শনিবার, ২৮শে মার্চ ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১৪ই চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ

*** ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ কমিটির প্রথম বৈঠক চলছে *** ৫ আগস্টের আগে ও পরে পুলিশ হত্যার বিচার হবে: আইজিপি *** শরীয়তপুরে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে অগ্নিসংযোগ *** ঝিনাইদহে স্বাধীনতা দিবসে ইউএনওর বক্তব্যে বিএনপির ক্ষোভ, ভিডিও ভাইরাল *** মুক্তিযুদ্ধ বাংলাদেশের সবচেয়ে গৌরবজনক অর্জন, এর সঙ্গে অন্য ঘটনা মেলানোর সুযোগ নেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী *** স্বাধীনতাবিরোধী অপশক্তিকে রুখে দিতে হবে, কোনোভাবেই ছাড় হবে না: মির্জা ফখরুল *** আলোচনার নামে এমন কিছু করা উচিত নয়, যা মুক্তিযুদ্ধকে খাটো করে: প্রধানমন্ত্রী *** ড. ইউনূস ২০২৯ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকতে পারেননি কেন? *** সরকার এপ্রিল পর্যন্ত জ্বালানি নিশ্চিত করতে সক্ষম হয়েছে: জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী *** তেল সরবরাহ স্বাভাবিক, তবে কালোবাজারির প্রভাব আছে: জ্বালানিমন্ত্রী

চীনেও বেকারত্ব, পাঁচজন তরুণের মধ্যে একজন কাজ পাচ্ছেন না

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

🕒 প্রকাশ: ০১:১২ পূর্বাহ্ন, ২২শে মে ২০২৩

#

চীনে পাঁচজন তরুণের মধ্যে একজন এখন বেকার ।। ছবি: সংগৃহীত

সু সিয়াং নামের ২১ বছর বয়সী এক তরুণী গত ফেব্রুয়ারি মাস থেকে চাকরি খুঁজছেন। এখনো পাননি। এ পর্যন্ত ১০০টি আবেদন জমা দিয়েছেন তিনি, কিন্তু ডাক পেয়েছেন মাত্র পাঁচটি কার্যালয় থেকে। তাঁর পড়াশোনা অবশ্য এখনো শেষ হয়নি।

সু সিয়াং যে চাকরি পাবেন, সে বিষয়ে তাঁর আত্মবিশ্বাসও অতটা নেই। তবে একটাই সান্ত্বনা, তিনি একা নন। তাঁর সহপাঠীদের বেশির ভাগেরই একই অবস্থা। দেশটির প্রতি পাঁচজন তরুণের একজন এখন কাজের বাইরে।

নিউইয়র্ক টাইমসের এক সংবাদে বলা হয়েছে, চীনে তরুণদের মধ্যে বেকারত্ব বাড়ছে। এই কঠিন সময়ে সু সিয়াংয়ের মতো আরও প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ তরুণ-তরুণী চীনের চাকরির বাজারে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রবেশ করবেন, অর্থাৎ তাঁদের স্নাতক শেষ হবে। অথচ চীনের সরকারি এক প্রতিবেদনেই বলা হয়েছে, ১৬ থেকে ২৪ বছর বয়সী যে তরুণ-তরুণীরা চাকরি বা কাজ খুঁজছেন, এপ্রিল মাসে তাঁদের মধ্যে ২০ দশমিক ৪ শতাংশই কাজের বাইরে ছিলেন। ২০১৮ সাল থেকে চীন এ–বিষয়ক পরিসংখ্যান প্রকাশ করছে, তখন থেকে এটাই সর্বোচ্চ।

চীনের অর্থনীতিতে কালো দাগ ফেলেছে তরুণদের উচ্চ বেকারত্ব। করোনাভাইরাস মহামরির কারণে পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। মহামারির কারণে ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, গ্রাহক বা ভোক্তাদের ক্ষতি হয়েছে, সে কারণেও পরিস্থিতির ক্রমাবনতি হয়েছে।

গত বছরের শেষ সময় পর্যন্ত দেশটি দফায় দফায় কোভিডজনিত বিধিনিষেধ আরোপ করে। কিন্তু তরুণসহ দেশটির অনেক মানুষ ‘শূন্য কোভিড’ নীতির বিরুদ্ধে রাস্তায় নামলে সরকার শেষ পর্যন্ত বিধিনিষেধ তুলে নিতে শুরু করে। তা সত্ত্বেও দেশটির তরুণদের বেকারত্বের হার এখনো অনেক বেশি, যদিও গত দুই মাসে চীনের সামগ্রিক বেকারত্বের হার কিছুটা কমেছে।

তরুণদের কর্মসংস্থানে গতি আনতে চীনের সরকার অবশ্য বেশ কিছু নীতিগত পদক্ষেপ নিয়েছে। সেগুলোর মধ্যে আছে ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের ভর্তুকি দেওয়া। কারণ, তরুণেরা সাধারণত এসব প্রতিষ্ঠানেই কর্মজীবন শুরু করেন। এ ছাড়া দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানগুলোকে তরুণদের নিয়োগ দেওয়ার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

নিউইয়র্ক টাইমসের সংবাদে বলা হয়েছে, সামগ্রিকভাবে চীনের অর্থনীতিতে খুব ধীরে ধীরে একধরনের স্থিতি আসছে। তবে এটা অনেকটাই অসম প্রকৃতির।

