ছবি: সংগৃহীত
আসন্ন গণভোটে ‘না’ ভোট দেবেন বলে জানিয়েছেন ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক ও আলোচিত-সমালোচিত অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট আসিফ মাহতাব উৎস। গত সোমবার (৯ই ফেব্রুয়ারি) এক ভিডিও বার্তায় তিনি একথা বলেন।
ভিডিওতে তিনি বলেন, আপনারা অনেকেই আমাকে জিজ্ঞেস করছেন যে আমি জুলাই সনদে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিব নাকি ‘না’ ভোট দিব। বিভিন্ন কাজে ব্যস্ত থাকার কারণে আমি অনলাইনে এতটা সক্রিয় না। কিন্তু আপনারা যেহেতু প্রচুর সংখ্যক মানুষ আমাকে মেসেজ দিচ্ছেন, আমার উত্তর হচ্ছে— আমি ‘না’ ভোট দিব।
আসিফ মাহতাবের এই ভিডিও ফেসবুকসহ অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। নানা শ্রেণি-পেশার নেটিজেনদের মধ্যে তার বক্তব্য নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা চলছে।
তিনি বলেন, আমি একটু সংক্ষেপে বলার চেষ্টা করব যে কেন আমি না ভোট দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমাদের জুলাই সনদে ৮৪ নাম্বার ধারায় বলা আছে— যদি জুলাই সনদ বাস্তবায়ন হয়, তবে বাংলাদেশ ‘ওপেন গভমেন্ট পার্টনারশিপে’ যোগ দিবে। ওপেন গভমেন্ট পার্টনারশিপ জিনিসটা কী? জুলাই এ আমরা যে আন্দোলন করেছি তার সঙ্গে এর সম্পর্কটা কী? আমরা কি ওপেন গভমেন্ট পার্টনারশিপ সাথে যোগ দেওয়ার জন্য আন্দোলন করেছি?
‘ওপেন গভমেন্ট পার্টনারশিপের’ কার্যক্রম প্রসঙ্গে আসিফ মাহতাব বলেন, ওপেন গভমেন্ট পার্টনারশিপ হচ্ছে ‘এলজিবিটিকিউ রাইটস’ এর পক্ষে কাজ করবে। এলজিবিটিকিউ রাইটস বাস্তবায়ন করবে। জুলাই সনদ পাশ হলে তারা বলবে এটা তো পাশ হয়ে গেছে, আপনাকে এখন এলজিবিটিকিউ বাস্তবায়ন করতে হবে।
তিনি বলেন, আমি তো ওপেন সোসাইটির জন্য সংগ্রাম করি নাই, আপনি করেন নাই। কিন্তু আপনাকে ভোট দেওয়ানো হবে এবং ভোট দেওয়ানোর পরে এগুলি (এলজিবিটিকিউ) বাস্তবায়ন করা হবে।
প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের শুরুতে জাতীয় শিক্ষাক্রমের একটি পাঠ্যবইয়ে থাকা ট্রান্সজেন্ডার বিষয়ক অধ্যায় নিয়ে বেসরকারি ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের খণ্ডকালীন এই সাবেক শিক্ষক আসিফ মাহতাবের বক্তব্য নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিতর্ক ও আলোচনা শুরু হয়।
তখন সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া এক ভিডিওতে আসিফ মাহতাবকে ট্রান্সজেন্ডার এবং সমকামিতা বিরোধী বক্তব্য দিতে দেখা যায়। সেসময় তাকে সপ্তম শ্রেণির পাঠ্যবইয়ের এক অধ্যায়ে ট্রান্সজেন্ডার বিষয়ক একটি গল্পের পাতা ছিঁড়ে ফেলতেও দেখা যায়। বিতর্কের সূত্রপাত এর পরই।
তখন ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয় দর্শন বিভাগের খণ্ডকালীন প্রভাষক ওই শিক্ষকের সাথে চুক্তি বাতিল করে। তবে গণমাধ্যমকে মাহতাব তখন বলেন, নিজের দেওয়া বক্তব্যকে তিনি সঠিক বলে মনে করেন। আইনজীবীদের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে তিনি মনে করেন, তিনি 'আইনবিরোধী কোনো বক্তব্য দেননি'।
খবরটি শেয়ার করুন