ছবি: সংগৃহীত
গণবিক্ষোভের জেরে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার ১৭ মাস পর প্রথমবার ভারতে বসে সাংবাদিক সম্মেলন করলেন তার দল আওয়ামী লীগের নেতারা। তাদের দাবি, ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন আয়োজন করতে অক্ষম। সেই কারণেই আওয়ামী লীগকে নির্বাচনে লড়তে দেওয়া হচ্ছে না। শেখ হাসিনার দলের জনপ্রিয়তাকে ইউনূসেরা ভয় পাচ্ছেন, দাবি আওয়ামী লীগের।
গতকাল শনিবার (১৭ই জানুয়ারি) আওয়ামী লীগের নেতা হাছান মাহমুদ এবং মহিবুল হাসান চোধুরী নওফেল নয়াদিল্লিতে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন। খবর আনন্দবাজার ডটকমের।
এ সময় সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাছান মাহমুদ বলেন, “আমরা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে চাই। আমরা সব সময় নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় এসেছি। আমরা জনগণের ক্ষমতায় বিশ্বাস করি। কিন্তু এই প্রশাসন থাকলে আওয়ামী লীগ কখনওই ভালো কাজ করার সুযোগ পাবে না।”
বাংলাদেশে বর্তমানে সংখ্যালঘুদের অবস্থান নিয়ে একাধিকবার উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ভারত সরকার। আওয়ামী লীগের বৈঠকেও সেই প্রসঙ্গ উঠেছে। ময়মনসিংহে দীপু চন্দ্র দাসের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের কথা বলে হাছান মাহমুদদের অভিযোগ, অন্তর্বর্তী সরকার বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের সুরক্ষা দিতে ব্যর্থ। এমনকি তারা দাবি করেন, আওয়ামী লীগের কর্মীদের হত্যার অভিযোগে অভিযুক্তদের ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়েছে ড. ইউনূসের নির্দেশে।
২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনে প্রায় ১৪০০ জন নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশন (ইউনাইটেড নেশন্স হাই কমিশন ফর হিউম্যান রাইট্স)-এর একটি রিপোর্ট। বৈঠকে ওই তথ্যের সমালোচনা করেন হাছান মাহমুদ এবং মহিবুল হাসান। তাদের দাবি, জাতিসংঘের মানবাধিকার বিভাগের প্রধান ভলকার টার্ক তাদের সঙ্গে কথা বলেছিলেন। তার পরেও তাদের বক্তব্য ওই রিপোর্টে রাখা হয়নি বলে দাবি দুই নেতার।
প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের ৫ই আগস্ট প্রধানমন্ত্রী পদে ইস্তফা দিয়ে ঢাকা ছেড়ে দিল্লিতে চলে যান শেখ হাসিনা। সেই থেকে ভারতেই ‘অজ্ঞাতবাসে’ রয়েছেন। আগামী ১২ই ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে সাধারণ নির্বাচন। কিন্তু ড. ইউনূস ক্ষমতায় আসার পর বাংলাদেশে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করে দেওয়া হয়েছে। নির্বাচনে তারা লড়তে পারছে না।
খবরটি শেয়ার করুন