ছবি: সংগৃহীত
ভোটের আগের দিন আজ বুধবার (১১ই ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টার দিকে নীলফামারীর সৈয়দপুর বিমানবন্দরে বিপুল পরিমাণ টাকাসহ জামায়াতে ইসলামীর এক নেতাকে আটক করা হয়েছে। তার নাম বেলাল উদ্দিন প্রধান। তিনি ঠাকুরগাঁও জেলা জামায়াতের আমির।
নীলফামারীর পুলিশ সুপার শেখ জাহিদুল ইসলাম আজ বুধবার বেলা পৌনে একটার দিকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, আটক ব্যক্তি বলেছেন যে তার কাছে থাকা অর্থের পরিমাণ অর্ধ কোটি টাকার বেশি। পুলিশ এখনও গুনে দেখেনি। সবার উপস্থিতিতে টাকাগুলো গোনা হবে।
আটকের পর সাংবাদিকদের হাতে আসা একটি ভিডিওতে বেলাল উদ্দিনকে বলতে শোনা গেছে, টাকার পরিমাণ প্রায় ৬০ লাখ। এটি তার ব্যবসার টাকা।
ভিডিওটি এর মধ্যে ফেসবুকসহ অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। নানা শ্রেণি-পেশার নেটিজেনদের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা চলছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সূত্রে জানা গেছে, বেলাল উদ্দিন ঢাকা থেকে একটি ফ্লাইটে সৈয়দপুর বিমানবন্দরে যান। তার ব্যাগে আনুমানিক ৪০ লাখ টাকা আছে—এমন একটি তথ্য তারা জানতে পারেন। পরে তাকে আটক করা হয়। বিমানবন্দরে তার সঙ্গে ছিলেন ঠাকুরগাঁও জেলা জামায়াতের দপ্তর সম্পাদক আবদুল মান্নান।
পরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বেলাল উদ্দিন প্রধানকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করেন। সেখানে তিনি বলেন, তার বাড়ি ঠাকুরগাঁও সদরের হাজীপাড়ায়। তিনি শিক্ষকতা করেন।
ব্যাগে কত টাকা আছে জানতে চাইলে জামায়াতের এই নেতা বলেন, ‘এখানে ৫০-৬০ লাখ, ৫০ লাখ প্লাস টাকা আছে।’ কিসের টাকা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ব্যবসার, গার্মেন্টসের। জিজ্ঞাসাবাদের সময় বেলাল উদ্দিন অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।
নীলফামারীর পুলিশ সুপার শেখ জাহিদুল ইসলাম বলেন, উদ্ধারকৃত অর্থের উৎস ও ব্যবহারের উদ্দেশ্য সম্পর্কে বেলাল উদ্দিনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। নির্বাচনী পরিবেশে এত বিপুল পরিমাণ অর্থ বহনের বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল হিসেবে বিবেচনা করছে জেলা পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। আইনি প্রক্রিয়া শেষে এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য গণমাধ্যমকে জানানো হবে।
সৈয়দপুর বিমানবন্দরে ঠাকুরগাঁও জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির বেলাল উদ্দিনের কাছে টাকা তার ব্যবসার। এই টাকা নির্বাচনী প্রচারণার কোনো কাজে ব্যবহারের জন্য ছিল না বলে দাবি করেছেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের।
আজ বুধবার সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ঠাকুরগাঁও জেলা জামায়াতের আমিরকে নিয়ে মিথ্যা তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। তার কাছে থাকা টাকা নির্বাচনী প্রচারণার কোনো কাজে ব্যবহারের জন্য ছিল না; এটি ছিল তার ব্যবসায়িক টাকা।
জে.এস/
খবরটি শেয়ার করুন