বৃহস্পতিবার, ২রা এপ্রিল ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১৮ই চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ

*** সংসদে অচলাবস্থা, বাইরে আন্দোলনের ইঙ্গিত *** ‘জনগণকে সঙ্গে নিয়ে’ রাজপথে আন্দোলনের ঘোষণা জামায়াত আমিরের *** বাসস সম্পাদক মাহবুব মোর্শেদের নিয়োগ বাতিল *** মার্চে প্রবাসী আয় এসেছে রেকর্ড ৩.৭৫ বিলিয়ন ডলার *** শেখ হাসিনার রায় বাতিলের দাবি জানিয়ে ট্রাইব্যুনালে যুক্তরাজ্যের ল ফার্মের চিঠি *** শিক্ষামন্ত্রীর এই উদ্ভট চিন্তা কেন? *** লুবাবার বিয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রত্যেকে আইন অমান্য করেছে: নারীপক্ষ *** যুদ্ধের প্রভাবে জ্বালানি-শূন্য প্রথম দেশ হওয়ার ঝুঁকিতে বাংলাদেশ *** যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের বোঝা উচিত, বিশ্বে এখন আর তাদের আধিপত্য নেই: ইরানের রাষ্ট্রদূত *** রাজনৈতিকভাবে হয়রানির উদ্দেশ্যে করা প্রায় ২৪ হাজার মামলা প্রত্যাহার হয়েছে: আইনমন্ত্রী

রংপুরে ক্রমেই বাড়ছে অ্যানথ্রাক্সে আক্রান্তের সংখ্যা, সুস্থ থাকতে যা জরুরি

নিউজ ডেস্ক

🕒 প্রকাশ: ০৫:২০ অপরাহ্ন, ২রা অক্টোবর ২০২৫

#

ছবি: সংগৃহীত

রংপুরের কাউনিয়া উপজেলায় নতুন করে আরও দুজন ও মিঠাপুকুর উপজেলায় একজনের শরীরে অ্যানথ্রাক্স শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে জেলায় এ পর্যন্ত ১১ জন অ্যানথ্রাক্স আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হলো। বুধবার (১লা অক্টোবর) রাতে জেলা সিভিল সার্জন শাহীন সুলতানা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এর আগে পীরগাছা উপজেলায় আটজনের শরীরে অ্যানথ্রাক্স শনাক্ত হয়েছিল।

জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্র জানিয়েছে, গত জুলাই ও সেপ্টেম্বরে রংপুরের পীরগাছায় অ্যানথ্রাক্সের উপসর্গ নিয়ে দুজন মারা গেছেন। একই সময়ে অ্যানথ্রাক্স রোগে উপজেলার চারটি ইউনিয়নে অর্ধশত ব্যক্তি আক্রান্ত হন।

পরে আইইডিসিআরের একটি প্রতিনিধিদল গত ১৩ই ও ১৪ই সেপ্টেম্বর পীরগাছা সদর এবং পারুল ইউনিয়নের অ্যানথ্রাক্সের উপসর্গ থাকা ১২ নারী-পুরুষের নমুনা সংগ্রহ করেছিল। এর মধ্যে আটজনের অ্যানথ্রাক্স শনাক্ত করা হয়। ওই সময় ঘটনাস্থল থেকে অসুস্থ গরুর মাংসের নমুনা পরীক্ষা করে অ্যানথ্রাক্স শনাক্ত করেছিল প্রাণিসম্পদ বিভাগ।

এদিকে গত ১৫ই সেপ্টেম্বর রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার ইমাদপুর ইউনিয়নের আমাইপুর গ্রামে কৃষক ইব্রাহিম মিয়ার একটি গরু অসুস্থ হয়। পরে সেটি জবাই করা হলে আশপাশের লোকজন মাংস কাটাকাটি করেন। ঘটনার দুই দিন পর স্থানীয় চারজন—সোহরাব হোসেন, আব্দুর রাজ্জাক, মনির হোসেন, মজিবর রহমানসহ কয়েকজন চর্মরোগে আক্রান্ত হন।

তাদের শরীর থেকে সংগৃহীত নমুনা পরীক্ষার জন্য আইইডিসিআরে পাঠানো হয়েছে। তাদের মধ্যে একজনের অ্যানথ্রাক্স শনাক্ত হয়।

মিঠাপুকুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার (রোগ নিয়ন্ত্রণ) এম এ হালিম লাবলু বলেন, ইমাদপুরে যারা আক্রান্ত হয়েছেন, তারা অ্যানথ্রাক্স আক্রান্ত গবাদিপশুর শ্লেষ্মা, লালা, রক্ত, মাংস, হাড় ও নাড়িভুঁড়ির সংস্পর্শে এসে আক্রান্ত হয়েছেন। তবু রোগী যাতে সামাজিকভাবে কোনো হেয় পরিস্থিতির মধ্যে না পড়েন, সে জন্য তাদের নাম প্রকাশ করা হচ্ছে না।

যেভাবে ছড়ায়

মায়ো ক্লিনিকের তথ্য অনুযায়ী, অ্যানথ্রাক্সের জীবাণু মূলত ছড়ায় আক্রান্ত প্রাণীর মাধ্যমে। মাটিতেও থাকতে পারে এই জীবাণু। কেউ যদি অসুস্থ প্রাণীর মাংস খান কিংবা শ্বাসের মাধ্যমে যদি অ্যানথ্রাক্সের জীবাণু ঢুকে যায় তার শরীরে, তাহলে তিনি এ রোগে আক্রান্ত হতে পারেন।

অবশ্য অন্যান্য বায়ুবাহিত রোগের মতো মানুষের হাঁচি-কাশির মাধ্যমে অ্যানথ্রাক্স ছড়ায় না। ত্বকে কোনো ক্ষত থাকলে সেই ক্ষত দিয়ে ঢুকে যেতে পারে অ্যানথ্রাক্সের জীবাণু।

উপসর্গ জানা থাক

কারও দেহে অ্যানথ্রাক্সের জীবাণু কীভাবে প্রবেশ করছে, তার ওপর এর উপসর্গ নির্ভর করে। উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নিতে হবে।

মাংস খাওয়ার মাধ্যমে আক্রান্ত হয়ে থাকলে বমিভাব, বমি, রক্তবমি, পেটব্যথা, মাথাব্যথা, ক্ষুধামান্দ্য, জ্বর, গলাব্যথা বা ঘাড় ফুলে যাওয়ার মতো সমস্যা হতে পারে। কিছুদিন পর রক্তমিশ্রিত পাতলা পায়খানা হতে পারে, যার তীব্রতা খুব বেশি হয়।

শ্বাসের মাধ্যমে অ্যানথ্রাক্স আক্রান্ত হলে গলাব্যথা, জ্বর, ক্লান্তি, পেশি ব্যথার মতো সাদামাটা উপসর্গ থাকে শুরুতে। তারপর হতে পারে বুকে অস্বস্তি এবং শ্বাসকষ্ট।

বমিভাব থাকতে পারে। কফের সঙ্গে রক্ত আসতে পারে। ঢোঁক গিলতে গেলে ব্যথা হতে পারে। জ্বরের তীব্রতাও বাড়তে পারে। মস্তিষ্কের পর্দায় হতে পারে প্রদাহ। কমে যেতে পারে রক্তচাপ।

ত্বকের মাধ্যমে ছড়ালে ত্বকে পোকার কামড়ের মতো ফোলা ধরনের ক্ষত সৃষ্টি হয়। চুলকানিও থাকে। তবে দ্রুতই তা ব্যথাহীন হয়ে পড়ে, ক্ষতস্থানের মাঝখানটা কালো হয়ে যায়। ক্ষতের আশপাশেও ফুলে যেতে পারে। জ্বরও থাকে।

প্রতিরোধের উপায়

মাংসের এমন পদ খাবেন না, যা খুব ভালোভাবে সেদ্ধ করে রান্না করা হয়নি।

ত্বকে কোনো কাটাছেঁড়া থাকলে কাঁচা মাংস নাড়াচাড়া করার সময় গ্লাভস ব্যবহার করুন।

গবাদিপশু পালনের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা থাকলে পশুকে নিয়মমাফিক অ্যানথ্রাক্সের টিকা দেওয়ার ব্যবস্থা করুন। যিনি অসুস্থ পশুর দেখাশোনা করেন, তার সুরক্ষাসামগ্রী, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং যত্নের ব্যবস্থা হোক ঠিকঠাক।

অসুস্থ গবাদিপশুর মাংস খাওয়া, কাটাকুটি করা বা নাড়াচাড়া করা থেকে বিরত থাকুন।

জে.এস/

অ্যানথ্রাক্স

সুখবর এর নিউজ পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

খবরটি শেয়ার করুন

Footer Up 970x250