ছবি: সংগৃহীত
জেন-জি নেতৃত্বাধীন অভ্যুত্থানের পর নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় প্রবেশ করা নেপালে আজ বৃহস্পতিবার (৫ই মার্চ) অনুষ্ঠিত হচ্ছে গুরুত্বপূর্ণ পার্লামেন্ট নির্বাচন। গত বছরের সহিংস বিক্ষোভের জেরে সরকার পতনের প্রায় ছয় মাস পর এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। খবর কাঠমান্ডু পোস্টের।
নির্বাচন হিমালয়ঘেরা দেশটির ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক দিকনির্দেশ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নেপালজুড়ে ব্যাপক হারে জেঁকে বসা দুর্নীতির রাশ টানা ও বেকারত্ব নিরসনের বিষয়গুলো এবারের নির্বাচনে বড় প্রভাবক হতে পারে। সেই সঙ্গে ভারত, চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত স্বার্থ নির্বাচনে প্রভাব ফেলতে পারে।
এবারের নির্বাচনে দীর্ঘদিন ধরে নেপালের রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তারকারী ঐতিহ্যবাহী দলগুলোর পাশাপাশি নতুন শক্তির উত্থানও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। দেশটির কেন্দ্রপন্থী নেপালি কংগ্রেস ও কমিউনিস্ট পার্টি অব নেপাল (ইউনিফায়েড মার্ক্সিস্ট-লেনিনিস্ট) বহু বছর ধরে নেপালের রাজনীতিতে প্রভাবশালী।
তবে গত বছরের আন্দোলনের সময় এ দলগুলো ক্ষমতায় থাকায় তাদের বিরুদ্ধে জন-অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে তরুণ ভোটারদের একটি বড় অংশ প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক শক্তিগুলোর প্রতি হতাশা প্রকাশ করেছে।
এ প্রেক্ষাপটে নতুন রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন কাঠমান্ডুর সাবেক মেয়র বালেন্দ্র শাহ, যিনি বালেন শাহ নামে পরিচিত। বালেন শাহ এবারের নির্বাচনে রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টির (আরএসপি) হয়ে লড়ছেন।
২০২২ সালের সর্বশেষ সাধারণ নির্বাচনে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে আরএসপি চতুর্থ অবস্থানে ছিল। বিশ্লেষকদের অনেকেই বলছেন, এবারের নির্বাচনে দলটি আরো ভালো করতে পারে। দলটির পক্ষ থেকে বালেন শাহকে সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে।
এবারের সাধারণ নির্বাচনে আরেক শক্তিশালী প্রতিপক্ষ নেপালি কংগ্রেস। দলটি সাবেক প্রধানমন্ত্রী শের বাহাদুর দেউবার পরিবর্তে ৪৯ বছর বয়সী গগন থাপাকে নেতা নির্বাচিত করেছে। কাজেই গগন থাপা আরেকজন প্রভাবশালী প্রার্থী।
ভোটের লড়াইয়ে থাকা অন্য প্রধান পক্ষগুলোর মধ্যে রয়েছে কে পি শর্মা ওলির দল নেপাল কমিউনিস্ট পার্টি (ইউএমএল)। দলটি সর্বশেষ নির্বাচনে সবচেয়ে বেশি আসনে জয় পেয়েছিল। এছাড়া মাওবাদী নেতা পুষ্প কমল দহল প্রচন্ডর নেতৃত্বাধীন নেপালি কমিউনিস্ট পার্টিও এবারের নির্বাচনে প্রভাবশালী একটি পক্ষ।
নেপালের এবারের সাধারণ নির্বাচনে ভূরাজনৈতিক প্রভাব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। দেশটির রাজনীতিতে ঐতিহাসিকভাবে প্রতিবেশী ভারতের একটি বড় ভূমিকা রয়েছে। নেপালের এবারের নির্বাচনও নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে দিল্লি।
অতীতে নেপালের সাবেক প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা ওলির সঙ্গে ভারতের টানাপড়েনের সম্পর্ক ছিল। এর কারণ দিল্লি মনে করে প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে কে পি শর্মা ওলি ভারতের প্রতিদ্বন্দ্বী চীনের সঙ্গে অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়তে সক্রিয় ছিলেন। নেপালে বেইজিংয়ের প্রভাবও ব্যাপক।
চীন এবারের নির্বাচনের দিকে সতর্ক নজর রাখছে। চীনের প্রত্যাশা, নেপালের পরবর্তী যেকোনো সরকার আগামী দিনে তাদের ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ’সহ অন্যান্য স্বার্থের অনুকূলে থাকবে।
জে.এস/
খবরটি শেয়ার করুন