বৃহস্পতিবার, ১২ই মার্চ ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
২৭শে ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ

*** মোজাম্মেল ‘প্রোস্টেট ক্যান্সার’, শ্যামল ‘স্লিপ অ্যাপনিয়া’য় আক্রান্ত, চলাফেরায় ‘অক্ষম’ শাহরিয়ার *** রাশিয়ার তেল কিনতে যুক্তরাষ্ট্রের অনুমতি চাইল বাংলাদেশ *** যুদ্ধাহত মোজতবা খামেনি ‘নিরাপদ ও সুস্থ’ আছেন *** ডেঙ্গু প্রতিরোধে ১৪ই মার্চ থেকে পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু: প্রধানমন্ত্রী *** জামায়াতের মাহমুদুল মন্ত্রী পদমর্যাদা চেয়েছিলেন: পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় *** মিরপুরে বাংলাদেশের বিপক্ষে লজ্জার রেকর্ড পাকিস্তানের *** স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার বাছাইয়ে প্রধানমন্ত্রীকে দায়িত্ব দিল সরকারি দল *** ‘সাবেক এমপির কাছে প্রসিকিউটরের কোটি টাকা চাওয়ার ঘটনাকে হালকাভাবে নিচ্ছি না’ *** জুলাই অভ্যুত্থানে বেনিফিশিয়ারি হয়ে সরকার গঠন করে এখন উল্টো পথে হাঁটছে: গোলাম পরওয়ার *** দুদকের মামলায় সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হকের জামিন, কারামুক্তিতে বাধা নেই

মোজাম্মেল ‘প্রোস্টেট ক্যান্সার’, শ্যামল ‘স্লিপ অ্যাপনিয়া’য় আক্রান্ত, চলাফেরায় ‘অক্ষম’ শাহরিয়ার

বিশেষ প্রতিবেদক

🕒 প্রকাশ: ১১:৫৫ অপরাহ্ন, ১১ই মার্চ ২০২৬

#

ফাইল ছবি

কারাবন্দী জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক, একাত্তর টেলিভিশনের সাবেক প্রধান সম্পাদক মোজাম্মেল বাবু ‘প্রোস্টেট ক্যান্সার’ ও দৈনিক ভোরের কাগজের সম্পাদক শ্যামল দত্ত ‘স্লিপ অ্যাপনিয়া’য় আক্রান্ত। একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির উপদেষ্টা মণ্ডলীর সভাপতি ও প্রবীণ সাংবাদিক শাহরিয়ার কবির ডায়াবেটিসসহ বার্ধক্যজনিত রোগে অসুস্থ হয়ে একা চলাফেরা করতে প্রায় ‘অক্ষম’। আদালতে হাজিরা দেওয়ার তারিখ নির্ধারিত থাকলে কর্তব্যরত পুলিশের কাঁধে ভর দিয়ে তাকে কারাগার থেকে সেখানে যেতে হয়।

একাত্তর টিভি থেকে চাকরিচ্যুত সাংবাদিক ফারজানা রূপা ও শাকিল আহমেদও নানা রোগে ভুগছেন। দীর্ঘদিন কারাবন্দী থাকায় এবং একমাত্র সন্তানের দুশ্চিন্তায় রূপা-শাকিল মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের আন্দোলনের সূত্র ধরে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে বিভিন্ন মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে থাকা এসব সাংবাদিকের পরিবারের সদস্য এবং স্বজনেরা সুখবর ডটকমের কাছে এমন অভিযোগ করেছেন।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকারের যাত্রা শুরুর পর দেশের গণমাধ্যম অঙ্গনে নতুন এক বাস্তবতা ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন কারাবন্দী সাংবাদিকের স্বজনেরা। সাংবাদিক আনিস আলমগীরের জামিন হওয়া এবং  চট্টগ্রামের একটি মামলায় ২৮ সাংবাদিকের সংশ্লিষ্টতা না থাকার বিষয়ে পিবিআইয়ের তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের ঘটনায় তারা আশাবাদী যে, সাবেক অনির্বাচিত সরকারের আমলে কারাবন্দী সব সাংবাদিক মুক্তি পাবেন। তাদের জামিনের বিষয়ে নতুন সরকারের অবস্থান ইতিবাচক বলে স্বজনেরা মনে করছেন।

