ছবি: সংগৃহীত
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের (আইসিটি) মামলায় কারাবন্দী আওয়ামী লীগের সাবেক একজন সংসদ সদস্যের জামিন করিয়ে দিতে একজন প্রসিকিউটরের এক কোটি টাকা ঘুষ চাওয়ার ঘটনা গণমাধ্যমে প্রকাশের পর বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে। বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা-সমালোচনার মধ্যে এই বিষয়ে বক্তব্য জানতে দুর্নীতিবিরোধী সংগঠন টিআইবির সঙ্গে যোগাযোগ করে সুখবর ডটকম।
জামিন করিয়ে দেওয়ার নামে বিপুল অঙ্কের অর্থ দাবি সংক্রান্ত অভিযোগ বিচারব্যবস্থার প্রতি জনসাধারণের আস্থাকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন দুর্নীতিবিরোধী সংগঠন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল, বাংলাদেশ (টিআইবি)-এর নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান।
তিনি বলেন, বিচারপ্রক্রিয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোনো ব্যক্তি যদি জামিনের মতো আইনি প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করার নামে অর্থ দাবি করেন, তবে তা শুধু অনৈতিকই নয়, আইনের শাসনের জন্যও গভীর উদ্বেগজনক। এমন ঘটনা সামনে এলে তা দ্রুত, স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা জরুরি।
মঙ্গলবার (১০ই মার্চ) রাতে সুখবর ডটকমকে দেওয়া প্রতিক্রিয়ায় ইফতেখারুজ্জামান বলেন, বিচারব্যবস্থা জনগণের ন্যায়বিচার পাওয়ার শেষ আশ্রয়স্থল। সেখানে অনিয়ম বা দুর্নীতির অভিযোগ উঠলে সাধারণ মানুষের আস্থার জায়গাটি দুর্বল হয়ে পড়ে। তাই এ ধরনের অভিযোগকে গুরুত্বসহকারে দেখা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, 'জামিন পাওয়ার বিষয়টি আদালতের এখতিয়ারভুক্ত একটি স্বাভাবিক আইনি প্রক্রিয়া। যদি সেই প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে অর্থ লেনদেন বা প্রভাব খাটানোর অভিযোগ ওঠে, তাহলে তা বিচারব্যবস্থার প্রতি মানুষের বিশ্বাসকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারে।'
জুলাই আন্দোলনের সময় চট্টগ্রাম শহরে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলার আসামি চট্টগ্রাম-৬ আসনে আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য এ বি এম ফজলে করিম চৌধুরী। মামলায় তাকে জামিনে মুক্তি পাইয়ে দেওয়ার জন্য তার পরিবারের কাছে এক কোটি টাকা চেয়েছিলেন সদ্য পদত্যাগ করা প্রসিকিউটর মো. সাইমুম রেজা তালুকদার। হোয়াটসঅ্যাপ কথোপকথনের একাধিক অডিও রেকর্ডিংয়ে এমন তথ্য পাওয়া গেছে।
রেকর্ডিংগুলো সংগ্রহ করেছে প্রথম আলো ও নেত্র নিউজ। প্রথম আলো ও নেত্র নিউজ রেকর্ডিংগুলো যাচাই করে দেখেছে। এ নিয়ে মঙ্গলবার একটি যৌথ অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে প্রথম আলো ও নেত্র নিউজ।
এ ঘটনা নিয়ে বর্তমান আইনমন্ত্রী এবং সাবেক ও বর্তমান চিফ প্রসিকিউটরের দৃশ্যমান নমনীয়তা, বিশেষ করে যথাযথ কঠোর অবস্থান না নেওয়াও প্রশ্নের উদ্রেক করছে বলে উল্লেখ করেন ইফতেখারুজ্জামান। তিনি বলেন, বিশেষ করে এমন এক সময়ে, যখন নতুন একটি সরকার ব্যাপক প্রচারণার মাধ্যমে দুর্নীতিবিরোধী অবস্থান ও ন্যায়বিচারের অঙ্গীকার নিয়ে ক্ষমতায় এসেছে। তাদের এমন উদাসীনতা উচ্চপর্যায়ে অপরাধের দায়মুক্তি নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তোলে।
টিআইবির নির্বাহী পরিচালক আরও বলেন, অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নিরপেক্ষ তদন্ত করতে হবে এবং যদি অভিযোগ প্রমাণিত হয়, তাহলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। এতে ভবিষ্যতে এমন অনিয়মের পুনরাবৃত্তি রোধ করা সম্ভব হবে।
ইফতেখারুজ্জামান মনে করেন, বিচারব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা না গেলে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা দুর্বল হয়ে পড়বে। তাই অভিযোগের বিষয়টি দ্রুত তদন্তের পাশাপাশি বিচারব্যবস্থার সংস্কার ও নজরদারি জোরদার করারও প্রয়োজন রয়েছে।
তিনি সুখবর ডটকমকে বলেন, 'বিচারব্যবস্থার প্রতি জনগণের আস্থা রক্ষা করা রাষ্ট্রের অন্যতম দায়িত্ব। এ ধরনের অভিযোগকে অবহেলা না করে যথাযথ তদন্ত ও জবাবদিহির মাধ্যমে বিষয়টির সমাধান করা জরুরি।'
খবরটি শেয়ার করুন