সোমবার, ২রা মার্চ ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১৮ই ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ

*** ড. ইউনূস কি মবের ভয়ে ‘কঠোর নিরাপত্তা বেষ্টনীতে’ থাকবেন? *** ইরানে খোমেনির ভাস্কর্য উপড়ে ফেলল উত্তেজিত জনতা *** রাশিয়ায় খামেনিকে অসাধারণ রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে স্মরণ করা হবে: পুতিন *** ইরানের নতুন নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনায় রাজি ট্রাম্প *** ইসলামি প্রজাতন্ত্র ফেলে দেওয়ার আহ্বান রেজা পাহলভির *** বঙ্গবন্ধুর জন্মবার্ষিকী ও স্বাধীনতা দিবস পালন করতে নেতাকর্মীদের আহবান শেখ হাসিনার *** শিগগিরই নতুন সর্বোচ্চ নেতা পাবে ইরান, জানালেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী *** এক বছর কঠোর নিরাপত্তা বেষ্টনীতে থাকবেন ড. ইউনূস *** ইসলাম ধর্মের প্রতি সম্মান দেখানোর আহ্বান গার্দিওলার *** গণঅভ্যুত্থানে পুলিশ হত্যাকাণ্ডের তদন্ত নিয়ে কোনো বক্তব্য দেইনি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

আমি কিছুতেই আগের স্পর্শকে মনে করতে পারছি না

সাহিত্য ডেস্ক

🕒 প্রকাশ: ০৭:২১ অপরাহ্ন, ১লা অক্টোবর ২০২৩

#

প্রিয় পরসমনি,

তোর চিঠি পেয়েছি বেশ কদিন হলো। কিন্তু উওর দিতে অনেক দেরি হয়ে গেলো। আসলে আমার মনটা অনেক খারাপ। কিছুদিন আগে আমাদের ক্লাসের একটি ছেলে সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছে। ও আমার তেমন ঘনিষ্ট বন্ধু ছিলো না। তারপরেও ওকে আমি কেন জানি ভুলতে পারছি না। ওর নাম ছিল স্পর্শ। তোকে বলেছিলাম মনে হয়, ক্লাসের সবাই ওকে ‘পেন্সিল’ বলে ক্ষ্যাপাতো।  

যাই-হোক, ঘটনার দিন সকাল বেলা স্কুলে যাওয়ার জন্য বাসস্ট্যান্ডে দাঁড়িয়েছি। স্পর্শ আর আমি এক জায়গা থেকে বাসে উঠতাম। বাসস্ট্যান্ডে ঐদিন অনেক লোক ছিল। স্পর্শ তখনও আসেনি। একটা বাস আসতেই সবাই হুড়মুড় করে উঠে পড়লাম। আগে থেকেই বাসটা ভর্তি ছিলো, এরপর আরও ভীড় হয়ে গেলো। আমরা কয়েকজন দরজার কাছেই দাঁড়িয়ে ছিলাম।  

হঠাৎ দেখি, পিঠে ব্যাগ নিয়ে স্পর্শ ছুটে আসছে। বাসটা তখনও দঁড়িয়ে ছিল। কিন্তু হঠাৎ যা হলো, স্পর্শ দৌড়ে এসে বাসের হ্যান্ডেল ধরে উঠতে না উঠতেই বাসটা ছেড়ে দিলো। 

চোখের পলকে পা ফসকে ও পড়ে গেলো চাকার তলায়। এরপর শোনা গেলো মর্মান্তিক আর্তনাদ। ঝাঁকুনি দিয়ে বাস থেমে গেলো।

লোকজন ছুটে এলো, শুরু হলো হৈচৈ, চিৎকার। কোন ফাঁকে জানি ড্রাইভার পালালো দেখতেই পেলাম না। দেখলাম রক্তে লাশটা ভিজে গেছে, রাস্তা ভেসে গেছে রক্তে। পুলিশ এসে লাশটা নিয়ে গেলো হাসপাতালে। আমি নিথর! সবই দেখলাম, কিন্তু সবই অস্পষ্ট ঝাঁপসা। সত্যি এমন করুণ ও মর্মান্তিক দৃশ্য আমি জীবনেও দেখিনি। আজ সারাদিনই এ দৃশ্য আমার চোখে ভাসছে। 

আমি কিছুতেই আগের স্পর্শকে মনে করতে পারছি না। কিছুতেই লেখাপড়ায় মন বসছে না। এ সময় তুই পাশে থাকলে ভালো হতো।

তোর আব্বু-আম্মুকে আমার সালাম এবং ছোট বোনকে স্নেহ দিস। আজ আর নয়। চিঠি লিখিস।

--- ইতি

তোর বান্ধবী 

জান্নাত আরা সুকন্যা

যাত্রাবাড়ি, ঢাকা।

এস/ আই. কে. জে/ 

সড়ক দূর্ঘটনায় মারা

সুখবর এর নিউজ পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

খবরটি শেয়ার করুন

Footer Up 970x250