বৃহস্পতিবার, ১৯শে ফেব্রুয়ারি ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
৬ই ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

‘চোখে আওয়ামী লীগ আর বিকল্প হচ্ছে বিএনপি’

নিজস্ব প্রতিবেদক

🕒 প্রকাশ: ১২:৩৮ পূর্বাহ্ন, ১৯শে ফেব্রুয়ারি ২০২৬

#

ছবি: সংগৃহীত

সদ্য গঠিত সরকারে ড. খলিলুর রহমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হওয়ার বিষয়ে ধরে নেওয়া হয়, তিনি নানা দিক দিয়ে দূতিয়ালি করেছেন; ফলে বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের যুক্তরাজ্যে নির্বাসন থেকে ফেরত আসা সহজ হয়েছে বাংলাদেশে, এ রকম একটা আলোচনাও আছে বলে দাবি করেছেন কলামিস্ট ও গবেষক মহিউদ্দিন আহমদ।

১২ই ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনটি অনেক দিক থেকেই ব্যতিক্রম ও সবচেয়ে শান্তিপূর্ণ ছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, অনেক ভোটারের চোখে আওয়ামী লীগ আর বিকল্প হচ্ছে বিএনপি। বিষয়টির তিনি ব্যাখ্যাও দিয়েছেন। তার মতে, এবারের নির্বাচনটি 'ভবিষ্যতের জন্য একটা মানদণ্ড হয়ে থাকবে নিশ্চয়ই'।

এবারের 'নির্বাচনে জামায়াত নিঃসন্দেহে সবচেয়ে বেশি লাভবান হয়েছে' জানিয়ে তিনি বলেন, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের পর জামায়াতে ইসলামীকে নিয়ে মানুষের যে স্মৃতি, সেটি বোধহয় এখন আর তেমন কাজ করে না। এবং বেশির ভাগ তরুণ ভোটার, তাদের মধ্যে ’৭১ নিয়ে আবেগ তেমন নেই। এটা সার্বিক পরিস্থিতি দেখলেই বোঝা যায়।

জাতীয় পার্টি (জাপা) গত সরকারের আমলে (শেখ হাসিনা) আওয়ামী লীগের বাফার হিসেবেই কাজ করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সবশেষ জাতীয় 'নির্বাচনে আরেকটা বড় চমক ছিল, জাতীয় পার্টির মোটামুটি নিশ্চিহ্ন হয়ে যাওয়া। তাদের তো কেউই জিততে পারেননি।'

গত মঙ্গলবার গঠিত তারেক রহমানের মন্ত্রিসভা সম্পর্কে মহিউদ্দিন আহমদ বলেন, মন্ত্রিসভায় তরুণ, প্রবীণ, অনভিজ্ঞ, অভিজ্ঞ সবাই আছেন। এক্ষেত্রে একটা বিষয় প্রশংসনীয়, বিএনপি যাদের সঙ্গে আসন সমঝোতা করেছিল, তাদেরকে ভুলে যায়নি। তাদের কয়েকজন মন্ত্রিসভায় জায়গা পেয়েছেন। তবে মন্ত্রিসভায় নারীর সংখ্যা দৃষ্টিকটুভাবে কম। একজন পূর্ণমন্ত্রী আর দুজন প্রতিমন্ত্রী বোধহয়।

তিনি বলেন, অনাবশ্যক প্রতিশ্রুতির ফুলঝুরি যে বইয়ে দেওয়া হয়েছিল, সবাইকেই সেখান থেকে একটু সরে আসতে হবে এবং যেগুলো বাস্তবায়নযোগ্য সেগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে।

দৈনিক যুগান্তরে লেখা এক উপসম্পাদকীয়তে মহিউদ্দিন আহমদ এসব কথা বলেছেন। তার লেখাটি গতকাল বুধবার (১৮ই ফেব্রুয়ারি) যুগান্তরের ছাপা সংস্করণে 'এ মন্ত্রিসভার সামনে অনেক চ্যালেঞ্জ' শিরোনামে প্রকাশিত হয়েছে। তিনি পাঠকনন্দিত কলাম লেখক।

মহিউদ্দিন আহমদের লেখার লিংক দৈনিক যুগান্তরের ওয়েবসাইট থেকে ফেসবুকসহ অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এর মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে। নানা শ্রেণি-পেশার নেটিজেনের মধ্যে মহিউদ্দিন আহমদের বক্তব্য নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা চলছে।

