মঙ্গলবার, ১৭ই মার্চ ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
২রা চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ

*** ‘পিনাকী, ডাস্টবিন শফিক, গোলাম মোর্তোজার অনুরোধে গ্রেপ্তার’ *** কফি পানের ভিডিওটিও এআই দিয়ে তৈরি, নেতানিয়াহু আসলে কোথায় *** স্ত্রীর সঙ্গে ‘গর্ভবতী’ বোধ করেন স্বামীও, কিন্তু কেন *** উত্তরায় শপিং মলে ভাঙচুর-লুটপাটের ঘটনায় ৭০০ জনকে আসামি করে মামলা, গ্রেপ্তার ৫ *** মতপ্রকাশের প্রতীক নয়, লেখক হিসেবে অমরত্ব চান সালমান রুশদি *** মওদুদ আহমদের সেই লেখা প্রসঙ্গে যা জানালেন নঈম নিজাম *** ক্ষমতায় এলেও তারেক রহমানের সামনে যে ‘বিপদ’ দেখছেন মাহফুজ আনাম *** তারেক রহমানকে ৯ আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনের চিঠি *** ‘ধর্মীয় পরিচয় এড়িয়ে প্রথাবিরোধী পরিচিতি তুলে ধরছে জামায়াত’ *** সাত বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন উপাচার্য, ইউজিসিতে নতুন চেয়ারম্যান

স্ত্রীর সঙ্গে ‘গর্ভবতী’ বোধ করেন স্বামীও, কিন্তু কেন

নিজস্ব প্রতিবেদক

🕒 প্রকাশ: ১২:১০ পূর্বাহ্ন, ১৭ই মার্চ ২০২৬

#

ছবি: সংগৃহীত

স্ত্রী অন্তঃসত্ত্বা, কিন্তু তার শারীরিক সব উপসর্গ; যেমন বমি বমি ভাব, অবসাদ এমনকি পিঠের ব্যথা অনুভব করছেন স্বামী। শুনতে অবাক লাগলেও চিকিৎসাবিজ্ঞানে এটি ‘কুভেড সিনড্রোম’ (Couvade syndrome) নামে পরিচিত।

সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে, প্রায় অর্ধেক হবু বাবা বা সঙ্গী এই বিচিত্র অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যান, যা বিজ্ঞানীদের বাবা হওয়ার মনস্তাত্ত্বিক ও জৈবিক প্রক্রিয়া সম্পর্কে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করছে। খবর বিবিসির।

যুক্তরাজ্যের ইস্ট মিডল্যান্ডসের বাসিন্দা ৩৪ বছর বয়সী কনটেন্ট ক্রিয়েটর অ্যালেক্স জোনস জানান, তার স্ত্রী যখন ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা, তখন থেকে প্রায় প্রতি রাতে তিনি বমি বমি ভাব অনুভব করতে শুরু করেন।

তিনি বলেন, ‘আমার সাধারণত সহজে বমি বা অসুস্থতা বোধ হয় না। তাই যখন হঠাৎ এই বমি বমি ভাব শুরু হলো, তখনই বুঝলাম, অস্বাভাবিক কিছু হচ্ছে। তখন আমি তীব্র বমি বমি ভাব ছাড়াও মারাত্মক ক্লান্তি এবং হাত ও বুকে ব্যথা অনুভব করতে শুরু করি। অদ্ভুত বিষয় হলো, আমি প্রায়ই হাত অবশ হয়ে ঘুম থেকে জেগে উঠতাম, যা সময়ে আমার স্ত্রীর ক্ষেত্রেও ঘটছিল।’

অনলাইনে খোঁজাখুঁজি করে অ্যালেক্স জানতে পারেন, তিনি আসলে ‘কুভেড সিনড্রোম’ বা ‘সিম্প্যাথেটিক প্রেগন্যান্সি’র শিকার।

ওহাইওর ক্লিভল্যান্ড ক্লিনিকের প্রসূতি ও স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ ক্যাথরিন ক্যাপোনেরো জানান, এই সিনড্রোমে আক্রান্তরা শুধু বমি বমি ভাব নয়, বরং ওজন বৃদ্ধি, মেজাজ পরিবর্তন, খাবারের প্রতি তীব্র আকাঙ্ক্ষা, এমনকি দাঁতব্যথার মতো উপসর্গও অনুভব করতে পারেন।

