মঙ্গলবার, ১০ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
২৭শে মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ

*** বিসিবির চাওয়া পূরণ করল আইসিসি *** জামায়াতের ভোটের প্রচারের সময় টাকা দিলেন আইনজীবী শাহরিয়ার, ভিডিও ভাইরাল *** বাংলাদেশের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা শুল্ক কমল ১ শতাংশ *** ‘আনোয়ার হোসেন মঞ্জু—দ্য মিডিয়া বস’ *** ভোট বর্জন করলেন আওয়ামী লীগের কারাবন্দী সাবেক এমপি আসাদ ও এনামুল *** জামায়াতকে ভোট দিলে ঈমান নষ্ট হয়ে যাবে: মির্জা ফখরুল *** সরকার গঠন করলে ফজর নামাজ পড়েই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন শুরু করব: জামায়াত আমির *** রাষ্ট্র পরিচালনায় বিএনপির মূলমন্ত্র হবে মহানবীর মহান আদর্শ-ন্যায়পরায়ণতা: তারেক রহমান *** দাঁড়িপাল্লায় ভোট দেন, জান্নাত অবধারিত: জামায়াত প্রার্থী *** ‘আমি গায়ের জোরেই দল করি, এটা তারেক রহমানও জানেন’

‘এবার কি জামায়াত আমিরের জিহ্বা হ‍্যাক হয়েছে?’

নিজস্ব প্রতিবেদক

🕒 প্রকাশ: ০৪:১৯ অপরাহ্ন, ৯ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬

#

ছবি: সংগৃহীত

জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক, রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব জ ই মামুনের প্রশ্ন, এবার কি জামায়াতে ইসলামীর আমিরের জিহ্বা হ‍্যাকড হয়েছে? তিনি বলেন, ধর্ষণের শিকার হয়ে মারা যাওয়া মাগুরার ৮ বছর বয়সী মেয়ে শিশু আছিয়ার কথা মনে পড়লো জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমানের সাম্প্রতিক এক বক্তব্য (ধর্ষণের কথিত সংজ্ঞা বিষয়ক) শুনে। মুক্তিযুদ্ধের সময় পাক হানাদার বাহিনী, রাজাকার আর আল বদরদের দ্বারা ধর্ষণের শিকার আড়াই লাখ মা-বোনসহ আরো অনেকের কথাই মনে পড়ছে।

জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় এলে দণ্ডবিধির ৩৭৫ ধারায় ধর্ষণের যে সংজ্ঞা  বলা হয়েছে, সেটা বদল করে ধর্ষণের শিকার নারীদের বিচার শুরু করবে কিনা, এমন প্রশ্নও সামনে এনেছেন জ ই মামুন।

তিনি বলেন, একের পর এক বিতর্কিত, আপত্তিকর, বিশেষত নারী বিষয়ে চরম ঔদ্ধত্যপূর্ণ বক্তব‍্য দিয়ে শফিকুর রহমান নিজেকে এবং তার দলকে দেশবাসীর কাছে হাস‍্যকর এবং ঘৃণিত করে তুলছেন। তিনি জামায়াত নারী নেতৃত্ব স্বীকার করে না বললেও এই জামায়াতই ২০০১-০৬ যখন চারদলীয় জোটের শরিক হিসেবে খালেদা জিয়ার সরকারের অংশীদার ছিল, তখন নারী নেতৃত্ব সম্পর্কে তাদের কোনো আপত্তি ছিল না। কর্মজীবী নারীদের 'পতিতা' বলে জামায়াত আমিরের এক্স পোস্ট নিয়ে নানা কাহিনি হলো, সেই পোস্ট তো আদতে আল জাজিরা টিভি চ্যানেলকে দেওয়া তার সাক্ষাৎকারেরই বর্ধিত রূপ।

গতকাল রোববার (৮ই ফেব্রুয়ারি) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে দেওয়া এক পোস্টে জ ই মামুন এসব কথা বলেন। তার পোস্ট এর মধ্যে এই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। নানা শ্রেণি-পেশার নেটিজেন তার বক্তব্যের বিষয়ে নানামুখী আলোচনা-পর্যালোচনা করছেন। তার ফেসবুক পোস্টটি পাবলিক প্রাইভেসি করা।

জ ই মামুন লেখেন, 'আপনাদের কি আছিয়ার কথা মনে আছে? মাগুরার ৮ বছরের মেয়ে আছিয়া, গত বছরের মার্চে মাসে বোনের বাড়ি বেড়াতে গিয়ে বোনের শ্বশুরের দ্বারা ধর্ষণের শিকার হয়েছিল যে মেয়েটি। ধর্ষণের শিকার হয়ে আছিয়া গুরুতর অসুস্থ হয়ে পডলে তাকে মাগুরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তখন সেই ধর্ষণের বিচারের দাবিতে কী উত্তাল আন্দোলন শুরু হলো শাহবাগ থেকে শুরু করে সারাদেশে।'

তিনি বলেন, তখন আন্দোলনের মুখে তাকে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে এনে উন্নত চিকিৎসা দেওয়া হলো, কিন্তু কদিন বাদে সেখানেই তার মৃত্যু হয়। বছর ঘোরার আগেই আমরা সেই দেশ উত্তাল করা শিশু আছিয়ার কথা ভুলে গিয়েছি। ভুলে যাওয়াই স্বাভাবিক, কারণ প্রতিদিন এই পোড়ার দেশে এত ধর্ষণ, এত হত‍্যা, এত মৃত্যু, এত মবের খবর দেখি, মানুষ কয়টা মনে রাখবে!