তিনি লেখেন, বিএনপি ভালো ফল করেছে; কিন্তু এর চেয়েও বেশি ভালো ফল করেছে জামায়াতে ইসলামী। আমরা যদি আগের রেকর্ডের সঙ্গে তুলনা করি, জামায়াতের আসন অনেক বেড়েছে, তাদের পাওয়া ভোটও অনেক বেড়েছে। এটা কীভাবে সম্ভব হলো, তা নিয়ে অনেক আলোচনা হতে পারে। তবে একটা বিষয় আমাদের মনে রাখা দরকার, আওয়ামী লীগের মতো একটা বড় রাজনৈতিক দল এখন মাঠে নেই। তাদের অনেক নেতাকর্মী-সমর্থকই হয়তো ভোট দিতে যাননি।

তিনি বলেন, কিন্তু যারা গিয়েছেন, তাদের হিসাবে নিতে হবে। মানে আওয়ামী লীগের মধ্যে তো সবাই কট্টর আওয়ামী লীগার নন; অনেকেই আছেন, তাদের পছন্দ হলে কখনো আওয়ামী লীগকে ভোট দেন, আবার পরের নির্বাচনে দেখা গেছে, তারা বিএনপিকে ভোট দিয়েছেন। তাদের চোখে আওয়ামী লীগ আর বিএনপি হচ্ছে বিকল্প। এবার একটি বিকল্প ছিল না। ফলে তাদের অনেকেই হয়তো বিএনপিকে ভোট দিয়েছেন, অনেকেই হয়তো জামায়াতকে ভোট দিয়েছেন।

মহিউদ্দিন আহমদ বলেন, আওয়ামী লীগের লোক জামায়াতকে ভোট দেবে কেন- এখন এ প্রশ্ন স্বাভাবিকভাবেই উঠতে পারে। আমার মনে হয়, আওয়ামী লীগের প্রিন্সিপাল, মানে মূল প্রতিপক্ষ কিন্তু বিএনপি ছিল সব সময়ই। আর জামায়াত ছিল অনেকটা বিএনপির অ্যাপেন্ডিক্স।

তিনি বলেন, কাজেই এখন যেটা হয়েছে, বিএনপির প্রতি আওয়ামী লীগের ক্ষোভ, ঈর্ষা এগুলো অনেক বেশি। সেদিক দিয়ে বিবেচনা করে হয়তো এমনও হতে পারে যে, অনেকেই কিংবা অনেক আওয়ামী লীগের লোক অনিচ্ছা সত্ত্বেও বিএনপিকে ভোট না দিয়ে জামায়াতে ইসলামীকে ভোট দিয়েছেন।

তার মতে, আরেকটা ব্যাপার হলো, সাধারণ নাগরিক, বিশেষ করে যারা-যেটাকে আমরা বলি সুইং ভোট বলি, একটু দোদুল্যমান বা কাকে ভোট দেবেন, আগে থেকে বোঝা যায় না-তারা অনেক সময় মন্দের ভালো-এরকমভাবে ভোট দেন। সেই হিসাবে তাদের অনেকে আওয়ামী লীগকে না পেয়ে বিএনপিকে ভোট দিয়েছেন, অনেকে জামায়াতকে ভোট দিয়েছেন।

তিনি বলেন, সম্প্রতি অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচনগুলোয় দেখা গেছে ছাত্রশিবিরের জয়জয়কার। কাজেই বোঝা যায়, তরুণরা আর পুরোনো চিন্তা নিয়ে আঁকড়ে থাকতে চায় না। তারা চায় নতুন রাজনীতি। এখন এই নতুন রাজনীতি জামায়াতে ইসলামী কতটুকু দিতে পারবে, সেটা জানি না। কারণ বাংলাদেশে এর আগে আওয়ামী লীগের শাসন তারা দেখেছে, বিএনপির শাসন মানুষ দেখেছে। জাতীয় পার্টির শাসন মানুষ দেখেছে। জামায়াতেরটা দেখেনি।

তিনি বলেন, কাজেই জামায়াতকে যারা দেখার তারা একাত্তরই দেখেছে; কিন্তু পরবর্তী প্রজন্ম তো দেখেনি। এবারের ভোটে সেটা নিয়ে একটা হিসাব আছে। তিনি লেখেন, আরেকটা বিষয় এ সরকারকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে। সেটা হচ্ছে, আন্তর্জাতিক আদালতে যে বিচার প্রক্রিয়া চালু আছে, সেই বিচার প্রক্রিয়াটি চলমান রাখতে হবে এবং এখানে কোনো শৈথিল্য দেখানো উচিত হবে না। বিএনপির ওপর সাধারণ নাগরিকদের অনেক প্রত্যাশা।

মহিউদ্দিন আহমদ

সুখবর এর নিউজ পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

খবরটি শেয়ার করুন

Footer Up 970x250