সোমবার, ৬ই এপ্রিল ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
২৩শে চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ

*** চীন সফরে যাচ্ছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদারে গুরুত্ব *** জুলাই জাতীয় সনদ ঘিরে অনড় সরকার–বিরোধী দল, সমঝোতা নেই *** তারেক রহমান সরকারের প্রথম একনেক সভা *** মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে খেলাধুলার বিকল্প নেই: ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী *** প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ভারতীয় হাইকমিশনারের সৌজন্য সাক্ষাৎ *** নতুন সরকারের প্রথম একনেক বৈঠক আজ, অগ্রাধিকার পাচ্ছে ১৭ প্রকল্প *** নিষিদ্ধ করলেই রাজনীতি থেকে আওয়ামী লীগের শক্তি বিলীন হয়ে যাবে না *** ইরানে যুদ্ধের প্রভাবে ভারতে কনডমের দাম বাড়তে পারে *** সোমবার ইরানের শেষ সুযোগ, মঙ্গলবার পাওয়ার প্ল্যান্ট গুঁড়িয়ে দেবেন ট্রাম্প *** সড়ক পরিবহনমন্ত্রী আ.লীগের মন্ত্রীদের মতো উত্তর দিয়েছেন: বিএনপির এমপি মনিরুল

আমি ও আমার শহর

সাহিত্য ডেস্ক

🕒 প্রকাশ: ০৭:২১ অপরাহ্ন, ৫ই এপ্রিল ২০২৫

#

ছবি: সংগৃহীত

মাহবুব রহমান

এ শহর আমার নয়, আমি এ শহরকে সাদরে গ্রহণও করি না, তবু এখানে নিত্য বসবাস। ঈদের ছুটিতে সবাই গ্রামে চলে গেলে আমি একা, সম্পূর্ণ একা। জেগে থাকি রাত, জেগে থাকি ভোর, জেগে থাকি সকাল। পাহারা দেই দেয়াল, পাহারা দেই সিঁড়ি, পাহারা দেই অনাকাঙ্ক্ষিত সব অনিশ্চয়তাকে।  

তখন দুপুর বেলা, বাতাসে কাঁপে জানালার পর্দা। দূর থেকে ভেসে আসে বাচ্চাদের কণ্ঠস্বর, ভেসে আসে টিনের গেট খোলার শব্দ। কারা যেন কল পারে জোরে জোরে কাপড় আছড়ে দেয়, আহা কলের শীতল জলের ছিটা এসে লাগে আমার গালে। তারপর আবার গেট খোলার শব্দ। কলিং বেল বেজে ওঠে, মানুষ আসে, মানুষ যায়। একটা পাখি শিস দিয়ে কোথায় যেন হারিয়ে যায়। আমি বসে থাকি চুপচাপ, একা। 

আর এ শহর আমার নয়, তবু এখানে বসবাস করি নিত্য। কংক্রিটের রাস্তা কামড়ে ধরে অটোরিকশা ছুটে চলে। পেছনে ফেলে ঘর্ষণের শব্দ, সামনে দ্রুত  ধাবমান, ছুটে চলে শহর ছেড়ে বিভিন্ন মফস্বল অভিমুখে। এত মানুষ ছোটে! এত গতি! এত তাড়াহুড়ো! কোথায় যায় তারা?  

মানুষ কি শেষ পর্যন্ত পৌছাতে পারে? নাকি কেবল ছুটে চলাই তার নিয়তি! এই শহরে থেকে আমি জেনেছি কিছু পরিবারের কাছে। তারা কথা বলে অনর্গল, ফেটে পড়ে হাসিতে, ঘুরে, আড্ডা দেয়, চা খায়, বলে শুধু লিকার দেন, চিনি কম। আরও বলে, দুধ চা চিনি ছাড়া। তারপর ধুমপান করে, হাসে। 

ড. ইউনুস, ফিলিস্তিন, আমেরিকা, সমন্বয়ক, গভীর সব রাজনীতির কথা বলে। আলাপ কিংবা সমালোচনা। বাসায় গিয়ে মনে পড়ে, ডিম কেনা বাকি ছিল। বৌয়ের ভর্ৎসনায় ফের গেট খুলে বের হয়, নির্জন বাজারে সদাই করে। 

রাত নামে আবার একটি দিনের সম্ভাবনা নিয়ে। আর তখন এসব কিছু ছাপিয়ে আমার বারবার মনে পড়ে সুবহ সাদিকে, গাজায় সেই মুয়াজ্জিনের কণ্ঠ। আজান দিতে দিতে যিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন। তখন পৃথিবীর সব আনন্দ উল্লাস যেন ঢেকে যায় বিষাদের কালো ছায়ায়। মনে পড়ে যায়, মানুষ এত অসহায়, এত ব্যর্থ, এত অকার্যকর! ক্লান্ত আর বিষন্ন লাগে। যেন ফিলিস্তিনের সেই সদ্য কিশোর চিৎকার করে বলে, আর একবার শিকল ছেড়ে দে মা, দেখি মরিয়া। 

চারদিকে এত এত নিরাপত্তাহীনতা। তবে কেন আমি এই শহরে পড়ে আছি একা একা। আমি যেন অভিনয় মঞ্চে একা, একক প্রহসনে। 

তাই গভীর রাতে এ শহর অরক্ষিত রেখে। আমি বের হই, বের হই- মফস্বলে যাবো বলে। তালমা নদী আর নিথুয়া পাথার পেরিয়ে, আমার গ্রামের বাড়ি। নিকানো উঠান যেন ডাকে। আর দরজার পাশে ডালিম গাছে এখন অজস্র ফুল ফুটে আছে। গ্রামে গেলে দেখবো জলে ভরা ধানখেত, মাথার ওপর সুনীল আকাশ, শুভ্র সাদা মেঘ। কতদিন দেখি না দু’চোখ ভরে।   

মাহবুব রহমান, নিউ মার্কেট, পঞ্চগড়

আমার শহর আমার গ্রাম

সুখবর এর নিউজ পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

খবরটি শেয়ার করুন

Footer Up 970x250