মঙ্গলবার, ৭ই এপ্রিল ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
২৪শে চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ

*** এক–এগারোর ‘সুবিধাভোগী’ সাংবাদিকদের জবাবদিহির মুখোমুখি করতে চায় সরকার *** চীন সফরে যাচ্ছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদারে গুরুত্ব *** জুলাই জাতীয় সনদ ঘিরে অনড় সরকার–বিরোধী দল, সমঝোতা নেই *** তারেক রহমান সরকারের প্রথম একনেক সভা *** মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে খেলাধুলার বিকল্প নেই: ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী *** প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ভারতীয় হাইকমিশনারের সৌজন্য সাক্ষাৎ *** নতুন সরকারের প্রথম একনেক বৈঠক আজ, অগ্রাধিকার পাচ্ছে ১৭ প্রকল্প *** নিষিদ্ধ করলেই রাজনীতি থেকে আওয়ামী লীগের শক্তি বিলীন হয়ে যাবে না *** ইরানে যুদ্ধের প্রভাবে ভারতে কনডমের দাম বাড়তে পারে *** সোমবার ইরানের শেষ সুযোগ, মঙ্গলবার পাওয়ার প্ল্যান্ট গুঁড়িয়ে দেবেন ট্রাম্প

মোটরসাইকেল ও অন্যান্য যানবাহনে তেল নেওয়ার সীমা বেঁধে দিল বিপিসি

নিজস্ব প্রতিবেদক

🕒 প্রকাশ: ০৬:৫৬ অপরাহ্ন, ৬ই মার্চ ২০২৬

#

ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহ কমে যাওয়ায় দেশে তেলের তীব্র সংকটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ায় ফিলিং স্টেশনগুলোতে উপচে পড়া ভিড় লক্ষ করা যাচ্ছে।

এই সংকট ও অতিরিক্ত চাহিদা মোকাবিলায় জ্বালানি তেল সরবরাহের ওপর নির্দিষ্ট সীমা নির্ধারণ করে দিয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)।

আজ শুক্রবার (৬ই মার্চ) বিপিসি কর্তৃক জারি করা এক জরুরি নির্দেশনায় বলা হয়েছে, এখন থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত একটি মোটরসাইকেল দিনে সর্বোচ্চ ২ লিটার ও ব্যক্তিগত গাড়ি বা প্রাইভেট কার দিনে ১০ লিটার তেল নিতে পারবে।

কার জন্য কতটুকু বরাদ্দ

বিপিসির নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী যানবাহনের ধরনভেদে দৈনিক জ্বালানি সরবরাহের সীমা হলো:

মোটরসাইকেল: ২ লিটার (পেট্রল বা অকটেন)।

ব্যক্তিগত গাড়ি (কার) : ১০ লিটার।

এসইউভি (জিপ) ও মাইক্রোবাস: ২০ থেকে ২৫ লিটার।

পিকআপ ও লোকাল বাস: ৭০ থেকে ৮০ লিটার ডিজেল।

দূরপাল্লার বাস, ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যান: ২০০ থেকে ২২০ লিটার।

বিপিসি জানিয়েছে, গ্রাহকদের তেল নেওয়ার সময় আগের কেনা তেলের রসিদ প্রদর্শন করতে হবে। রসিদ ছাড়া কোনো ফিলিং স্টেশন তেল বিক্রি করতে পারবে না।

নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়েছে, দেশে চাহিদার প্রায় ৯৫ শতাংশ জ্বালানি তেল আমদানি করতে হয়। মধ্যপ্রাচ্যে ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান যুদ্ধের প্রভাবে বিশেষ করে ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ায় বিশ্বজুড়ে আমদানিতে বিঘ্ন ঘটছে।

এই বৈশ্বিক সংকটের খবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রয়োজনের অতিরিক্ত তেল কেনার প্রবণতা তৈরি হয়েছে। এমনকি কিছু অসাধু ডিলার ও ভোক্তা তেল মজুত করার চেষ্টা করছেন বলেও খবর পাওয়া গেছে।

জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ অবশ্য আশ্বস্ত করে বলেছে, দেশে জ্বালানি তেলের মজুত ফুরিয়ে যায়নি। নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী তেলের চালান দেশে আসছে এবং শিগগির একটি শক্তিশালী ‘বাফার স্টক’ গড়ে উঠবে। আতঙ্কিত হয়ে অতিরিক্ত তেল না কেনার জন্য জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।

এদিকে তেলের সরবরাহ সীমিত করার খবরে রাজধানীর বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে আজ ছুটির দিনেও সকাল থেকে ব্যাপক ভিড় দেখা গেছে। এমনকি ফিলিং স্টেশনে মোটরসাইকেলচালকদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনাও ঘটেছে।

কর্তৃপক্ষ আশা করছে, এই রেশনিং বা সীমা নির্ধারণের ফলে তেলের অপচয় ও অবৈধ মজুত রোধ করা সম্ভব হবে এবং সরবরাহ পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হবে।

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)

সুখবর এর নিউজ পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

খবরটি শেয়ার করুন

Footer Up 970x250