বৃহস্পতিবার, ২৯শে জানুয়ারী ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১৬ই মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ

*** নির্বাচন সামনে রেখে সংবাদপত্রের স্বাধীনতার সুরক্ষার অঙ্গীকার চায় সিপিজে *** টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ৯০ ক্রিকেটার ‘চরম ঝুঁকিপূর্ণ’ *** ‘তারেক রহমান মনোনীত ৩০০ গডফাদারকে না বলুন, বাংলাদেশ মুক্তি পাবে’ *** সরকারি কর্মচারীদের গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’–এর পক্ষে প্রচার দণ্ডনীয়: ইসি *** যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের টানাপোড়েনে মধ্যস্থতা করতে চায় তুরস্ক *** ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডকে ‘সন্ত্রাসী’ সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করছে ইইউ *** হাজিরা পরোয়ানাকে ‘জামিননামা ভেবে’ হত্যা মামলার ৩ আসামিকে ছেড়ে দিল কারা কর্তৃপক্ষ *** আওয়ামী ভোটব্যাংক: জয়-পরাজয়ের অদৃশ্য সমীকরণ *** ‘সজীব ওয়াজেদ জয়ের যুক্তি অযৌক্তিক নয়’ *** শিক্ষকদের বাড়তি বেতনসুবিধার নতুন প্রজ্ঞাপন জারি

‘অরুণাচল চীনের অংশ’ দাবি তুলে সাংহাই বিমানবন্দরে ভারতীয় নারীকে হয়রানির অভিযোগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

🕒 প্রকাশ: ০৬:১১ অপরাহ্ন, ২৪শে নভেম্বর ২০২৫

#

ছবি: সংগৃহীত

অরুণাচল প্রদেশের এক ভারতীয় নারী অভিযোগ করেছেন, সাংহাই বিমানবন্দরে ট্রানজিট বিরতির সময় চীনের অভিবাসন কর্মকর্তারা তার ভারতীয় পাসপোর্টকে বৈধ বলে স্বীকৃতি দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। এ কারণে সাংহাই বিমানবন্দরে কর্মকর্তারা তাকে আটক ও হয়রানি করেন।

খুদে ব্লগ লেখার সাইট হিসেবে পরিচিত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স একাধিক পোস্টে পেমা ওয়াং থংডোক নামের ওই নারী লিখেছেন, ২১শে নভেম্বর চীনের সাংহাই পুডং বিমানবন্দরের অভিবাসন কর্মকর্তারা তাকে ‘১৮ ঘণ্টা’ ধরে আটকে রাখেন। তারা দাবি করেন, তার জন্মস্থান অরুণাচল প্রদেশ যেহেতু ‘চীনের অংশ’, তাই তার পাসপোর্ট ‘অবৈধ’।

থংডোক ২১শে নভেম্বর যুক্তরাজ্যের লন্ডন থেকে জাপান যাচ্ছিলেন। সাংহাই বিমানবন্দরে তার তিন ঘণ্টার বিরতি ছিল। খবর এনডিটিভির।

এক্সে এক বার্তায় থংডোক লিখেছেন, ‘২১শে নভেম্বর চীনের অভিবাসন এবং চায়না ইস্টার্ন এয়ারলাইনস করপোরেশন লিমিটেডের দাবিতে আমাকে সাংহাই বিমানবন্দরে ১৮ ঘণ্টার বেশি সময় আটকে রাখা হয়। তারা আমার ভারতীয় পাসপোর্টকে অবৈধ বলেছে। কারণ, আমার জন্মস্থান অরুণাচল প্রদেশ। এটিকে তারা চীনের ভূখণ্ড বলে দাবি করে।’

আরেকটি পোস্টে থংডোক লিখেছেন, ‘অভিবাসন ডেস্কের কর্মকর্তারা স্পষ্ট করে জানায়, আমার ভারতীয় পাসপোর্ট অবৈধ, কারণ আমার জন্ম অরুণাচল প্রদেশে।’