প্রায় সবার স্বজনের অভিযোগ, গ্রেপ্তার হওয়ার আগেই এসব সাংবাদিক বিভিন্ন রোগের চিকিৎসা নিচ্ছিলেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শে। তাদের গ্রেপ্তারের সময় প্রয়োজনীয় ওষুধ গ্রহণের সুযোগ দেওয়া হয়নি এবং এরপর থেকে তাদের এমন পরিবেশে আটক রাখা হয়েছে, যা মানবিক আচরণের ন্যূনতম মানদণ্ডও পূরণ করেনি। শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটতে থাকলেও তাদের দফায় দফায় রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে সদ্য সাবেক ড. মুহাম্মদ ইউনূস সরকারের আমলে। এতে তাদের অসুস্থতা বেড়েছে, পাশাপাশি নতুন শারীরিক জটিলতার শিকার হয়েছেন দিনে দিনে।

কারাগারে আটক সাংবাদিকদের পরিবারের সদস্যরা বলছেন, গ্রেপ্তার হওয়ার পর শাহরিয়ার কবির, মোজাম্মেল বাবু ও শ্যামল দত্তের পর্যাপ্ত চিকিৎসা ও বিশেষ চিকিৎসা গ্রহণের আবেদনও বারবার প্রত্যাখ্যান করেছে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকার। তারা প্রয়োজনীয় ওষুধ বা যথাযথ চিকিৎসাসেবা পাননি, যা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মানদণ্ডের লঙ্ঘন। কারাগারে তাদের রাখা হয়েছে মানবেতর পরিবেশে।

সুখবর ডটকমকে স্বজনেরা জানান, কারাবন্দী সাংবাদিক মোজাম্মেল বাবু ‘প্রোস্টেট ক্যান্সারে’ আক্রান্ত, ২০২৪ সালে গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে যাওয়ার কয়েক মাস আগে তার অস্ত্রোপচার হয়েছিল ঢাকার বেসরকারি একটি হাসপাতালে। অস্ত্রোপচারের আগে তার যেসব শারীরিক জটিলতা ছিল, সেগুলো এখন আবার দেখা যাচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে, তার আবার অস্ত্রোপচার করানো লাগতে পারে, যদিও এটা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের মতামত নয়।

মোজাম্মেল বাবুর সঙ্গে গ্রেপ্তার হওয়া দৈনিক ভোরের কাগজের সম্পাদক শ্যামল দত্ত ‘স্লিপ অ্যাপনিয়া’ (ঘুমে সাময়িকভাবে দম বন্ধ হয়ে যাওয়াসহ শ্বাস-প্রশ্বাসজনিত জটিল রোগ) ও ডায়াবেটিসে ভুগছেন। কারাগারে কয়েকবার দুজনেই অসুস্থ হয়ে পড়েন। ২০২৪ সালের আগস্টে গ্রেপ্তার একাত্তর টিভির সাবেক বার্তাপ্রধান শাকিল আহমেদ ও একই চ্যানেলের সাবেক প্রধান প্রতিবেদক ফারজানা রূপাও একাধিক রোগে আক্রান্ত। মায়ের মৃত্যুর পর রূপা শারীরিক অসুস্থতার পাশাপাশি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন কারাগারে।

গণহত্যা প্রতিরোধ ও মানব নিরাপত্তা বিষয়ক সংস্থা বেলারুশভিত্তিক ল্যামকিন ইনস্টিটিউট ৫ই জানুয়ারি এক বিবৃতিতে বলে, ৭৫ বছর বয়সী লেখক, গবেষক ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত মানবাধিকারকর্মী শাহরিয়ার কবির হুইলচেয়ার ছাড়া চলাফেরা করতে পারেন না। তিনি বার্ধক্যজনিত নানা সমস্যাসহ বিভিন্ন রোগে ভুগছেন। তাকে গ্রেপ্তারের সময় প্রয়োজনীয় ওষুধ গ্রহণের সুযোগ দেওয়া হয়নি এবং এরপর থেকে তাকে এমন পরিবেশে আটক রাখা হয়েছে, যা মানবিক আচরণের ন্যূনতম মানদণ্ডও পূরণ করে না।

সংস্থাটি বলেছে, শাহরিয়ার কবিরের শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটতে থাকলেও তাকে দফায় দফায় রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি আটক অবস্থায় পর্যাপ্ত চিকিৎসা ও বিশেষ চিকিৎসা গ্রহণের আবেদনও বারবার প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। বিভিন্ন খবরে এমনও বলা হয়েছে, তিনি প্রয়োজনীয় ওষুধ বা যথাযথ চিকিৎসাসেবা পাননি, যা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মানদণ্ডের লঙ্ঘন।

ল্যামকিন ইনস্টিটিউট আরো বলে, ২০১৩ সালের ৫ই মে ঢাকার মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের একটি কর্মসূচিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানের সময় হতাহতের ঘটনায় শাহরিয়ার কবিরের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়। যদিও শাহরিয়ার কবির আওয়ামী লীগের সাবেক সরকারের কোনো পদধারী ব্যক্তি নন এবং হেফাজতে ইসলামের কর্মসূচিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে তার কোনো ভূমিকা ছিল না।

