এল মেনচোর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে প্রধান বিমানবন্দরগুলোতে চরম বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়। ছবি: এক্স
মেক্সিকোর ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ মাদক সম্রাট ও ‘জালিসকো নিউ জেনারেশন কার্টেল’ (সিজেএনজি)-এর প্রধান নেমেসিও রুবেন ওসেগুয়েরা সেরভান্তেস ওরফে ‘এল মেনচো’। স্থানীয় সময় গত রোববার (২২শে ফেব্রুয়ারি) সেনাবাহিনীর অভিযানে মৃত্যু হয় তার। এই মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে দেশটিতে ব্যাপক সহিংসতা শুরু হয়।
এই অস্থিরতায় স্থবির হয়ে পড়ে সড়ক যোগাযোগ এবং বাতিল হয় অসংখ্য ফ্লাইট। প্রধান বিমানবন্দরগুলোতে চরম বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়। এমন সময় নিজেদের এক কর্মীকে নিরাপদে সরিয়ে নিতে যুক্তরাষ্ট্রগামী সব ফ্লাইটের টিকিট কিনে নিয়েছে একটি মার্কিন কোম্পানি। খবর এনডিটিভির।
ক্লাউড প্ল্যাটফর্ম নিয়ে কাজ করা সান ফ্রান্সিসকোভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ‘ভারসেল’ তাদের ওই কর্মীকে নিরাপদে দেশে ফেরাতে গুয়াদালাহারা থেকে যুক্তরাষ্ট্রগামী সবকটি ফ্লাইটের টিকিট বুক করে নেয়, যাতে কোনো না কোনো একটি ফ্লাইটে করে ওই কর্মী দেশে ফিরতে পারে।
উদ্ধার হওয়া ওই কর্মীর নাম অ্যান্ড্রু বারবা। তিনি ভারসেলে সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কর্মরত। পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ এক পোস্টে নিজের ভয়াবহ অভিজ্ঞতা তুলে ধরে প্রতিষ্ঠানের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।
বারবা জানান, সহিংসতা শুরু হলে তিনি ও তার স্ত্রী গুয়াদালাহারা বিমানবন্দরে অবস্থান করছিলেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে তারা বাধ্য হয়ে বিমানবন্দরের একটি শৌচাগারে আশ্রয় নেন। সেখানে ইন্টারনেট সংযোগ ছিল অত্যন্ত দুর্বল এবং একের পর এক ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় তারা চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েন।
সহকর্মীর এমন বিপদের কথা জানতে পেরে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত ভারসেলের শীর্ষ নেতৃত্ব দ্রুত পদক্ষেপ নেয়। তাদের লক্ষ্য ছিল যেকোনো উপায়ে ওই দম্পতিকে নিরাপদে বের করে আনা। এরই অংশ হিসেবে তারা ওই বিমানবন্দর থেকে যুক্তরাষ্ট্রগামী প্রতিটি ফ্লাইটের টিকিট কিনে নেয়, যাতে অন্তত একটি ফ্লাইট উড্ডয়ন করলেও যেন তারা ফিরতে পারেন।
শেষ পর্যন্ত তাদের এই কৌশল সফল হয়। বারবা ও তার স্ত্রী একটি ফ্লাইটে উঠতে সক্ষম হন এবং নিরাপদেই টেক্সাসের ডালাসে পৌঁছান।
তিন বছর ধরে প্রতিষ্ঠানটিতে কাজ করা বারবা তার পোস্টে লেখেন, ‘১০ ঘণ্টা আগে আমি গুয়াদালাহারা থেকে পুয়ের্তো ভাল্লার্তার পথে ছিলাম। হঠাৎ বিমানবন্দরে বিশৃঙ্খলা শুরু হলে আমরা বাথরুমে লুকিয়ে পড়ি। ভারসেল আমাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না করা পর্যন্ত থামেনি।'
তিনি বলেন, ইন্টারনেট কাজ করছিল না বলে তারা আমাদের পক্ষ থেকে সব কটি ফ্লাইটের টিকিট বুক করে ফেলে, যাতে যেকোনো একটিতে আমরা ফিরতে পারি। শেষ পর্যন্ত একটি ফ্লাইট ছেড়ে আসে এবং আমরা এখন ডালাসে। এটি তাদের ‘প্ল্যান এ’ ছিল, তবে আমাদের জন্য তাদের কাছে ‘প্ল্যান বি’ এবং ‘প্ল্যান সি’-ও তৈরি ছিল। আমরা তাদের প্রতি কৃতজ্ঞ।
এই ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর নেটিজেনরা ওই প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্বের ভূয়সী প্রশংসা করছেন। একজন ব্যবহারকারী লিখেছেন, ‘একেই বলে নেতৃত্ব। সংকটে বিবৃতির চেয়ে কার্যকর পদক্ষেপ ও বিকল্প পরিকল্পনাই বেশি জরুরি। আপনি নিরাপদে আছেন জেনে ভালো লাগছে।’
তবে কেউ কেউ এমন সুযোগ ও সামর্থ্যের পেছনে থাকা ‘প্রিভিলেজ’ বা বিশেষ সুবিধার কথাও স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন। একজন মন্তব্য করেছেন, ‘আপনারা ভাগ্যবান যে আপনাদের সামর্থ্য ও সাহায্য করার মতো মানুষ ছিল। কিন্তু স্থানীয় মানুষ এবং যারা এমন সুযোগ পাননি, তাদের কথা ভেবে আপনাদের কৃতজ্ঞ থাকা উচিত।’
অন্য এক ব্যবহারকারী লিখেছেন, ‘পুরো ঘটনাটি অবিশ্বাস্য। একটি সাধারণ সফর যে কত দ্রুত জীবন বাঁচানোর লড়াইয়ে রূপ নিতে পারে, এটি তার বড় প্রমাণ। তবে আপনি নিরাপদে বের হতে পেরেছেন, এটাই স্বস্তির।’
জে.এস/
খবরটি শেয়ার করুন