বুধবার, ১লা এপ্রিল ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১৮ই চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ

*** লুবাবার বিয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রত্যেকে আইন অমান্য করেছে: নারীপক্ষ *** যুদ্ধের প্রভাবে জ্বালানি-শূন্য প্রথম দেশ হওয়ার ঝুঁকিতে বাংলাদেশ *** যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের বোঝা উচিত, বিশ্বে এখন আর তাদের আধিপত্য নেই: ইরানের রাষ্ট্রদূত *** রাজনৈতিকভাবে হয়রানির উদ্দেশ্যে করা প্রায় ২৪ হাজার মামলা প্রত্যাহার হয়েছে: আইনমন্ত্রী *** তারেক রহমান গ্রেপ্তার হওয়ার আগে যে পরামর্শ দিয়েছিলেন মাহমুদুর রহমান *** কঠোর নজরদারিতে সাবেক উপদেষ্টা এম সাখাওয়াত, যেকোনো সময় গ্রেপ্তার হতে পারেন *** ফ্যাসিস্ট আমলে ২৩৪ বিলিয়ন ডলার বিদেশে পাচার হয়েছে: প্রধানমন্ত্রী *** প্রাথমিকেও চালু হচ্ছে সপ্তাহে তিন দিন অনলাইন ক্লাস *** হামের জরুরি টিকাদান কর্মসূচি শুরু হচ্ছে রোববার: স্বাস্থ্যমন্ত্রী *** বাংলাদেশের আটকেপড়া ৬ জাহাজ হরমুজ প্রণালি পার হওয়ার অনুমতি দিয়েছে ইরান

কঠোর নজরদারিতে সাবেক উপদেষ্টা এম সাখাওয়াত, যেকোনো সময় গ্রেপ্তার হতে পারেন

আদিত্য কবির

🕒 প্রকাশ: ০৭:৪৪ অপরাহ্ন, ১লা এপ্রিল ২০২৬

#

ছবি: সংগৃহীত

সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা ও এক-এগারোর সময়কার নির্বাচন কমিশনার এম সাখাওয়াত হোসেন বর্তমানে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর কঠোর নজরদারিতে রয়েছেন বলে দাবি করেছেন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক নবনীতা চৌধুরী। তার ভাষ্যমতে, যে কোনো সময় গ্রেপ্তার করা হতে পারে এই সাবেক সেনা কর্মকর্তাকে। একইসঙ্গে নজরদারিতে আছেন এক-এগারো আমলের আরেক নির্বাচন কমিশনার ছহুল হোসাইন।

নিজের ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশিত এক ভিডিওতে নবনীতা চৌধুরী এসব তথ্য তুলে ধরেন। দেশের জাতীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন এবং ব্যক্তিগত সূত্র থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এ মূল্যায়ন করা হয়েছে ভিডিওটিতে। তার দাবি, ২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ‘নির্বাচনী ইঞ্জিনিয়ারিং’-এর অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।

ভিডিওতে নবনীতা চৌধুরী ২০০৮ সালে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে কিছু প্রশ্ন সামন এনেছেন। ২০০৮ সালের নির্বাচনের পর আওয়ামী লীগ বিপুল ব্যবধানে জয়লাভ করে সরকার গঠন করে। তবে শুরু থেকেই ওই নির্বাচন নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন ছিল বলে নবনীতার অভিমত। তার মতে, পরবর্তীতে দীর্ঘ সময় ধরে ক্ষমতায় থাকা শেখ হাসিনা নেতৃত্বাধীন সরকারের সময় সেই প্রশ্নগুলো অনেকটাই চাপা পড়ে যায়।

ভিডিওতে তিনি দাবি করেন, ওই নির্বাচন ছিল একটি সুপরিকল্পিত প্রক্রিয়ার অংশ, যার মাধ্যমে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক শক্তিকে ক্ষমতায় বসানো এবং বিরোধী দলকে দুর্বল রাখা হয়েছিল। তার ভাষ্য অনুযায়ী, সেনা-সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে এ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হয়।