থংডোকের বিবৃতি অনুসারে, চীনের অভিবাসন কর্মকর্তারা পাসপোর্টে ‘অরুণাচল প্রদেশ’ জন্মস্থান হিসেবে দেখতে পেয়েই সেটিকে ‘অবৈধ’ ঘোষণা করেন।

কর্মকর্তারা নাকি এই ভারতীয় নারীকে সরাসরি বলেন, ‘অরুণাচল প্রদেশ চীনের অংশ’ এবং তারা তার ভারতীয় নাগরিকত্বকে স্বীকৃতি দিতে অস্বীকৃতি জানান। তার পাসপোর্ট বাজেয়াপ্ত করা হয় এবং বৈধ জাপানি ভিসা থাকা সত্ত্বেও তাকে পরবর্তী ফ্লাইটে উঠতে দেওয়া হয়নি।

থংডোক অভিযোগ করেন, একাধিক অভিবাসন কর্মকর্তা এবং চায়না ইস্টার্ন এয়ারলাইনসের কর্মীরা তাকে নিয়ে উপহাস ও ঠাট্টা করেন। এমনকি তাকে ‘চীনের পাসপোর্টের জন্য আবেদন করার’ পরামর্শও দেওয়া হয়।

ওই নারী আরও অভিযোগ করেন, এই ১৮ ঘণ্টা তাকে খাবার, বিমানবন্দরের সুবিধা বা তার অবস্থা সম্পর্কে কোনো সরকারি তথ্য জানতে দেওয়া হয়নি।

থংডোক অভিযোগ করেন, তাকে জাপানগামী নির্ধারিত ফ্লাইটে উঠতে বাধা দেওয়া হয়নি। শেষমেশ তিনি কেবল তখনই তার পাসপোর্ট ফেরত পান, যখন তিনি শুধু চায়না ইস্টার্ন এয়ারলাইনসের একটি নতুন টিকিট কিনতে রাজি হন। ফলে বাতিল হওয়া ফ্লাইট ও হোটেল বুকিংয়ের জন্য তার আর্থিক ক্ষতি হয়।

বিমানবন্দরের ট্রানজিট এলাকায় আটক থাকায় থংডোক নতুন টিকিট বুক করা বা অবাধে চলাচল করতে পারছিলেন না। অসহায় ও দিশাহারা হয়ে তিনি যুক্তরাজ্যের এক বন্ধুর মাধ্যমে সাংহাইয়ে ভারতীয় কনস্যুলেটের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বাধ্য হন। কনস্যুলেটের হস্তক্ষেপে অবশেষে তিনি গভীর রাতে বিমানবন্দর থেকে যাত্রা শুরু করতে সক্ষম হন।

এ ঘটনাকে ‘ভারতের সার্বভৌমত্বের প্রতি সরাসরি অপমান’ বলে অভিহিত করে থংডোক বিষয়টি বেইজিংয়ের কাছে তুলে ধরতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং ভারতীয় কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ভারত সরকারের উচিত এ ঘটনার জন্য জবাবদিহি নিশ্চিত করা, ক্ষতিপূরণ দাবি করা এবং বিদেশে ভ্রমণের সময় অরুণাচল প্রদেশের সব ভারতীয় যাতে এ ধরনের বৈষম্য থেকে সুরক্ষিত থাকেন, তা নিশ্চিত করা।

এ ঘটনা চীনের আঞ্চলিক দাবি এবং নয়াদিল্লি ও বেইজিংয়ের মধ্যে চলমান উত্তেজনার কারণে অরুণাচল প্রদেশের নাগরিকদের নাজুক পরিস্থিতিকে তুলে ধরেছে।

অরুণাচল প্রদেশ

সুখবর এর নিউজ পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

খবরটি শেয়ার করুন

Footer Up 970x250