ফাইল ছবি
উষ্ণতম মাস এপ্রিলের শুরুতেই তাপমাত্রা পৌঁছেছে প্রায় ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, চলতি মাসে দুটি কিংবা চারটি মৃদু থেকে মাঝারি এবং একটি বা দুটি তীব্র তাপপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে।
অর্থাৎ যেসব এলাকার ওপর দিয়ে মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে যাবে, সেখানে তাপমাত্রা ৩৬ থেকে ৩৭ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকবে।
এছাড়া, কোনো এলাকার তাপমাত্রা যখন ৩৮ থেকে ৩৯ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস হয়, তখন সেটাকে মাঝারি এবং ৪০ থেকে ৪১ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস হলে তীব্র তাপপ্রবাহ বিবেচনা করা হয়।
আজ শনিবার সকালের আবহাওয়া পরিস্থিতিতে দেখা যায়, রাজশাহী ও খুলনা বিভাগের ১৮ জেলা এবং ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, মানিকগঞ্জ, ফরিদপুর, গোপালগঞ্জ, চাঁদপুর, বরিশাল, পটুয়াখালী ও রাঙ্গামাটি জেলার ওপর দিয়ে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে।
গতকাল চুয়াডাঙ্গায় দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৯ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করেছিল আবহাওয়া অধিদপ্তর।
প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালে টানা ৩৬ দিন ধরে তাপপ্রবাহ চলেছিল। আবহাওয়াবিদরা মনে করছেন, এবার তত বেশি গরম পড়বে না। যোগাযোগ করা হলে আবহাওয়াবিদ মো. বজলুর রশীদ সুখবর ডটকমকে বলেন, ‘আগামীকাল ও পরশু বৃষ্টির সম্ভাবনা আছে। এতে তাপমাত্রা কিছুটা কমবে।’
‘এপ্রিলে তাপপ্রবাহ স্বাভাবিক ঘটনা। তবে এ বছর ২০২৪ সালের মতো টানা তাপপ্রবাহ চলবে না,’ বলেন তিনি।
পূর্বাভাস আরও বলছে, এপ্রিলে দেশে বিক্ষিপ্তভাবে তীব্র কালবৈশাখী ঝড় বয়ে যেতে পারে। এর মধ্যে প্রায় সাত দিন হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি ও শিলাবৃষ্টি এবং এক থেকে তিন দিন বজ্রসহ বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।
‘গরমের পর যখন বৃষ্টি হয়, তখন মেঘের উচ্চতা বেশি থাকে। যে কারণে শিলাবৃষ্টি হয়, বৃষ্টি শুরু হলে এই প্রবণতা কমে আসে,’ বলেন আবহাওয়াবিদ মো. তরিফুল নেওয়াজ কবির।
তাপপ্রবাহের পূর্বাভাস নিয়ে তার মত, এপ্রিলে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে তাপমাত্রা তুলনামূলক বেশি থাকবে। তবে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা থাকায় তাপপ্রবাহ টানা চলবে না।
মার্চ মাসেও সকালের গড় তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে শূন্য দশমিক ৯০ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি ছিল। এর মধ্যে সবচেয়ে কম ছিল ৪ মার্চ। ওই দিন কুড়িগ্রামের রাজারহাটে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১৪ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
তবে সন্ধ্যার তাপমাত্রা ছিল স্বাভাবিকের চেয়ে শূন্য দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস কম। ২৭ মার্চ যশোরে দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৭ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়।
পরিসংখ্যান বলছে, পুরো মাসে ২৪ দিন বৃষ্টি হয়েছে এবং ১৩ মার্চ সিলেটে সর্বোচ্চ পরিমাণ ৮৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। মার্চে সারা দেশে স্বাভাবিকের চেয়ে ৩১ শতাংশ বেশি বৃষ্টি হলেও খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ছিল স্বাভাবিকের চেয়ে কম।
চলতি মাসের শেষে একটি নিম্নচাপ সৃষ্টি হতে পারে, বলছে পূর্বাভাস। তবে সেটি ঘূর্ণীঝড়ে রূপ নেওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ।
জে.এস/
খবরটি শেয়ার করুন