নবনীতা চৌধুরী বলেন, ২০০৮ সালের নির্বাচনে ‘ইঞ্জিনিয়ারিং’-এর মাধ্যমে ফলাফল নিয়ন্ত্রণের একটি পরিকল্পনা ছিল। এতে সেনাবাহিনী, গোয়েন্দা সংস্থা, নির্বাচন কমিশন এবং প্রশাসনের একটি অংশ জড়িত ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।

তিনি দাবি করেন, অতিরিক্ত ব্যালট পেপার ছাপানো, গোপনে তা পরিবহন, নির্বাচনী কর্মকর্তাদের প্রভাবিত করা এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তায় ফলাফল নিয়ন্ত্রণ—এসব ছিল ওই পরিকল্পনার অংশ।

এই প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে তৎকালীন সামরিক ও গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের একটি অংশের বিরুদ্ধে। তাদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক ডিজিএফআই কর্মকর্তা শেখ মামুন খালেদ এবং এ টি এম আমিন।

ভিডিওতে উল্লেখ করা হয়, এক-এগারোর সময়ের দুই গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী এবং শেখ মামুন খালেদ ইতিমধ্যে গ্রেপ্তার হয়েছেন। রিমান্ডে তারা ২০০৮ সালের নির্বাচন নিয়ে বিভিন্ন তথ্য দিচ্ছেন বলে দাবি করা হয়।

সূত্রের বরাতে ভিডিওতে বলা হয়, ওই সময় সেনা-সমর্থিত সরকারের পক্ষ থেকে একটি গোপন সমঝোতার মাধ্যমে রাজনৈতিক সমীকরণ নির্ধারণ করা হয়েছিল। এর অংশ হিসেবে আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় আনার একটি নীলনকশা বাস্তবায়ন করা হয়।

ভিডিওতে সাবেক সেনা কর্মকর্তা, সাংবাদিক ও বিশ্লেষক আবু রূশদের একটি লেখার উল্লেখ করা হয়। সেখানে দাবি করা হয়েছে, নির্বাচনের আগে করা একটি গোপন জরিপে দেখা যায়, জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এককভাবে ১৫৫ থেকে ১৬০টি আসনে এগিয়ে ছিল। জোটগতভাবে এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারত।

তবে একইসঙ্গে একটি কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল—বিএনপিকে ৩০টির বেশি আসন দেওয়া যাবে না। এই নির্দেশনা দিয়েছিলেন তৎকালীন সেনাপ্রধান মইন ইউ আহমেদ—এমন দাবি করা হয়েছে ওই লেখায়।

এ নির্দেশনা বাস্তবায়নের দায়িত্বে ছিলেন শেখ মামুন খালেদ ও এ টি এম আমিন। তাদের তত্ত্বাবধানে ‘নির্বাচনী প্রকৌশল’ পরিচালিত হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

ভিডিওতে দৈনিক আমার দেশের সম্পাদক মাহমুদুর রহমানের একটি উপসম্পাদকীয় থেকেও উদ্ধৃতি দেওয়া হয়। সেখানে তিনি উল্লেখ করেন, ২০০৭ সালের ৭ মার্চ গ্রেপ্তারের আগে তারেক রহমান তার সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন।

মাহমুদুর রহমানের বর্ণনায়, মইন-মাসুদ গোষ্ঠীর পক্ষ থেকে তারেক রহমানকে দুটি বিকল্প দেওয়া হয়েছিল—নির্বাসন অথবা কারাবরণ। পরামর্শ চাইলে তিনি দেশেই থাকার পরামর্শ দেন। তবে পরবর্তীতে তারেক রহমানের ওপর নির্যাতনের খবর পেয়ে তিনি অনুশোচনা অনুভব করেন।

তিনি আরও বলেন, ২০০৮ সালে মুক্তির পর ঢাকার পিজি হাসপাতালে তারেক রহমানকে অসুস্থ অবস্থায় দেখে তিনি গভীরভাবে বিচলিত হন। তার সঙ্গে সে সময় ছিলেন কবি ফরহাদ মজহার।

ভিডিওতে আরও দাবি করা হয়, ছহুল হোসাইন পরবর্তী সময়ে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। যদিও দলটি তাকে মনোনয়ন দেয়নি।