বাবা-মা গ্রেপ্তার হওয়ার পর থেকে একধরনের সংগ্রামের মধ্য দিয়ে দিন পার করছে সাংবাদিক দম্পতি শাকিল আহমেদ ও ফারজানা রূপার একমাত্র মেয়ে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের বাসার ঠিকানা প্রচারিত হওয়ার পর শাকিল-রূপার পরিবারের অনেক সদস্য ভয়ে অনেকদিন বাসা ছেড়ে অন্য স্থানে থেকেছেন৷ একটা পর্যায় থেকে তারা ওই বাসায় থাকলেও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগেছেন। যদিও তারেক রহমান সরকারের আমলে তাদের উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা কমেছে। অনেকটা স্বস্তি ফিরেছে।

ডেইলি স্টারের সম্পাদক মাহফুজ আনাম এক উপসম্পাদকীয়তে ইউনূস সরকারের আমলে কারাবন্দী সব সাংবাদিকের জামিনের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন। বিশেষ করে, বাঙালি ও মুসলিম নারী—দুই বিবেচনায় ফারজানা রূপার জামিন হতে পারে বলে তিনি অভিমত ব্যক্ত করেন।

তিনি বলেন, নারীর ভূমিকা, বিশেষ করে সন্তান লালন-পালনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রূপার বিরুদ্ধে কোনো প্রমাণই পাওয়া যায়নি। নারী ও প্রতিবন্ধীদের জামিন দেওয়ার জন্য আইনে বিশেষ বিধানও রয়েছে। রূপার বেলায় সেই মৌলিক মানবাধিকারেরই লঙ্ঘন হয়েছে, যেগুলো পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য মানুষ আওয়ামী লীগের সরকারকে ২০২৪ সালে ক্ষমতাচ্যুত করেছিল।

সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের আন্দোলন চলাকালে ওই সময়ের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এক মন্তব্য ঘিরে আন্দোলন পরে অভ্যুত্থানে রূপ নেয়। ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী ওই মন্তব্য করেছিলেন ফারজানা রূপা ও এটিএন নিউজের সাবেক সাংবাদিক প্রভাষ আমিনের প্রশ্নে। এর জের ধরে তারা দুজন সমালোচনার শিকার এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে ‘উস্কে দেওয়ার’ অভিযোগে সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপকভাবে অভিযুক্ত হন।

গত ১২ই ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকারের যাত্রা শুরুর পর দেশের গণমাধ্যম অঙ্গনে নতুন এক বাস্তবতা ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন শাহরিয়ার কবির ও শ্যামল দত্তের দুজন স্বজন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তারা আজ বুধবার (১১ই মার্চ) রাতে  সুখবর ডটকমকে বলেন, নতুন সরকারের আমলে কারাবন্দী সাংবাদিকেরা মুক্তি পাবেন এবং ড. ইউনূসের আমলে দায়ের হওয়া মিথ্যা মামলাগুলো প্রত্যাহার হবে বলে তারা আশাবাদী।

তারা বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বের সরকার সংসদ নির্বাচনের আগে সহনশীলতা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার অঙ্গীকার করে। বিএনপির নির্বাচনী ঘোষণায় বলা হয়, ভিন্নমতকে দমন নয়, বরং গণতান্ত্রিক কাঠামোর মধ্য দিয়ে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হবে। সরকার গঠনের পর রাজনৈতিকভাবে বিবেচিত হয়রানিমূলক মামলাগুলো পর্যালোচনা শুরু হয়। তাছাড়া দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা মামলায় সাংবাদিক আনিস আলমগীরের জামিন আজ মঞ্জুর করেন আদালত।

এ নিয়ে আনিস আলমগীর তার বিরুদ্ধে থাকা দুটি মামলাতেই জামিন পেলেন। সে ক্ষেত্রে আনিস আলমগীরের কারামুক্তিতে আইনগত বাধা নেই বলে সুখবর ডটকমকে জানিয়েছেন তার আইনজীবী তাসলিমা জাহান। চট্টগ্রাম আদালতে এক নারীর দায়ের করা মামলায় সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত এবং চট্টগ্রামের পেশাদার ২৮ সাংবাদিকসহ মোট ১০৯ জনের বিরুদ্ধে কোনো প্রমাণ পায়নি পুলিশ। তদন্ত সংস্থা পিবিআই দফায় দফায় নালিশি মামলার বাদীকে সাক্ষ্য-প্রমাণ হাজির করতে নোটিশ দিলেও বারবার এড়িয়ে গেছেন তিনি। তদন্ত শেষে পিবিআই ঘটনার সত্যতা পায়নি। গত ২৪শে ফেব্রুয়ারি আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন।