তিনি লেখেন, আমিও ভুলেই গিয়েছিলাম, কিন্তু আছিয়ার কথা মনে পড়ল জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমানের সাম্প্রতিক এক বক্তব্য শুনে। দেশে জাতীয় সংসদ নির্বাচন সমাগত। এমন সময় তিনি একটি দলের প্রধান হিসেবে ধর্ষণের এমন এক নতুন সংজ্ঞা হাজির করলেন, যা শুনে আমার মতো অনেকের আক্কেল গুড়ুম হয়ে গেলো। তিনি বলেছেন, “রেপ (ধর্ষণ) তো রেপই। রেপ মানে তো দুইটা অসৎ পুরুষ আর নারী যখন একত্রিত হয় বিবাহবহির্ভূত পন্থায়, সেটার নাম রেপ হবে।”

জ ই মামুন বলেন, তার মানে জামায়াতের আমির মনে করেন, ধর্ষণ দুজন অসৎ নারী ও পুরুষের বিবাহবহির্ভূত যৌন মিলন! সেখানে তাহলে অপরাধী কে? আমিরের ভাষায় দুজনই তো অসৎ! আমিরের এই কথা শুনেই আছিয়ার কথা মনে পড়লো। মুক্তিযুদ্ধের সময় পাক হানাদার বাহিনী, রাজাকার আর আল বদরদের দ্বারা ধর্ষণের শিকার আড়াই লাখ মা-বোনসহ আরো অনেকের কথাই মনে পড়ছে, কিন্তু সে কথা এখন থাক।

তিনি বলেন, জামায়াতের আমিরকে আমি প্রজ্ঞাবান ভাবতে চেয়েছিলাম। কিন্তু একের পর এক বিতর্কিত, আপত্তিকর, বিশেষত নারী বিষয়ে চরম ঔদ্ধত্যপূর্ণ বক্তব‍্য দিয়ে তিনি নিজেকে এবং তার দলকে দেশবাসীর কাছে হাস‍্যকর এবং ঘৃণিত করে তুলছেন। আল জাজিরায় দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি স্পষ্ট বলেছেন, জামায়াত নারী নেতৃত্ব স্বীকার করে না। কিন্তু এই জামায়াতই ২০০১-০৬ যখন চারদলীয় জোটের শরিক হিসেবে খালেদা জিয়ার সরকারের অংশীদার ছিল, তখন নারী নেতৃত্ব সম্পর্কে তাদের কোনো আপত্তি ছিল না।

তিনি বলেন, তখন এ বিষয়ে কোনো ধর্মীয় ব‍্যাখ‍্যা বা বয়ান নিয়েও হাজির হননি জামায়াত নেতারা। অথচ এখন এ নিয়ে বয়ানের পর বয়ান, এমনকি জামায়াতের নারী কর্মীরাও আমিরের কথারই প্রতিধ্বনি করে যাচ্ছেন। আবার কর্মজীবী নারীদের 'পতিতা' বলে তার যে এক্স পোস্ট নিয়ে নানা কাহিনি হলো, সেই পোস্ট তো আদতে আল জাজিরার সাক্ষাৎকারেরই বর্ধিত রূপ। সেটাকে তিনি অবশ‍্য হ‍্যাকড হওযা বলে চালিয়ে দিয়েছেন, এবার এই ধর্ষণের সংজ্ঞা নিয়ে প্রতিবাদের মুখে তিনি কি বলবেন- এবার তার জিহ্বা হ‍্যাক হয়েছে?

দীর্ঘ ফেসবুক পোস্টে তিনি আরো বলেন, 'কথা বলছিলাম ধর্ষণ প্রসঙ্গে। বাংলাদেশের প্রচলিত আইন বা দণ্ডবিধিতে ধর্ষণের যে সংজ্ঞা দেওয়া আছে, সেটা এখানে উল্লেখ করা দরকার। দণ্ডবিধির ৩৭৫ ধারায় বলা হয়েছে, একজন পুরুষ কর্তৃক কোনো নারীর সাথে নিচের ৫টি পরিস্থিতির যে কোনো একটিতে যৌন সঙ্গম করা হলে তা 'ধর্ষণ' হিসেবে গণ্য হবে: 

১. নারীর ইচ্ছার বিরুদ্ধে: যদি নারী যৌন মিলনে আগ্রহী না থাকেন

২. নারীর সম্মতি ব্যতিরেকে: সরাসরি সম্মতি নেওয়া না হলে

৩. ভীতি প্রদর্শন করে সম্মতি আদায়: যদি মৃত্যু বা আঘাতের ভয় দেখিয়ে নারীর সম্মতি নেওয়া হয়

৪. প্রতারণামূলক সম্মতি: যদি পুরুষটি জানেন যে তিনি ওই নারীর স্বামী নন, কিন্তু নারীটি তাকে নিজের স্বামী মনে করে ভুলবশত সম্মতি দেন এবং 

৫. অপ্রাপ্তবয়স্কের সাথে সঙ্গম: যদি নারীর বয়স ১৪ বছরের কম হয়, তবে তার সম্মতি থাক বা না থাক, সেটি ধর্ষণ বলে গণ্য হবে (নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ এর ৯ ধারা অনুযায়ী এই বয়সের সীমা ১৬ বছর ধরা হয়েছে)।'

সবশেষে জ ই মামুন বলেন, প্রশ্ন হলো, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জিতে জামায়াত ক্ষমতায় এলে এই আইন থাকবে নাকি ধর্ষণে অংশগ্রহণকারী 'অসৎ' নারী হিসেবে আছিয়াদের বিচার শুরু হবে? এই পোস্টের কমেন্টে তিনি জামায়াত আমিরের পুরো বক্তব্যের একটি লিঙ্কও সংযুক্ত করেন।

জ ই মামুন

সুখবর এর নিউজ পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

খবরটি শেয়ার করুন

Footer Up 970x250