ছবি: সংগৃহীত
দৈনিক মানবজমিনের প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী বলেছেন, বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে আমার সম্পর্ক চমৎকার, নির্ভেজাল- এটা বলার অপেক্ষা রাখে না। তার সঙ্গে অনেক বিষয়ে আলোচনা করি। সমালোচনাও করি। কিন্তু কখনও বলিনি- আমি কেমন আছি, কীভাবে পত্রিকা চালাই।
তিনি বলেন, তারেক রহমান দেশে ফেরার আগে বিএনপির আয়োজিত সাংবাদিক বৈঠকে খোলামেলাই বলেছিলাম- তথ্য মন্ত্রণালয় রাখার কোনো প্রয়োজন নেই। ব্রিটেনসহ পৃথিবীর বেশিরভাগ দেশে এই মন্ত্রণালয়ের কোনো অস্তিত্ব নেই। বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা অনেকটা কলঙ্কজনক। শেখ হাসিনা সরকারের সময় এই মন্ত্রণালয় অনুগত সাংবাদিক বাহিনীর জন্ম দিয়েছে। যার মূল্য অনেকেই দিচ্ছেন এখন।
তিনি বলেন, (সাংবাদিকদের) কেউ জেলখানায়, অনেকেই পলাতক। কেউ কেউ খুব কষ্টে জীবন যাপন করছেন। না পাচ্ছেন চাকরি, না পাচ্ছেন সামাজিক মর্যাদা। প্রশ্ন উঠতে পারে তথ্য মন্ত্রণালয় না থাকলে মিডিয়ার দেখভাল করবে কে। একটি মিডিয়া রেগুলেটরি কমিশন এর দায়িত্ব নিতে পারে। যা পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে আছে।
'সাংবাদিক পরিচয়েই মরতে চাই' শিরোনামে প্রকাশিত একটি বিশেষ নিবন্ধে মতিউর রহমান চৌধুরী এসব কথা বলেন। তার লেখাটি গতকাল মঙ্গলবার (১৩ই জানুয়ারি) মানবজমিনের ছাপা সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে। লেখাটির লিংক ফেসবুকসহ অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। সাংবাদিক সমাজসহ নানা শ্রেণি-পেশার নেটিজেনদের মধ্যে লেখাটি নিয়ে নানামুখী আলোচনা-পর্যালোচনা চলছে।
মতিউর রহমান চৌধুরী বলেন, জিয়া পরিবারের সঙ্গে আমার সম্পর্ক বরাবরই ভালো। এই সম্পর্ক দেনা-পাওনার নয়। আমি কিছু চাইতে যাইনি। তারাও আমাকে অফার করেননি। টেন্ডারে অংশ নিয়ে একটি রেডিও লাইসেন্স পেয়েছিলাম। তাও ১৪ মাস কোর্টের বারান্দায় ঘুরেছি। প্রয়াত তথ্যমন্ত্রী শামসুল ইসলাম খোঁড়া যুক্তি দেখিয়ে আটকে দিয়েছিলেন। ওয়ান ইলেভেনের সরকারের সময় তা পেয়েছিলাম।
তিনি বলেন, সাংবাদিকদের সঙ্গে তারেক রহমানের মতবিনিময় বৈঠকে প্রথম শব্দটাই বলেছিলাম, আমরা লিখতে চাই, বলতে চাই। কোনো প্রাপ্তির প্রত্যাশা নিয়ে হাজির হইনি। সেখানে দেওয়া এক মিনিটের বক্তৃতার একটি শব্দ নিয়ে গুরুতর আপত্তি এই সময়ের বহুল আলোচিত রাজনৈতিক দল জামায়াতে ইসলামীর সমর্থকদের। ক্ষমতার নেশায় দলটির সমর্থকেরা ভিন্ন চিন্তাকে আমন্ত্রণ জানাতে চান না।
তিনি লেখেন, উগ্রবাদ নিয়ে কথা বলেছিলাম। জামায়াতের নাম উল্লেখও করিনি। তারপরও সমালোচনার হাত থেকে রেহাই পাইনি। সমালোচনা ভালো। কিন্তু সত্যের সঙ্গে মিথ্যা জুড়ে দিয়ে অনুমান করে কারও চরিত্র হনন করা কতটা যুক্তিগ্রাহ্য? উগ্রবাদ কারো বন্ধু হতে পারে না। আফগানিস্তানকে দেখে আমরা কিছুই কি শিখতে পারলাম না! বলে রাখি, উগ্রবাদ জামায়াতেরও বন্ধু হবে না। আমি জামায়াত নেতাদের চিনি ভালো করে।
তিনি বলেন, ডা. শফিকুর রহমান (জামায়াতের আমির) উগ্রবাদে বিশ্বাসী মানুষ নন। কিন্তু কৌশলগত কারণে তিনি অনেক কিছুই এখন মেনে নিচ্ছেন। যা একদিন ফ্রাংকেনস্টাইন হয়ে তার সামনে হাজির হবে। চারপাশে যা ঘটছে তা সামনে রেখেই কথা বলেছিলাম। যেহেতু জামায়াত কথা বলছে না সেজন্য একমাত্র বিকল্প বিএনপি বা তারেক রহমান।
তিনি বলেন, কিছু পাবার জন্য নয়। এখানে কালো কালিতে লিখে দিতে চাই। ৫৪ বছর আগে এসেছিলাম সাংবাদিকতা করতে। জীবনের শেষ দিকে এসে বলছি- সাংবাদিক পরিচয়েই মরতে চাই। অন্য পরিচয়ে নয়।
খবরটি শেয়ার করুন