শুক্রবার, ৩রা এপ্রিল ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১৯শে চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

খামেনির ছবিতে আগুন দিয়ে সিগারেট ধরাচ্ছেন ইরানি নারীরা—নেপথ্যে কী?

নিউজ ডেস্ক

🕒 প্রকাশ: ০৯:১১ পূর্বাহ্ন, ১০ই জানুয়ারী ২০২৬

#

ছবি: সংগৃহীত

ইরানের রাজপথে এখন শুধু স্লোগান নয়, ছড়িয়ে পড়ছে প্রতিবাদের নতুন নতুন ভাষা। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম রেডিট, এক্স, ইনস্টাগ্রাম ও টেলিগ্রামে বেশ কিছু ভিডিও ভাইরাল হয়েছে, যেখানে দেখা যাচ্ছে—ইরানি নারীরা দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির ছবিতে আগুন ধরিয়ে সেই আগুনে সিগারেট ধরাচ্ছেন।

আপাতদৃষ্টিতে এটি সাধারণ মনে হলেও ইরানের ধর্মীয় ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এটি এক চরম অবমাননা ও বিদ্রোহের প্রতীক।

বিবিসি বলছে, ইরানের আইন অনুযায়ী, সর্বোচ্চ নেতার ছবি পোড়ানো বা অবমাননা করা এক গুরুতর অপরাধ, যার শাস্তি হতে পারে দীর্ঘ কারাদণ্ড বা মৃত্যু। তা সত্ত্বেও নারীরা কেন এই পথ বেছে নিচ্ছেন—এই প্রশ্নই এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।

ইরানে নারীদের জনসমক্ষে ধূমপান করা সামাজিকভাবে অত্যন্ত নেতিবাচকভাবে দেখা হয় এবং অনেক ক্ষেত্রে তা নিরুৎসাহিত করা হয়। খামেনির ছবিতে সিগারেট ধরানোর মাধ্যমে নারীরা একই সঙ্গে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা ও পিতৃতান্ত্রিক সামাজিক বিধিনিষেধ—উভয়কেই চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছেন।

২০২২ সালে মাহসা আমিনির মৃত্যুর পর শুরু হওয়া ‘নারী, জীবন, স্বাধীনতা’ আন্দোলনের রেশ এখনো কাটেনি। রাজপথে বড় জমায়েত দমনে নিরাপত্তা বাহিনী কঠোর হলেও এ ধরনের প্রতীকী প্রতিবাদ দমানো তাদের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে।

তবে সবচেয়ে বড় কারণ চরম অর্থনৈতিক ক্ষোভ। ২০২৬ সালের শুরুতে ইরানি মুদ্রার মান রেকর্ড নিচে নেমে গেছে (১ ডলার সমান প্রায় ১৪ লাখ রিয়াল)। নিত্যপণ্যের দাম আকাশচুম্বী হওয়ায় সাধারণ মানুষের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে। জীবনযাত্রার এই অসহনীয় কষ্টের দায় সরাসরি সর্বোচ্চ নেতার ওপর চাপিয়ে তার ছবিতে আগুন দিচ্ছেন আন্দোলনকারীরা। সেই বিক্ষোভে শামিল হন ইরানের নারীরাও।

তবে ডিজিটাল দুনিয়ায় এই ট্রেন্ডকে ‘ডেফিয়েন্স’ বা অবাধ্যতার চরম বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। অনেকে অবশ্য বিষয়টিকে ইতিবাচক হিসেবেও দেখছেন। ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওর নিচে এক ব্যবহারকারী লিখেছেন, ‘যে ছবিতে আমরা ভক্তি খুঁজতে বাধ্য হতাম, আজ সেই আগুনেই আমাদের পুঞ্জীভূত ক্ষোভের সিগারেট জ্বলছে।’

ইরানের বিচার বিভাগ জানিয়েছে, এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের কঠোর শাস্তির আওতায় আনা হবে। ইতিমধ্যে কয়েকজনকে শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের খবরও পাওয়া গেছে। তবে ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট বা ধরপাকড় সত্ত্বেও ভিডিওগুলোর প্রচার থামানো যাচ্ছে না।

এএফপি জানিয়েছে, বর্তমানে ইরানের ৩১টি প্রদেশের প্রায় সবকটিতেই বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। গত বুধবার এক দিনেই বিক্ষোভে অন্তত ৩৭ জন নিহত হয়েছেন বলে মানবাধিকার সংস্থাগুলো দাবি করেছে।

সর্বশেষ খবরে জানা গেছে, এখন পর্যন্ত ইরানে বিক্ষোভকারী, নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যসহ ৪৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। আর এই টালমাটাল অবস্থায় নারীদের এমন সাহসী অবস্থান বিশ্বজুড়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিচ্ছে।

জে.এস/

ইরান

সুখবর এর নিউজ পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

খবরটি শেয়ার করুন

Footer Up 970x250