ফাইল ছবি
অন্তর্বর্তী সরকার গত দেড় বছরে ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘুদের ‘দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিকে পরিণত করেছে’ বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক রোবায়েত ফেরদৌস।
তিনি বলেছেন, “১৮ মাসের অন্তর্বর্তী সরকারের অর্জন হচ্ছে—বাংলাদেশের হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টানকে স্থায়ীভাবে দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিককে পরিণত করে দেওয়া হয়েছে। তারা স্থায়ীভাবে দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিক পরিণত হয়েছেন।”
আজ রোববার (৮ই ফেব্রুয়ারি) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন। চট্টগ্রামের রাউজান ও মীরসরাইয়ে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের পুড়ে যাওয়া ঘরবাড়ি পরিদর্শন শেষে এ সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করে ‘সিটিজেনস অব হিউম্যান রাইটস’।
চট্টগ্রামের রাউজান ও মীরসরাইয়ে সম্প্রতি সনাতন ধর্মাবলম্বীর অন্তত ১৯টি বাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। রাতের বেলা বাইরে থেকে তালা লাগিয়ে এসব অগ্নিসংযোগ করা হয় বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়েছে।
নির্বাচনের আগে সংখ্যালঘুদের সঙ্গে এমন ‘নির্মম ঘটনার’ প্রসঙ্গ তুলে রোবায়েত ফেরদৌস বলেন, “আমরা দেখেছি মীরসরাইয়ে ডাকাতি করে নাই, কিচ্ছু নিয়ে যায় নাই। বাইরে থেকে সিটকিনি দিয়ে আগুন লাগিয়ে দিয়েছে। তার মানে একটা প্যানিক তৈরি করা। আবারো পুড়িয়ে মারার চেষ্টা। ভয় তৈরি করা, যেন এরা ভোটে না যায়।”
তার ভাষ্য, “আবার ভোট দিতে না গেলে একটা বিশেষ পলিটিক্যাল পার্টির সঙ্গে যুক্ত করে বলা হবে এই কারণে নির্বাচন বয়কট করেছে। আবার হেরে যাওয়া প্রার্থীরাও বলে, ‘তোমার কারণে আমি পার হতে পারিনি’।”
এই ‘দ্বিমুখী প্যারাডক্সে’ সংখ্যালঘুরা রয়েছেন মন্তব্য করে অধ্যাপক রোবায়েত ফেরদৌস বলেন, “ভোটের কথা আপনি বলছেন, সে যে ভোটে যাবে তার নিরাপত্তা দিতে হবে এবং ফিরে এসে সে তার বাসায় থাকতে পারবে কি না।”
তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা থেকে শুরু করে ঘুষ ও তদবির সংস্কৃতি বন্ধে প্রশাসনের ব্যর্থতা সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তাহীনতাকে আরও উসকে দিয়েছে। রাষ্ট্র, আইন ও প্রশাসন প্রান্তিক মানুষের থেকে দূরে সরে গেলে অসহায় মানুষের কাছে ঈশ্বরকে বিচার দেওয়া ছাড়া আর কোনো পথ থাকে না।
খবরটি শেয়ার করুন