ফাইল ছবি
আওয়ামী লীগের সভাপতি ও ২০২৪ সালের আগস্টে ক্ষমতাচ্যুত সরকারের প্রধানমন্ত্রী পদে দায়িত্বে থাকা শেখ হাসিনার কণ্ঠে এখন 'উল্টো সুর' শোনা যাচ্ছে। ক্ষমতাচ্যুতির প্রায় ১৫ মাস পর এসে তিনি বলছেন, আওয়ামী লীগের সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার পেছনে আমেরিকা বা পশ্চিমা কোনো শক্তির সরাসরি ভূমিকা ছিল বলে তিনি মনে করেন না।
গত বছরের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকে তার সরকারের মন্ত্রী ও দলীয় নেতাকর্মীরা যুক্তরাষ্ট্রকে দোষারোপ করে আসছিলেন।
প্রচারিত সব ‘ষড়যন্ত্র তত্ত্ব’কে উড়িয়ে দিয়ে শেখ হাসিনা এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের ‘ভালো ও স্থিতিশীল সম্পর্ক’ রয়েছে। তাই ‘ওয়াশিংটন বা অন্য কোনো বিদেশি শক্তি বাংলাদেশের রাজনৈতিক বিষয়াদিতে সরাসরি জড়িত’, এমন দাবি বিশ্বাস করার কোনো কারণ নেই।
সিএনএন-নিউজ এইটিনকে আজ বৃহস্পতিবার (১৩ই নভেম্বর) দেওয়া সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা এসব কথা বলেন। তিনি আরও বলেন, তিনি স্বীকার করেন যে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূস পশ্চিমা বিশ্বে প্রভাবশালী অনেক ব্যক্তির সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তুলেছেন। তিনি পশ্চিমা বিশ্বে প্রভাবশালী শ্রেণির প্রশংসা অর্জন করেছিলেন।
শেখ হাসিনার মতে, তারা ড. ইউনূসের প্রশংসনীয় অর্থনৈতিক ভাবমূর্তিকে ভুলভাবে গণতান্ত্রিক যোগ্যতা হিসেবে দেখেছেন।
ক্ষমতা থেকে উৎখাত হওয়া আওয়ামী লীগের প্রধান আরও দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার সঙ্গে ভালো সম্পর্ক বজায় রেখেছিলেন। শেখ হাসিনা বলেন, যদি পশ্চিমারা মনে করেন ড. ইউনূস তাদের বন্ধু, তারা প্রতারিত হচ্ছেন।
আওয়ামী লীগের ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পরপরই গত বছরের আগস্টে ভারতের ইকোনমিক টাইমস তাকে উদ্ধৃত করে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। যেখানে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র তাকে ক্ষমতাচ্যুত করার ক্ষেত্রে ভূমিকা পালন করেছে, কারণ তারা (যুক্তরাষ্ট্র) বঙ্গোপসাগরে বাংলাদেশের সেন্ট মার্টিন দ্বীপের নিয়ন্ত্রণ চায়।
তখন ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য প্রিন্ট দাবি করে, ক্ষমতাচ্যুত হয়ে দেশ ছেড়ে ভারতে অবস্থান নেওয়ার ছয় দিন পর নীরবতা ভাঙেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। তাকে ক্ষমতাচ্যুত করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করেছেন তিনি। সেই সঙ্গে কোনো বিদেশি শক্তির হাতে ‘ব্যবহৃত’ না হওয়ার বিষয়ে অন্তর্বর্তী সরকারকে সতর্ক করেন তিনি।
আরো কয়েকটি ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে শেখ হাসিনার একটি বার্তার বরাতে খবর এসেছিল যে তিনি বলেছেন, সেন্ট মার্টিন দ্বীপ দিতে রাজি হননি বলেই তাকে ক্ষমতাচ্যুত করা হয়েছে। আর এর পেছনে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
তবে শেখ হাসিনাকে ক্ষমতাচ্যুত করার পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা রয়েছে, এমন অভিযোগ ২০২৪ সালের আগস্টেই অস্বীকার করে ওয়াশিংটন। হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি কারিন জ্যঁ-পিয়েরে ওয়াশিংটনে প্রেস ব্রিফিংয়ে বলেন, এমন অভিযোগ ডাহা মিথ্যা।
ব্রিফিংয়ে কারিন জ্যঁ-পিয়েরেকে প্রশ্ন করা হয়, বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অভিযোগ করেছেন, তাকে ক্ষমতা থেকে সরতে বাধ্য করার পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা আছে। বাংলাদেশের একটি দ্বীপ ওয়াশিংটনের হাতে তুলে না দেওয়ার কারণে তার (শেখ হাসিনা) এমন পরিণতি। দ্বীপটি দিতে রাজি হলে তিনি হয়তো ক্ষমতায় টিকে যেতেন। এমন অভিযোগের বিষয়ে মার্কিন প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া কী?
জবাবে কারিন জ্যঁ-পিয়েরে বলেন, ‘এসবের পেছনে আমরা জড়িত নই। মার্কিন প্রশাসনের জড়িত থাকা নিয়ে যেকোনো প্রতিবেদন বা গুঞ্জন ডাহা মিথ্যা, একদমই সত্য নয়।’
তবে শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় সেই সময় নিজের ভেরিফায়েড অ্যাকাউন্ট থেকে বার্তা দেন। সেখানে তিনি লেখেন, ‘আমার মায়ের পদত্যাগের বিষয়ে একটি বিবৃতি গণমাধ্যমে প্রকাশ করা হয়েছে, যা পুরোপুরি মিথ্যা ও বানোয়াট। আমি একটু আগে তার (শেখ হাসিনা) সঙ্গে কথা বলে নিশ্চিত হয়েছি। তিনি ঢাকা ছাড়ার আগে বা ঢাকা ছাড়ার পরে এ পর্যন্ত কোনো বিবৃতি দেননি।’
গত ৮ই নভেম্বর রাশিয়ান সংবাদমাধ্যম ‘আরটি’কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনার সরকারের মন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলও একই ষড়যন্ত্র তত্ত্বের কথা বলেন। তিনি অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগ সরকারের ক্ষমতাচ্যুতির পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি প্রতিষ্ঠান ইউএসএআইডি ও ক্লিনটন পরিবার জড়িত ছিল।
খবরটি শেয়ার করুন