এ ছাড়া বেইজিং থেকে প্রকাশিত অন্যান্য প্রতিবেদনে দেখা যায়, এপ্রিলে খুচরা বিক্রয় ও কারখানা উৎপাদনে গতি এসেছে। কিন্তু অর্থনীতিবিদ ও বিশ্লেষকেরা আরও বেশি আশা করেছিলেন। কারণ, এ গতি বৃদ্ধির বিষয়টি ২০২২ সালের এপ্রিলের সাপেক্ষে, যখন চীন কার্যত স্থবির ছিল। সবচেয়ে বড় বাণিজ্যকেন্দ্র সাংহাই শহরে ছিল লকডাউন।

চীনের প্রযুক্তিকোম্পানিগুলো কঠিন সময় পেরিয়ে এসেছে, তাদের মধ্যে ঘুরে দাঁড়ানোর লক্ষণও দেখা যাচ্ছে, কিন্তু তাদের মুনাফা মহামারির আগের পর্যায়ে ফেরেনি।

বিশ্লেষকেরা বলছেন, কলেজ থেকে পাস করা স্নাতকেরা যে ধরনের কাজ খুঁজছেন, বাজারে সেই ধরনের কাজের অভাব, অর্থাৎ বাজারের বাস্তবতার সঙ্গে শিক্ষার্থীদের চাহিদার অসামঞ্জস্য আছে।

চীনের জব সাইট ঝিলিয়ানের তথ্যানুসারে, চলতি বছরের মার্চে দেশটির পর্যটন, যাত্রী ও কার্গো পরিবহনে কর্মসংস্থান সবচেয়ে বেশি হারে বেড়েছে। খুচরা বিক্রয় খাতেও অনেক কাজের সুযোগ আছে।

এ ছাড়া চীনের নির্মাণ, যোগাযোগ ও ওয়্যার হাউস খাতেও গতি এসেছে। দেশটির গ্রামাঞ্চল থেকে আসা বিপুলসংখ্যক শ্রমিকের আগ্রহ এসব খাতে।

সাংহাই ইনস্টিটিউট অব ফাইন্যান্স অ্যান্ড ল-এর গবেষক নিয়ে রিমিং নিউইয়র্ক টাইমসকে বলেন, উচ্চশিক্ষিত তরুণেরা মূলত প্রযুক্তি, শিক্ষা ও ওষুধশিল্প খাতে চাকরি খোঁজেন, কিন্তু গত কয়েক বছরে এসব খাতের প্রবৃদ্ধি কমে এসেছে। শুধু তা-ই নয়, অনেক প্রতিষ্ঠান প্রবৃদ্ধি হ্রাসের পাশাপাশি বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে।

এ ছাড়া কয়েক বছর ধরে কর্তৃপক্ষ একসময়ের গতিশীল শিক্ষা ও প্রযুক্তি খাতের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে। লাখ লাখ মানুষ কাজ হারিয়েছেন। বিনিয়োগকারীদের অবস্থাও ভালো নয়। সামগ্রিকভাবে বেসরকারি খাতে নজরদারি বেড়ে যাওয়ার কারণে বিনিয়োগের বিষয়ে একধরনের উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এ কারণে কোম্পানিগুলো নিয়োগ কমিয়ে দিয়েছে।

যেসব খাতে শিক্ষিত তরুণদের আগ্রহ, সেসব খাত সংকুচিত হচ্ছে, অথচ স্নাতক ডিগ্রিধারীদের সংখ্যা বাড়ছে। চীনের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্যানুসারে, চলতি জুনে ১১ দশমিক ৬ মিলিয়ন বা ১ কোটি ১৬ লাখ তরুণ স্নাতক সম্পন্ন করবেন, যা গত বছরের চেয়ে ৮ লাখ ২০ হাজারের বেশি।

আরেকটি বিষয় হলো, কোভিডের ছায়া এখনো আছে। জুনে যে তরুণেরা স্নাতক সম্পন্ন করবেন, তাঁরা কলেজজীবনের বড় একটি অংশ লকডাউনের মধ্যে কাটিয়েছেন। কলেজ ক্যাম্পাসে তাঁদের চলাফেরা ছিল খুবই সীমিত। ফলে তাঁদের ইন্টার্নশিপ বা অভিজ্ঞতা লাভের সুযোগ ছিল অনেক কম।

আরো পড়ুন: কেন ২ হাজার রুপির নোট তুলে নিচ্ছে ভারত?

আগামী কয়েক মাসে চীনের অর্থনীতি গতি পাবে বলেই আশা করা হচ্ছে। তবে ভোক্তাদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস না ফিরলে, অর্থাৎ তাঁদের ভোগ বাবদ ব্যয় না বাড়লে এই পুনরুদ্ধার ততটা গতি পাবে না। সেটা না হলে কোম্পানিগুলো নিয়োগের সংখ্যাও বাড়াবে না।

তার লক্ষণও কিছুটা দেখা যাচ্ছে। বেইজিংয়ের চাকরি মেলা আয়োজনকারী প্রতিষ্ঠানের কর্মী ডং ইয়ান নিউইয়র্ক টাইমসকে বলেছেন, মেলায় অংশ নিতে আগ্রহী কোম্পানির সংখ্যা মহামারির আগের সময়ের তুলনায় এখনো অনেক কম।

ডং ইয়ান বলেন, ‘বলা হচ্ছে, অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার হচ্ছে, কিন্তু অনেক মানুষ কাজের বাইরে আছেন বা ছাঁটাই হয়েছেন। তাই আমার মনে হচ্ছে, অর্থনীতি নিম্নমুখী।’

এম এইচ ডি/আইকেজে 

বিশ্ব বাণিজ্য তরুণ চীন বেকারত্ব

সুখবর এর নিউজ পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

খবরটি শেয়ার করুন

Footer Up 970x250