গবেষণায় দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ৫২ শতাংশ বাবা এই সিনড্রোমের শিকার হন। জর্ডানে এই হার ৫৯ শতাংশ এবং থাইল্যান্ডে ৬১ শতাংশ। পোল্যান্ড ও চীনে প্রতি ১০ জন হবু বাবার মধ্যে ৭ জনই এমন অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন। সুইডেন (২০ শতাংশ) ও রাশিয়ায় (৩৫ শতাংশ) এই প্রবণতা তুলনামূলক কম।

তবে প্রচলিত হওয়া সত্ত্বেও ‘কুভেড সিনড্রোম’ এখনো কোনো স্বীকৃত চিকিৎসা ব্যাধি হিসেবে তালিকাভুক্ত নয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, আন্তর্জাতিক রোগ শ্রেণিবিন্যাস (আইসিডি) বা আমেরিকান ডায়াগনস্টিক অ্যান্ড স্ট্যাটিসটিক্যাল ম্যানুয়াল—কোথাও এর উল্লেখ নেই।

মনোবিজ্ঞানী ড্যানিয়েল সিংলি বিবিসিকে বলেন, ‘এর নেপথ্যের প্রক্রিয়াটি এখনো রহস্যময়। এটি হয়তো আবেগীয় কোনো ব্যাপার বা স্নায়ুজৈবিক কোনো পরিবর্তনের ফল।’

‘কুভেড’ শব্দটি এসেছে ফরাসি শব্দ ‘কুভার’ থেকে, যার অর্থ ‘ডিমে তা দেওয়া’। ১৮৬৫ সালে ব্রিটিশ নৃতাত্ত্বিক এডওয়ার্ড বার্নেট টাইলার এই শব্দ প্রথম ব্যবহার করেন।

তবে এর ইতিহাস অনেক পুরোনো। যিশুর জন্মের ৫০ বছর আগেও কর্সিকা, সাইপ্রাস ও আইবেরীয় উপদ্বীপে হবু বাবাদের বিছানায় শুয়ে প্রসববেদনার অভিনয় করার নজির পাওয়া যায়। অতীতে এটি একটি আচার হিসেবে পালন করা হতো, যাতে অশুভ দৃষ্টি মায়ের বদলে বাবার ওপর পড়ে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি মূলত মানুষের গভীর সহানুভূতি বা এম্প্যাথির বহিঃপ্রকাশ। মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞানী রবিন এডেলস্টাইন এক পরীক্ষায় দেখেছেন, প্রথমবার বাবা হতে যাওয়া পুরুষদের শরীরে টেস্টোস্টেরন এবং এস্ট্রাডিওল হরমোনের মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। এই হরমোনজনিত পরিবর্তন পুরুষদের সন্তানের প্রতি অধিক যত্নশীল হতে এবং পরিবারের প্রতি দায়িত্বশীল হতে সাহায্য করে।

২০২৪ সালের একটি গবেষণায় দেখা গেছে, বাবা হওয়ার পর পুরুষের মস্তিষ্কের ‘গ্রে ম্যাটার’ বা ধূসর বস্তু সংকুচিত হয় (যেমনটি মায়েদের ক্ষেত্রে হয়), যা তাদের শিশুর চাহিদা বুঝতে এবং বন্ধন দৃঢ় করতে সাহায্য করে।

মনোবিজ্ঞানী সিংলি বলেন, সামাজিক কারণে অনেক পুরুষ তাদের এই শারীরিক বা মানসিক পরিবর্তনের কথা প্রকাশ করতে পারেন না। তারা ভাবেন, ‘আমি পুরুষ, আমি বিষণ্ন হতে পারি না, এটি দুর্বলতা।’ কিন্তু বাস্তবতা হলো, বাবা হওয়া একজন পুরুষের জীবনের অন্যতম বড় মাইলফলক, যা তার শরীর ও মনে ব্যাপক পরিবর্তন আনে।

নৃতত্ত্ববিদ রিচার্ড পাওইস বলেন, ‘গর্ভাবস্থা বা সন্তান জন্মের সময় কেউ যদি কোনোভাবে সঙ্গীকে সমর্থন করার জন্য কিছু করেন—আমি সেটাকেই কুভেড বলি।’ তার মতে, এটিকে রোগ হিসেবে দেখার দরকার নেই; বরং এটি মানুষের একে অপরের প্রতি যত্নশীল হওয়া এবং গভীর সহমর্মিতার একটি স্বাভাবিক দিক।

গবেষণা

সুখবর এর নিউজ পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

খবরটি শেয়ার করুন

Footer Up 970x250