকাণ্ডের দিনটিকে শহীদ সেনা দিবস, অথবা সেনা হত্যাযজ্ঞ দিবস অথবা জাতীয় শোক দিবস হিসেবে ঘোষণা করা হবে।’

তারেক রহমান বলেন, ‘বক্তব্য দেওয়ার আগে সাবেক কয়েকজন জ্যেষ্ঠ সেনা কর্মকর্তা আমাকে সেনাবাহিনীর জন্য কিছু সুপারিশ তুলে দিয়েছেন। জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ গঠন, সেনা আইনের কিছু কিছু বিধিমালা পরিমার্জন বা সংস্কারসহ এসব সুপারিশ অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ বলে আমি মনে করি।'

তিনি বলেন, 'তবে এতটুকু বলতে পারি, ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনে জনগণের রায়ে বিএনপির রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলে আপনাদের উপস্থাপিত এসব সুপারিশমালা বাস্তবায়নের জন্য সেনাবাহিনীর সাবেক এবং বর্তমান সদস্যদের সমন্বয়ে আমরা একটি কমিটি গঠন করব। এই কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী দাবিদাওয়াগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে সুপারিশগুলো বাস্তবায়নের পরিকল্পনা আমাদের রয়েছে। একই সঙ্গে ওয়ান র‍্যাঙ্ক ওয়ান পে বাস্তবায়ন করা হবে।’

তারেক রহমান বলেন, ‘সেনাবাহিনী আমার কাছে বৃহত্তর পরিবার বলে মনে হয়। সেনানিবাসেই আমার বেড়ে ওঠা। ছোটবেলায় আমি আমার বাবাকে হারিয়েছি। আমি বড় হয়ে দেখেছি, সেনাবাহিনীর প্রতি আমার মা খালেদা জিয়ার একধরনের নির্ভরতা ছিল, সম্মান ছিল। আমার মা সব সময় মনে করতেন, দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য একটি শক্তিশালী সেনাবাহিনী থাকা দরকার।'

তিনি বলেন, 'সন্তান হিসেবে আমার পিতাকে নিয়ে যেমন আমি গর্ব করি, তেমনি আমি বিশ্বাস করি, একজন সেনা কর্মকর্তা হিসেবে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে সেনাবাহিনীকেও তিনি করেছিলেন গর্বিত। বাংলাদেশের স্বাধীনতাপ্রিয় জনগণের কাছে স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ জিয়া একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা।’

পিতাকে নিয়ে তারেক রহমান আরও বলেন, ‘শহীদ জিয়াকে নিয়ে দেশের গণতান্ত্রিক জনগণ যেমন গর্বিত, আমি বিশ্বাস করি এবং আমার পরিবারও বিশ্বাস করে, বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীও তেমন গর্বিত। জনগণ দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্বের জন্য নির্ভরযোগ্য প্রহরী হিসেবে মনে করে। সেনাবাহিনীকে ভিন্ন কাজে সংযুক্ত করা হলে সেনাবাহিনীর মূল উদ্দেশ্য ব্যাহত হয় বলে মনে করি।’

আওয়ামী লীগ আমলের প্রসঙ্গ টেনে তারেক বলেন, ‘বিগত দেড় দশকে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সেনাবাহিনীর ভূমিকা এবং গৌরব সম্পর্কে সেনা কর্মকর্তা ও সদস্যরা নিজেরা নিজেদের বিবেককে জিজ্ঞেস করলে হয়তো অনেক প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যাবে। দেশ তাঁবেদার এবং অপশক্তির কবলে পড়ার পর দেশের গণতন্ত্র হরণ হয়নি শুধু, একই সঙ্গে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব হুমকির মুখে পড়েছিল। এমনকি পিলখানায় পরিকল্পিত সেনা হত্যাকাণ্ডের দিনেও সেনাবাহিনী যথাযথ ভূমিকা রাখতে পারেনি বা রাখতে দেওয়া হয়নি।'

তিনি বলেন, 'সেনাবাহিনীর হারিয়ে যাওয়া গৌরব ফিরিয়ে দেওয়া হবে, আমি এ রকম কথা বলতে চাই না। গৌরব ফিরিয়ে দেওয়া যায় না, এটা অর্জনের বিষয়। গৌরব ধারণ করার বিষয়। সেনাবাহিনীর গৌরব সেনাবাহিনীকে রক্ষা করতে হবে। সেনাবাহিনীর নিজেদের সম্মান এবং মর্যাদা সম্পর্কে নিজেদেরই সতর্ক ও সচেতন থাকতে হবে।’

বিএনপি চেয়ারম্যানের প্রতিরক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) ফজলে এলাহী আকবর স্বাগত বক্তব্য দেন। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের এডিসি কর্নেল (অব.) হারুনুর রশিদ খান, মেজর (অব.) জামাল হয়দার, বিডিআরের সাবেক মহাপরিচালক (ডিজি) মেজর জেনারেল শাকিল আহমেদের সন্তান রাকিন আহমেদ প্রমুখ।

তারেক রহমান

সুখবর এর নিউজ পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

খবরটি শেয়ার করুন

Footer Up 970x250