ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া
গাইবান্ধায় ‘হ্যাঁ ভোট’ কার্যক্রম উদ্বোধন ও ভোটার সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় হট্টগোলের ঘটনা ঘটেছে। সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য চলাকালে ‘ভুয়া’ ‘ভুয়া’ বলে স্লোগান দেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা।
গতকাল সোমবার (১৯শে জানুয়ারি) বিকেলে গাইবান্ধা ইনডোর স্টেডিয়ামে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। এ ঘটনার একটি ভিডিও ফেসবুকসহ অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
এ বিষয়ে খোঁজ নিলে গাইবান্ধার স্থানীয় একাধিক সাংবাদিক সুখবর ডটকমকে মুঠোফোন বলেন, সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দিচ্ছিলেন আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল। বক্তব্যের এক পর্যায়ে তিনি শরিফ ওসমান বিন হাদির হত্যাকারীদের বিচার প্রসঙ্গে বলেন, ‘হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে যে কণ্ঠ উচ্চারিত হয়েছে, তা জাগ্রত রাখতে হবে। ত্রুটিপূর্ণ চার্জশিটের বিষয়ে আদালত তার কাজ করেছেন। আমরা মন্ত্রণালয়ও দ্রুত বিচারকার্য নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছি।’
এ বক্তব্যের পর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা প্রশ্ন তুললে উত্তরে আসিফ নজরুল বলেন, ‘চার্জশিট যদি গৃহীত না হয়, তাহলে আপনার কথার পেছনে যুক্তি থাকতে হবে। আর আমাদের মেয়াদ শেষ হলে বিচার হবে না— এমন আত্মবিশ্বাসহীনতা কেন?'
এই উত্তরের পরই শুরু হয় হট্টগোল। মঞ্চের সামনে থাকা আন্দোলনকারীরা দাঁড়িয়ে স্লোগান দিতে থাকেন— ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস!’, ‘আমার ভাই কবরে, খুনি কেন বাইরে?’, ‘আইন উপদেষ্টা কী করেন, আসিফ নজরুল কী করেন?’
পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে উপস্থাপক মাইক্রোফোনে সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বান জানান এবং বক্তব্যের সুযোগ দেওয়ার অনুরোধ করেন। কিন্তু স্লোগান অব্যাহত থাকায় জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান মোল্লা মঞ্চ থেকে নেমে আন্দোলনকারীদের থামাতে চেষ্টা করেন। ঘটনার একপর্যায়ে আসিফ নজরুল সভাস্থল ছেড়ে চলে যান।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাদের অভিযোগ, ‘ক্ষমতায় আসার আগে আসিফ নজরুল বলেছিলেন, “রাষ্ট্রক্ষমতায় গেলে জান-প্রাণ দিয়ে ন্যায়বিচারের জন্য কাজ করবো।” কিন্তু দায়িত্ব পাওয়ার পর সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনি হত্যা, সাম্য ও হাদি হত্যাসহ বহু মামলার বিচার এখনও ঝুলে আছে। আমরা তাই প্রশ্ন করেছি, আপনি কী করেছেন? কিন্তু তিনি কোনও স্পষ্ট উত্তর দিতে পারেননি। তিনি একজন অযোগ্য উপদেষ্টা।’
এ বিষয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের গাইবান্ধা জেলার সদস্যসচিব বায়জিদ বোস্তামী জিম মুঠোফোনে বলেন, ‘হাদি শহীদ হয়েছেন, তার হত্যার বিচার আজও হয়নি। আমরা বিচার চাই, প্রতিশ্রুতির রাজনীতি নয়। রাষ্ট্র যখন ন্যায়বিচারে ব্যর্থ হয়, তখন আমরা মাঠে নামি। সরকারের মেয়াদ শেষ হতে চলেছে, বিচার কোথায়? দায় এড়ানোর জন্য আইনি জটিলতা তোলা এখন আর গ্রহণযোগ্য নয়। আমরা ন্যায়বিচারের আন্দোলন চালিয়ে যাবো।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা কারও ইজ্জত নষ্ট করতে যাইনি, প্রশ্ন করেছি। কিন্তু প্রশ্নের জায়গায় উপদেষ্টা মহোদয় পাল্টা প্রশ্ন তুলেছেন। এটা ন্যায়বিচার নিশ্চিতের ভাষা নয়, এটা রাজনৈতিক আত্মরক্ষার চেষ্টা।’
এদিকে, সভাস্থলে হট্টগোল ও স্লোগানকে কেন্দ্র করে জেলাজুড়ে তীব্র আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিষয়টি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। কেউ এটিকে ‘যৌক্তিক প্রতিবাদ’ হিসেবে আখ্যায়িত করছেন, আবার অনেকে প্রশাসনিক ব্যর্থতা ও সমন্বয়হীনতাকে দায়ী করছেন।
রাজনৈতিক মহল ও সুশীল সমাজ বলছে, ওসমান হাদির মতো আলোচিত হত্যাকাণ্ডের বিচার ঝুলে থাকার দায় এখন আর শুধুই আইনি জটিলতার পেছনে ঢেকে রাখা যাবে না। রাষ্ট্রের প্রতিশ্রুত ন্যায়বিচারের পরিবর্তে আত্মরক্ষামূলক রাজনৈতিক বক্তব্য দিলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হবে— আস্থা নয়, অবিশ্বাসই বাড়বে।
খবরটি শেয়ার করুন