ব্রিটিশ-ভারতীয় ঔপন্যাসিক সালমান রুশদি। ছবি: দ্য ইনডিপেনডেন্ট
বিখ্যাত ব্রিটিশ-ভারতীয় ঔপন্যাসিক সালমান রুশদি বলেছেন, তিনি চান মানুষ তাকে মূলত তার বইয়ের জন্য মনে রাখুক—শুধু মতপ্রকাশের প্রতীক হিসেবে নয়। মজা করে তিনি বলেন—মতপ্রকাশের প্রতীক হিসেবে তাকে দেখাটা তার কাছে কিছুটা হতাশাজনক। খবর দ্য ইনডিপেনডেন্টের।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউ অর্লিন্স বুক ফেস্টিভ্যালে সাংবাদিক জর্জ পেকারের সঙ্গে আলাপচারিতায় রুশদি বলেন, তিনি নিজেকে কোনো প্রতীক হিসেবে ভাবেন না। বরং তিনি নিজেকে একজন কর্মরত লেখক হিসেবেই দেখতে চান।
রুশদি বলেন, ‘আমি প্রতীক নই, আমি বাস্তব একজন মানুষ। আমি একজন লেখক, যে তার কাজ করে যেতে চায়। ২৩টি বই লেখার পরও যদি আমাকে কোনো বইয়ের জন্য নয়, বরং ১৯৮৯ সালে একটি বইকে ঘিরে ঘটে যাওয়া ঘটনার জন্য বেশি মনে রাখা হয়, সেটা কিছুটা হতাশাজনক।’
২০২২ সালের আগস্টে নিউইয়র্কের চৌতাকুয়া ইনস্টিটিউশনে এক অনুষ্ঠানে বক্তৃতা দিতে গিয়ে ছুরিকাঘাতের শিকার হন রুশদি। হাদি মাতার নামে ২৭ বছর বয়সী এক যুবক সেদিন তার ওপর হামলা চালান। মাত্র ২৭ সেকেন্ডের সেই হামলায় রুশদি গুরুতর আহত হন। তাকে ছয় সপ্তাহ হাসপাতালে থাকতে হয় এবং একটি চোখের দৃষ্টি হারান। তার একটি হাতও আংশিকভাবে অকার্যকর হয়ে পড়ে।
অনেকের ধারণা, ১৯৮৮ সালে প্রকাশিত রুশদির উপন্যাস ‘দ্য স্যাটানিক ভার্সেস’-এর জন্য ইরানের তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনি যে ফতোয়া দিয়েছিলেন, তার জের ধরেই হামলার ঘটনাটি ঘটে।
এই হামলার ঘটনায় মাতারকে ২০২৫ সালের মে মাসে হত্যাচেষ্টার দায়ে ২৫ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। হামলার অভিজ্ঞতা নিয়ে রুশদি লিখেছেন স্মৃতিকথা ‘নাইফ: মেডিটেশনস আফটার অ্যান এটেমপ্টড মার্ডার’। তিনি বলেন, ‘বইটি লেখা ছিল প্রায় অসহনীয়, আবার না লিখলেও যেন সহ্য করা সম্ভব ছিল না।’
বইটি শেষ করার পর তিনি আবার গল্প লেখার অনুপ্রেরণা ফিরে পেয়েছিলেন। ২০২৫ সালের নভেম্বরে প্রকাশিত হয় তার নতুন গল্পসংকলন ‘দ্য ইলেভেনথ আওয়ার’।
মতপ্রকাশের স্বাধীনতা প্রসঙ্গে রুশদি বলেন, ইতিহাসে অধিকাংশ সময়ই ধনী ও ক্ষমতাবান গোষ্ঠী, ধর্মীয় কর্তৃপক্ষ এবং রাজনৈতিক শক্তি থেকেই সেন্সরশিপের চাপ এসেছে। তবে বর্তমানে তরুণ লেখকদের মধ্যে আত্ম-নিয়ন্ত্রণ বা আত্ম-সেন্সরশিপের প্রবণতাও বাড়ছে বলে তিনি মনে করেন।
রুশদির মতে, শিল্প ও সাহিত্য স্বভাবতই বিভিন্ন অভিজ্ঞতা ধার করে তৈরি হয়। তিনি বলেন, ‘যদি একজন লেখক শুধু নিজের অভিজ্ঞতাই লিখতে পারেন, তাহলে মানবজীবনের বিশাল অভিজ্ঞতার ভান্ডার খুব দ্রুতই ফুরিয়ে যাবে।’
খবরটি শেয়ার করুন