রবিবার, ৮ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
২৬শে মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ

*** ‘একেকটা জঙ্গি ছেলে এখন জাতীয় নেতা হয়ে বসে আছে’ *** সংবাদকর্মীদের তুলে নেওয়া মুক্ত গণমাধ্যমের জন্য ‘ভীতিমূলক দৃষ্টান্ত’: টিআইবি *** ঢাকার ৬ স্থানে তারেক রহমানের জনসভা আজ *** মঙ্গলবার শেষ হচ্ছে নির্বাচনী প্রচারণা *** ‘ঘুষখোর পণ্ডিত’ নামে আপত্তি, বিজেপির রোষে বলিউডের জনপ্রিয় অভিনেতা *** সাবেক প্রিন্স অ্যান্ড্রুর দুই মেয়ের সঙ্গেও কুখ্যাত এপস্টেনের দেখাসাক্ষাৎ ছিল *** তারেক রহমানকে নিয়ে তথ্যচিত্র ‘সবার আগে হাসিমুখ’ *** ক্ষমতায় গেলে ‘বিডিআর’ নাম পুনর্বহাল করবে বিএনপি *** পুলিশের এমন আগ্রাসী মনোভাবের কারণ কী, প্রশ্ন আজহারির *** যৌন হয়রানির অভিযোগে বেরোবির ২ শিক্ষককে বরখাস্ত

গ্রিনল্যান্ড যুক্তরাষ্ট্রের প্রয়োজন: ট্রাম্প

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

🕒 প্রকাশ: ০৫:১৫ অপরাহ্ন, ১১ই জানুয়ারী ২০২৬

#

ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ‘গ্রিনল্যান্ড আমাদের প্রয়োজন।’ তিনি বলেন, ‘গ্রিনল্যান্ড আমরা না নিলে রাশিয়া ও চীন তা দখল নিতে পারে, আর এ কারণেই যুক্তরাষ্ট্রের ওই ভূখণ্ড “নিজের মালিকানায়” নেওয়া প্রয়োজন।’ খবর বিবিসি ও এএফপির 

গত শুক্রবার (৯ই জানুয়ারি) এক প্রশ্নের জবাবে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, ‘দেশগুলোর মালিকানা থাকতে হয়। আর মালিকানা থাকলে আপনি তার সুরক্ষা দেবেন, ইজারা থাকলে নয়। গ্রিনল্যান্ডকে আমাদের রক্ষা করতে হবে।’ 

তিনি আরও বলেন, ‘সহজ উপায়ে হোক অথবা কঠিন উপায়ে, আমরা এটা করব।’ গ্রিনল্যান্ড প্রসঙ্গে ট্রাম্প আরও বলেন, ‘আমি চুক্তির মাধ্যমে, মানে সহজ পথে বিষয়টিকে সমাধান করতে চাই। এতে কাজ না হলে কঠিন পথেই করব।’ 

ট্রাম্পের দাবি, খনিজসম্পদে সমৃদ্ধ এ দ্বীপ নিয়ন্ত্রণ করা যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য জরুরি। কারণ, আর্কটিক অঞ্চলে রাশিয়া ও চীনের সামরিক তৎপরতা বাড়ছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, ‘আমরা রাশিয়া বা চীনকে গ্রিনল্যান্ড দখল করতে দেব না। আমরা পদক্ষেপ না নিলে তারা ঠিকই সেটিকে দখল করে নেবে। তাই গ্রিনল্যান্ড নিয়ে আমাদের কিছু করতে হবে। হয় তা সুন্দরভাবে, না হয় আরও কঠিন কোনো উপায়ে।’

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে রাশিয়া ও চীন আর্কটিক অঞ্চলে সামরিক তৎপরতা বাড়ালেও এখন পর্যন্ত বিশাল এই বরফাচ্ছাদিত দ্বীপের ওপর কোনো মালিকানা দাবি করেনি। এদিকে গ্রিনল্যান্ড দখলের বিষয়ে ট্রাম্পের এই হুমকিতে ডেনমার্কসহ ইউরোপীয় মিত্ররা বিস্ময় প্রকাশ করেছে।

গ্রিনল্যান্ডে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের একটি সামরিক ঘাঁটি রয়েছে। হোয়াইট হাউস সম্প্রতি বলেছে, প্রশাসন ন্যাটোভুক্ত সহযোগী দেশ ডেনমার্কের আধা স্বায়ত্তশাসিত ভূখণ্ড গ্রিনল্যান্ড কেনার বিষয়টি বিবেচনা করছে।

তবে প্রয়োজনে শক্তি প্রয়োগ করে অঞ্চলটিকে নিজেদের অন্তর্ভুক্ত করার সম্ভাবনাও তারা নাকচ করছে না। তবে ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ড কর্তৃপক্ষ বলে দিয়েছে যে ভূখণ্ডটি বিক্রি হবে না। ডেনমার্ক বলেছে, সামরিক অভিযান চালানো হলে তা ট্রান্স আটলান্টিক প্রতিরক্ষা জোট ন্যাটোর শেষ হয়ে যাওয়ার ইঙ্গিত দেবে।

সবচেয়ে কম জনবহুল অঞ্চল হলেও গ্রিনল্যান্ডের অবস্থান উত্তর আমেরিকা ও উত্তর মেরু অঞ্চলের মধ্যে হওয়ায় এটি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ক্ষেত্রে আগাম সতর্কতা পাওয়ার জন্য বেশ গুরুত্বপূর্ণ স্থান হিসেবে বিবেচিত হয়। তা ছাড়া ওই অঞ্চলে চলাচলকারী জাহাজ পর্যবেক্ষণের জন্যও স্থানটি বেশ উপযোগী।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারবারই বলে আসছেন, গ্রিনল্যান্ড যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কোনো ধরনের প্রমাণ ছাড়াই তিনি দাবি করেছেন, অঞ্চলটি ঘিরে রুশ ও চীনা জাহাজ অবস্থান করছে। 

গ্রিনল্যান্ডের উত্তর-পশ্চিম প্রান্তে অবস্থিত পিটুফিক ঘাঁটিতে আগে থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের ১০০ জনের বেশি সেনাসদস্য স্থায়ীভাবে মোতায়েন আছেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় থেকে যুক্তরাষ্ট্র এ ঘাঁটি পরিচালনা করে আসছে। ডেনমার্কের সঙ্গে বিদ্যমান চুক্তিগুলোর আওতায় গ্রিনল্যান্ডে নিজেদের ইচ্ছেমতো সংখ্যায় সেনা মোতায়েনের ক্ষমতা রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের।

তবে ওয়াশিংটনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, ইজারাভিত্তিক চুক্তি যথেষ্ট নয়। দেশগুলোর মালিকানা থাকতে হবে উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেন, দেশগুলো ৯ বছরের চুক্তি এমনকি ১০০ বছরের চুক্তির ভিত্তিতে চলতে পারে না।

ট্রাম্প বলেন, ‘আমি চীনের মানুষকে ভালোবাসি। আমি রাশিয়ার মানুষকে ভালোবাসি। কিন্তু আমি চাই না, তারা গ্রিনল্যান্ডে আমাদের প্রতিবেশী হোন। সেটা হবে না। ব্যাপারটা ন্যাটোকেও বুঝতে হবে।’

জে.এস/

ডোনাল্ড ট্রাম্প

সুখবর এর নিউজ পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

খবরটি শেয়ার করুন

Footer Up 970x250