তারেক রহমানের সরকারের যাত্রার শুরুতে গণমাধ্যম ও সাংবাদিকদের বিষয়ে ইতিবাচক এসব সিদ্ধান্ত কারাবন্দী সাংবাদিকদের মুক্তির বিষয়ে তাদের পরিবারের সদস্যদের আশাবাদী করে তুলেছে।

কেউ কেউ বলছেন, সাংবাদিকদের কারাবন্দী থাকার বিষয়টি শুধু কয়েক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা নয়; বরং ভবিষ্যতে দেশের গণমাধ্যমের কাঠামো ও সাংবাদিকতার ধরন কীভাবে বদলাবে, তারও একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক হবে।

তথ্যমতে, ২০২৪ সালে ছাত্র আন্দোলন চলাকালে ২৬শে জুলাই ওই সময়ের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সংবাদ সম্মেলনে জ্যেষ্ঠ কয়েক সাংবাদিক তাকে আন্দোলন আরও কঠোর হাতে দমনে উৎসাহ দেন। অনেকে মনে করেন, তারা সাংবাদিক হিসেবে নন, রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে সেদিন কাজ করেছিলেন। কারাবন্দী সাংবাদিকেরা ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের সরকারের কোনো পদধারী ব্যক্তি না হলেও তারা আওয়ামী লীগের সমর্থক হিসেবে পরিচিত।

অবশ্য ইউনূস সরকারের আমলে মামলার শিকার ২৯৮ সাংবাদিকের মধ্যে প্রায় ২০ শতাংশের আওয়ামী লীগ সরকারের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কও ছিল—যাদের কেউ কেউ দলটির প্রচারণায় অংশ নিয়েছেন, কেউ কেউ ছিলেন সংগঠনের পদে।

তবে ব্রিটিশ সাংবাদিক ডেভিড বার্গম্যান মনে করেন, এটা ঠিক যে, ২০২৪ সালের ২৩শে জুলাই তখনের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে এডিটরস গিল্ডের এক বৈঠকে আন্দোলনকারীদের নিয়ে উসকানিমূলক মন্তব্য করেন কয়েক সাংবাদিক। এ ধরনের বক্তব্যের কিছু অংশ ধাক্কা খাওয়ার মতো ছিল। তবে এসব বক্তব্যের কোনো অংশেই দেখা যায় না যে, তারা কেউ আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে সহিংসতা চালানোর আহ্বান জানিয়েছেন বা তা সমর্থন করেছেন। তাদের বিরুদ্ধে কঠোর সমালোচনার যথেষ্ট যুক্তিসংগত কারণ থাকলেও ‘রাজনৈতিক আনুগত্য কিংবা কোনো কর্তৃত্ববাদী শাসনের কট্টর সমর্থক বা প্রচারক হওয়াটাই অপরাধ নয়’।

প্রসঙ্গত, সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের মিলিয়ে অন্তত ২৯৮ সাংবাদিকের বিরুদ্ধে হত্যা, হত্যা চেষ্টা ও গোলাগুলির ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে মামলা দায়ের হয়। ১৯ সাংবাদিক ওই আমলে গ্রেপ্তার হন, কয়েকজন জামিন পান। তবে এসব মামলার বিচারিক কার্যক্রম ঠিকমতো পরিচালিত হয়নি বলে অভিযোগ সাংবাদিক সমাজের। সাংবাদিকের বিরুদ্ধে এমন ফৌজদারি মামলা করা হয়েছে—যার অনেকগুলোই হত্যার অভিযোগে—যেসব মামলায় তাদের সম্পৃক্ততার বিষয়ে তদন্তই হয়নি, কিংবা আজ পর্যন্ত কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

কমিটির দায়িত্ব হবে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক মামলা পর্যবেক্ষণ করা ও সময়ে সময়ে মামলার বিষয়ে কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা, এমন আশ্বাস ও প্রতিশ্রুতির মধ্য দিয়ে মামলা পর্যবেক্ষণে আট সদস্যের ‘গণমাধ্যমে কর্মরত সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক মামলা পর্যবেক্ষণ–সংক্রান্ত কমিটি’ গঠিত হয়েছিল গত আমলে। ২০২৪ সালের ৭ই অক্টোবর তথ্য মন্ত্রণালয় সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া হয়রানিমূলক মামলার পুনর্মূল্যায়নের জন্য এ কমিটি গঠন করে। ক্ষমতা ছাড়বার আগে পর্যন্ত সাবেক সরকারের কমিটির উল্লেখযোগ্য কোনো কাজ দৃশ্যমান হয়নি।

সাংবাদিক

সুখবর এর নিউজ পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

খবরটি শেয়ার করুন

Footer Up 970x250