বৃহস্পতিবার, ২৯শে জানুয়ারী ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১৫ই মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ

*** আড়াই মাস চেষ্টা করেও আল জাজিরা তারেক রহমানের সাক্ষাৎকার নিতে পারেনি *** শীতে পিঠ ব্যথা করে—টাইম ম্যাগাজিনকে তারেক রহমান *** অজিত পাওয়ারকে বহনকারী বিমান বিধ্বস্তের আগে ‘রহস্যজনক নীরবতা’ *** ভারতীয় কূটনীতিকদের পরিবার প্রত্যাহারের সংকেত বুঝতে পারছে না সরকার *** ‘আমি কিন্তু আমলা, আপনি সুবিচার করেননি’ *** প্রধান উপদেষ্টার কাছে অ্যামনেস্টির মহাসচিবের খোলা চিঠি *** ভারত-ইউরোপের মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি ও বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি *** ‘গ্রিনল্যান্ড: মার্কিন হুমকি বাংলাদেশের জন্য উদ্বেগের বিষয়’ *** নতুন মার্কিন নীতি বাংলাদেশের উপর যে প্রভাব ফেলবে *** ‘কর্মক্ষেত্রে কাজের চাপ পুরুষদের সমকামী করে তুলতে পারে’

সাদা চুলের উপদেষ্টার তালেবানি রাষ্ট্রের পরিকল্পনা!

নিজস্ব প্রতিবেদক

🕒 প্রকাশ: ০৪:৫৭ অপরাহ্ন, ২৫শে ডিসেম্বর ২০২৫

#

ছবি: সংগৃহীত

অন্তর্বর্তী সরকারের ভেতরে একটি 'প্যারালাল গভর্নমেন্ট' বা ছায়া-শাসন কাঠামো সক্রিয় রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন অনুসন্ধানী সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়ের।

তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের দুজন প্রভাবশালী উপদেষ্টা, যাদের একজনকে 'সাদা চুলের উপদেষ্টা' হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়, তারা ঘনিষ্ঠ নেটওয়ার্কের মাধ্যমে রাষ্ট্র পরিচালনায় অঘোষিত প্রভাব বিস্তার করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। গত মঙ্গলবার (২৩শে ডিসেম্বর) ‘পালস টু পলিটিক্স’ ইউটিউব চ্যানেলে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এসব অভিযোগ করেন।

জুলকারনাইন সায়ের বলেন, আমরা সবাই বলছি স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা কাজ করছেন না। হতে পারে তিনি ব্যর্থ হচ্ছেন। কিন্তু তার ওপরেও যেভাবে খোদা বক্সকে সামনে আনা হয়েছে, সেটি বড় প্রশ্ন তৈরি করছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষার ক্ষেত্রে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার ওপরে আর কারও অবস্থান থাকার কথা নয়। অথচ বাস্তবে খোদা বক্স (প্রধান উপদেষ্টার সদ্য পদত্যাগী বিশেষ সহকারী খোদা বকশ চৌধুরী) নামের একজন ব্যক্তিকে সামনে এনে কার্যত স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার ওপর একটি অতিরিক্ত স্তর তৈরি করা হয়েছে। খোদা বক্সকে কেন আনা হয়েছে, তার দায়িত্ব কী—এগুলো পরিষ্কার নয়।

তিনি দাবি করেন, সরকারের ভেতরে যে একটি হায়ারার্কি বা স্তরবিন্যাস তৈরি হয়েছে, তা মূলত এই ছায়া-শাসন কাঠামোরই অংশ। যেসব ব্যক্তির বিভিন্ন মহলে প্রবেশাধিকার রয়েছে, তারাই এই ব্যবস্থাকে সক্রিয়ভাবে নিয়ন্ত্রণ করছেন।

সাক্ষাৎকারে জুলকারনাইন সায়ের অবৈধ সীমান্ত পারাপার ও আন্তর্জাতিক যাতায়াতের একটি সংগঠিত নেটওয়ার্কের কথাও তুলে ধরেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ২০১৮ সালের দিকে একজন ইউটিউবারকে বাংলাদেশ থেকে অবৈধভাবে ভারতের সীমান্ত দিয়ে পার করে দেওয়া হয়। পরবর্তীতে তিনি থাইল্যান্ড হয়ে ফ্রান্সে পৌঁছান।

এই পুরো প্রক্রিয়ায় ভ্রমণ নথি ও পাসপোর্ট ব্যবস্থাপনায় গুরুতর অনিয়ম হয়েছে দাবি করে সায়ের বলেন, সরকারের ভেতরে থাকা প্রভাবশালী ব্যক্তিদের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সহায়তা ছাড়া এমন কার্যক্রম সম্ভব নয়।

তিনি আরও দাবি করেন, এই নেটওয়ার্কের লক্ষ্য দেশের রাষ্ট্রীয় চরিত্রে মৌলিক পরিবর্তন আনা। তার মতে, সাম্প্রতিক কিছু নিরাপত্তা ভাবনা, নীতিগত সিদ্ধান্ত এবং আন্তর্জাতিক যোগাযোগের ধরন বাংলাদেশকে একটি চরমপন্থী আদর্শিক পথে ঠেলে দেওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

এ প্রসঙ্গে তিনি একটি বিতর্কিত বক্তব্যের কথাও উল্লেখ করেন। জুলকারনাইন সায়েরের দাবি অনুযায়ী, ‘সাদা চুলের উপদেষ্টা’ একসময় নেত্র নিউজের এডিটর ইন চিফ তাসনিম খলিলকে বলেছিলেন—বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ একমাত্র পথ হতে পারে ‘তালেবানাইজেশন’। সে সময় এই বক্তব্য অনেকের কাছেই অবিশ্বাস্য মনে হলেও সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ সেই আশঙ্কাকে নতুন করে সামনে এনেছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

জুলকারনাইন সায়ের

সুখবর এর নিউজ পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

খবরটি শেয়ার করুন

Footer Up 970x250