এছাড়া বলা হয়, এক-এগারোর সময়ের নির্বাচন কমিশনের জীবিত সদস্যদের ওপর সাম্প্রতিক ‘বাড়তি ব্যালট ছাপানোর’ অভিযোগের দায় বর্তাতে পারে।

নবনীতা চৌধুরীর বিশ্লেষণে উঠে আসে, ২০০৭ সালের এক-এগারো পরিস্থিতি বাংলাদেশের রাষ্ট্রব্যবস্থায় দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলেছে। বিচার বিভাগ, প্রশাসন এবং সেনাবাহিনীসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে এর প্রভাব পড়েছে বলে তিনি মনে করেন।

তিনি বলেন, পরবর্তী সময়ের রাজনৈতিক বাস্তবতায় ওই সময়ের সিদ্ধান্তগুলো দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামোকে দুর্বল করেছে। তার ভাষ্যমতে, ‘ফ্যাসিবাদী শাসন’ প্রতিষ্ঠার পেছনেও ওই সময়কার প্রক্রিয়াগুলো ভূমিকা রেখেছে।

ভিডিওর শেষাংশে নবনীতা চৌধুরী বলেন, এক-এগারোর সময়কার ঘটনাগুলোর বিচার হওয়া উচিত। তার মতে, রাষ্ট্রব্যবস্থাকে ক্ষতিগ্রস্ত করার মতো গুরুতর অভিযোগের ক্ষেত্রে দায়মুক্তির সুযোগ থাকা উচিত নয়।

তবে তিনি এটিও উল্লেখ করেন, ব্যক্তিগত প্রতিশোধের প্রশ্নটি রাজনৈতিক নেতৃত্বের ওপর নির্ভর করে। কিন্তু রাষ্ট্রীয় দায়ের প্রশ্নে বিচার হওয়াই উচিত—এমন মত দেন তিনি।

উল্লেখিত ভিডিওতে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর অনেকই এখনও স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল এই ধরনের অভিযোগের ক্ষেত্রে নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রমাণভিত্তিক মূল্যায়নের প্রয়োজনীয়তার কথা মনে করিয়ে দেন বিশ্লেষকেরা। বিশেষ করে নির্বাচন প্রক্রিয়া ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর বিশ্বাসযোগ্যতার প্রশ্নে বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা প্রয়োজন বলে মনে করা হচ্ছে।

এই প্রতিবেদনটি নবনীতা চৌধুরীর ভিডিও বক্তব্য, বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য এবং সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবির ভিত্তিতে প্রস্তুত করা হয়েছে। অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই সাপেক্ষে পরবর্তী সময়ে নতুন তথ্য সামনে এলে পরিস্থিতির পরিবর্তন হতে পারে।

এম সাখাওয়াত হোসেন

সুখবর এর নিউজ পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

খবরটি শেয়ার করুন

লুবাবার বিয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রত্যেকে আইন অমান্য করেছে: নারীপক্ষ

🕒 প্রকাশ: ০৯:০৪ অপরাহ্ন, ১লা এপ্রিল ২০২৬

যুদ্ধের প্রভাবে জ্বালানি-শূন্য প্রথম দেশ হওয়ার ঝুঁকিতে বাংলাদেশ

🕒 প্রকাশ: ০৮:৪৮ অপরাহ্ন, ১লা এপ্রিল ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের বোঝা উচিত, বিশ্বে এখন আর তাদের আধিপত্য নেই: ইরানের রাষ্ট্রদূত

🕒 প্রকাশ: ০৮:৪২ অপরাহ্ন, ১লা এপ্রিল ২০২৬

রাজনৈতিকভাবে হয়রানির উদ্দেশ্যে করা প্রায় ২৪ হাজার মামলা প্রত্যাহার হয়েছে: আইনমন্ত্রী

🕒 প্রকাশ: ০৮:৩৬ অপরাহ্ন, ১লা এপ্রিল ২০২৬

তারেক রহমান গ্রেপ্তার হওয়ার আগে যে পরামর্শ দিয়েছিলেন মাহমুদুর রহমান

🕒 প্রকাশ: ০৮:২৩ অপরাহ্ন, ১লা এপ্রিল ২০২৬

Footer Up 970x250