ছবি: সংগৃহীত
মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসের রাষ্ট্রীয় কর্মসূচিতে গীতা পাঠ বাদ রাখার নির্দেশ দিয়েছিলেন রাজশাহী-১ আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির মুজিবুর রহমান। এ নিয়ে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। পরে অবশ্য এমপির নির্দেশনা অমান্য করেই গীতা পাঠ করানো হয়।
আজ বৃহস্পতিবার স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস তানোর উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে দিনব্যাপী নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে উদযাপন করা হয়। কিন্তু, এর আগের দিন তানোর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাঈমা খান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার জন্য সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমানকে ফোন করে দাওয়াত করেন। এ সময় তিনি অনুষ্ঠানে গীতাপাঠ না রাখতে ইউএনওকে নির্দেশনা দেন।
স্থানীয় সাংবাদিক ও তানোরের সাবেক মেয়র জেলা বিএনপির সদস্যরা বিষয়টির সত্যতা জানতে চাইলে ইউএনও স্বীকার করেন। এই ঘটনার একটি ভিডিও সমাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এলে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়।
উপজেলা হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মনীন্দ্র কুমার নাথ মুঠোফোনে সুখবর ডটকমকে বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধে সব ধর্মের মানুষের অবদান রয়েছে। রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে সব ধর্মের ধর্মগ্রন্থ থেকে পাঠ হওয়া সমতার প্রতিফলন।’
এ বিষয়ে ইউএনও নাঈমা খান সুখবর ডটকমকে বলেন, ‘এমপি স্যারকে টেলিফোনে দাওয়াত করলে তিনি গীতা পাঠ বাদ রাখার কথা বলেছিলেন। কিন্তু পরে খোঁজ নিয়ে জানতে পারি, জেলাসহ অন্যান্য উপজেলার অনুষ্ঠানেও গীতা পাঠ রয়েছে। তাই, জাতীয় কর্মসূচির সঙ্গে মিল রেখে আমরা গীতা পাঠ করিয়েছি। তখন অবশ্য এমপি স্যার ছিলেন না। এ নিয়ে পরে কোনো সমস্যা হয়নি।’
এ বিষয়ে সংসদ সদস্য ও জামায়াতের নায়েবে আমির মুজিবুর রহমান বলেন, ‘জাতীয় সংসদে শপথের সময় শুধু কোরআন তেলাওয়াত হয়েছে। সংসদ অধিবেশনও শুধু কোরআন তেলাওয়াতে শুরু হচ্ছে। কোনো কেতাব পাঠ হচ্ছে না। তাই আইনশৃঙ্খলা সভায় আমি ইউএনওকে বলেছি, সংসদ যেভাবে শুরু হচ্ছে সেভাবে শুধু কোরআন তেলাওয়াত রাখতে, সংসদের ধারা চর্চা করতে বলেছি। কেতাব পাঠ সাবেক ফ্যাসিস্ট সরকারের চর্চা ছিলো। গীতা বা বাইবেল আমি উচ্চারণ করিনি।’
তিনি আরও বলেন, ‘যখন গীতা পাঠ হয়েছে, তখন আমি অনুষ্ঠানে ছিলাম না। শুধু মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনায় ৪০ মিনিট ছিলাম। সেখানে কী পাঠ হয়েছে তা জানা নেই।’
খবরটি শেয়ার করুন