বৃহস্পতিবার, ২রা এপ্রিল ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১৯শে চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ

*** ঢাকা-নয়াদিল্লি সম্পর্ক পুনর্গঠনের পথে *** ফরাসি সিনেমা ‘লা ভেনাস ইলেকট্রিক’ দিয়ে শুরু হবে কান উৎসব *** দুই-তিন সপ্তাহের মধ্যে ইরানে তীব্র আক্রমণের ঘোষণা ট্রাম্পের *** ১২ কেজির এলপিজির দাম বেড়ে ১৭২৮ টাকা *** মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতে আমিরাতের প্রতি বাংলাদেশের সংহতি *** মাইকে ঘোষণা দিয়ে মব সৃষ্টি করে পুলিশকে মারধর, আসামি ছিনতাই *** বজ্রপাতের মতো হঠাৎ এসেছে হাম, আমাদের প্রস্তুতি ছিল না: স্বাস্থ্যমন্ত্রী *** ‘মাহফুজ আনাম শেখ হাসিনার কাছে ক্ষমা চেয়েছিলেন, খালেদা জিয়া–তারেক রহমানের কাছে নয়’ *** সংসদে অচলাবস্থা, বাইরে আন্দোলনের ইঙ্গিত *** ‘জনগণকে সঙ্গে নিয়ে’ রাজপথে আন্দোলনের ঘোষণা জামায়াত আমিরের

ইরানে মেয়েদের স্কুলে হামলা নিয়ে গভীর তদন্তে পেন্টাগন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

🕒 প্রকাশ: ১০:২৮ পূর্বাহ্ন, ১৪ই মার্চ ২০২৬

#

ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন জানিয়েছে, ইরানে মেয়েদের একটি স্কুলে ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনায় তদন্তের মাত্রা বাড়ানো হয়েছে। গত ২৮শে ফেব্রুয়ারি ইরানে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলার শুরুর দিনই ওই হামলার ঘটনা ঘটেছিল। হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী দায়ী থাকতে পারে—এমন প্রাথমিক তথ্য সামনে আসার পর বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু করে পেন্টাগন।

ইরান জানিয়েছে, দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় মিনাব শহরের শাজারেহ তাইয়্যেবেহ স্কুলে সংঘটিত ওই হামলায় অন্তত ১৬৮ জন শিশু নিহত হয়েছে। যদি তদন্তে যুক্তরাষ্ট্রের দায় নিশ্চিত হয়, তবে মধ্যপ্রাচ্যে কয়েক দশকে মার্কিন সামরিক অভিযানে বেসামরিক মানুষের মৃত্যুর মধ্যে এটি সবচেয়ে ভয়াবহ ঘটনাগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত হবে।

গত ৫ই মার্চ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এই হামলার বিষয়ে প্রাথমিক তদন্তের ফলাফল প্রকাশ করেছিল। বিষয়টির গুরুত্ব বিবেচনা করে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এই বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘সংবাদ প্রতিবেদনের ভিত্তিতে আমরা আগেভাগে কোনো সিদ্ধান্ত জানাতে চাই না।’

হেগসেথ জানিয়েছেন, ঘটনাটি নিয়ে এখন উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত চলছে। এই তদন্ত পরিচালনা করবেন মার্কিন সামরিক বাহিনীর এক জেনারেল কর্মকর্তা—যিনি মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক কার্যক্রম তদারককারী সেন্ট্রাল কমান্ডের বাইরে থেকে নিয়োগ পেয়েছেন। সাধারণত তদন্তের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে এই ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

পেন্টাগনে এক সংবাদ সম্মেলনে হেগসেথ বলেন, ‘ঘটনার সব দিক খতিয়ে দেখতে যত সময় প্রয়োজন।’

মার্কিন তিন কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, এটি মূলত একটি প্রশাসনিক তদন্ত, যাকে সামরিক ভাষায় ‘১৫-৬’ তদন্ত বলা হয়। প্রয়োজন হলে এর ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। এই ধরনের তদন্তে সাধারণত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সাক্ষ্য ও সাক্ষাৎকার অন্তর্ভুক্ত থাকে।

প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, হামলার পেছনে লক্ষ্য নির্ধারণে পুরোনো তথ্য ব্যবহার করা হয়ে থাকতে পারে। এতে স্কুল ভবন এবং পাশের একটি ইরানি সামরিক ঘাঁটির মধ্যে পার্থক্য করা সম্ভব হয়নি। প্রমাণ হিসেবে প্রকাশিত ভিডিও ও অন্যান্য তথ্য ইঙ্গিত দিচ্ছে, ভবনটিতে সম্ভবত টমাহক ক্রুজ মিসাইল ব্যবহার করা হয়েছিল। এটি অত্যন্ত নির্ভুল ও শক্তিশালী অস্ত্র এবং খুব কম দেশের কাছেই এটি রয়েছে।

ঘটনার পর প্রথমদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের সম্পৃক্ততা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছিলেন। তিনি প্রমাণ ছাড়াই দাবি করেছিলেন, হামলাটি হয়তো ইরান নিজেই চালিয়েছে। তবে পরে তিনি বলেন, তদন্ত প্রতিবেদনে যা উঠে আসবে তা তিনি মেনে নেবেন।

এদিকে রয়টার্সের ভিজ্যুয়াল অনুসন্ধানে দেখা গেছে, বেশ কয়েক বছর ধরেই অনলাইনে স্কুলটির উপস্থিতি রয়েছে এবং সেখানে শিশুদের বিভিন্ন কার্যক্রমের ছবি প্রকাশিত হয়। স্যাটেলাইট ছবিতেও দেখা যায়, ভবনটি অন্তত ২০১৮ সাল থেকে একটি স্কুল হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে এবং এটি পাশের সামরিক ঘাঁটি থেকে আলাদাভাবে ঘেরা ছিল।

জে.এস/

পেন্টাগন

সুখবর এর নিউজ পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

খবরটি শেয়ার করুন

Footer Up 970x250