বৃহস্পতিবার, ২৬শে ফেব্রুয়ারি ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১৪ই ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ

*** নতুন হিসাবে গণভোটের ‘হ্যাঁ’ ভোট কমেছে ১০ লাখ *** কবি মোহন রায়হানের বাংলা একাডেমি পুরস্কার না পাওয়ার যে কারণ জানালেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী *** মনোনীত করেও মোহন রায়হানকে পুরস্কার দিল না বাংলা একাডেমি *** অমর একুশে বইমেলার উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী *** টিউলিপকে গ্রেপ্তারে ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড নোটিশ জারির আদেশ *** বেসামরিক ইসরায়েলিদের হত্যা ‘ন্যায্য’ নয়, তবে ফিলিস্তিনিদের ওপর গণহত্যার বিষয়ে নিশ্চুপ মোদি *** অনুমতি ছাড়া মেট্রো স্টেশনে ভিডিও-ফটোগ্রাফি নিষিদ্ধ *** বাংলা ভাষা ও সাহিত্য নিশ্চয়ই বিশ্বে আলো ছড়াবে—আশা প্রধানমন্ত্রীর *** কথা কম বলতে চাই, কাজ বেশি করব: নতুন গভর্নর মোস্তাকুর রহমান *** আজ একুশে পদক প্রদান করবেন প্রধানমন্ত্রী

ঈদের অনুষ্ঠানে মমতা আসলে কোন ধর্মকে 'নোংরা' বলেন?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

🕒 প্রকাশ: ০১:১৬ অপরাহ্ন, ২রা এপ্রিল ২০২৫

#

ছবি: সংগৃহীত

এবারের ঈদুল ফিতর উপলক্ষে কলকাতার রেড রোডে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তৃতার সময় ধর্ম বিষয়ে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের করা মন্তব্যকে ঘিরে সরগরম হয়ে ওঠেছে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক অঙ্গন। যদিও মমতার নিশানায় ছিল বাম ও গেরুয়া শিবির; কিন্তু তিনি নিজেই এখন বিতর্কের মুখে পড়েছেন।

বক্তব্যের সময়, ভারতীয় সংবিধান যে ধর্মনিরপেক্ষতার উপর জোর দেয়, সে কথা যেমন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন, তেমনই বাংলার ঐতিহ্যময় ধর্মীয় পরম্পরার কথাও উল্লেখ করেছেন। খবর বিবিসি বাংলার।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, 'দেখুন রামকৃষ্ণ কী বলেছেন, বিবেকানন্দ কী বলেছেন? আমি রামকৃষ্ণের ধর্ম মানি, স্বামী বিবেকানন্দের ধর্ম মানি। আমি জেনে-শুনে একটা নোংরা ধর্ম, যেটা জুমলা পার্টির লোকরা বানিয়েছে, সেটা মানি না। ওটা হিন্দু ধর্ম বিরোধী।'

প্রসঙ্গত, জুমলা শব্দের অর্থ বাস্তবায়ন হয়নি এমন প্রতিশ্রুতি বা ঠুনকো প্রতিশ্রুতি এবং এক্ষেত্রে মমতার ইঙ্গিত ছিল ভারতে ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল বিজেপির দিকে। হিন্দিতে বক্তৃতা দেওয়ার সময় তার ব্যবহৃত 'গন্দা ধর্ম' (নোংরা ধর্ম) শব্দই বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

বিজেপি প্রশ্ন তুলেছে, তৃণমূলপ্রধান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সনাতন ধর্মের বিষয়ে এ কথা বলতে চেয়েছেন কী না, আর বিরোধী দলগুলো প্রশ্ন তুলেছে, ঈদের মঞ্চকেই কেন বারবার 'রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে' ব্যবহার করা হচ্ছে?

মমতার দল তৃণমূল অবশ্য দাবি করেছে যে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্য 'বিকৃত' করে 'অপপ্রচার' চালানো হচ্ছে।

ঈদের নামাজের পর প্রতিবছরই কলকাতার রেড রোডে আয়োজিত অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা। প্রথা মেনে এবারও ওই অনুষ্ঠানে গিয়েছিলেন তিনি।

নিজের বক্তৃতায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নাম না উল্লেখ করে সিপিএম ও বিজেপির বিরুদ্ধে ধর্মীয় বিভাজনের অভিযোগ তোলেন। তবে তিনি বলেন, পশ্চিমবঙ্গে ধর্মীয় বিভাজনের কাজ সহজ নয়।

বিজেপিকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, 'গান্ধীজী যখন লড়াই করেছিলেন, তখন হিন্দু-মুসলমান ভেদাভেদ করেননি। আপনারা দেশের বিভাজন চাইছেন? সংবিধানে ধর্মনিরপেক্ষতার কথা বলা আছে। নবরাত্রি চলছে, আমি তাদেরও শুভেচ্ছা জানাব, কিন্তু আমি চাই না, এর জন্য আপনারা দাঙ্গা করুন। সাধারণ মানুষ এসব করেন না, এসব করে একটা রাজনৈতিক দল। এটা লজ্জার বিষয়।'

এরপরই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মন্তব্য করেন বিজেপি যে ধর্মের কথা বলে, তিনি তার বিরুদ্ধে। আর এখান থেকেই পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে 'বিতর্কের' সূত্রপাত।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্যের পর বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লেখেন- 'রেড রোডে মুসলমান সম্প্রদায়কে আপনার প্রায় বোধগম্য উর্দু ভাষা দিয়ে সন্তুষ্ট করার সময় আপনি একটা বিবৃতি দিয়েছেন যে, আপনি গন্দা ধর্ম বা নোংরা ধর্ম অনুসরণ করেন না। নির্দিষ্টভাবে কোন ধর্মের কথা বলছিলেন আপনি? সনাতন হিন্দু ধর্ম?'

শুভেন্দু পাল্টা প্রশ্ন তোলেন, 'সোমবারের ওই অনুষ্ঠান কী ধর্মীয় অনুষ্ঠান ছিল, না কি রাজনৈতিক?' তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে 'উস্কানিমূলক বক্তৃতার' অভিযোগ করেন।

এইচ.এস/



মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

সুখবর এর নিউজ পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

খবরটি শেয়ার করুন

Footer Up 970x250